বাস্তবতা

Now Reading
বাস্তবতা

বিরামহীন বৃষ্টি হলো সারাদিন।এখন অনেকটা শান্ত প্রকৃতি। কিন্তুুু আকাশ মেঘাচ্ছন্ন যেখনো সময় আবার বৃষ্টি নামতে পারে । তবে সারাদিন ঘরে বসে থাকার পর বাহিরে বের হবার সুযোগ কি কেও সহজে হাত ছাড়া করে । তাই হাটতে বের হয়ে গেলাম।সারা দিনের বৃষ্টিতে পুরো মনে হচ্ছে শহর ধৌত করা হয়েছে।রাস্তা গুলো অনেক পরিষ্কার।চারদিকে যেন এক অপরিসীম সুন্দর আবহাওয়া।
হাটতে হাটতে পিন্টুর চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম ।বৃষ্টির দিন তাই তেমন কোন লোক নেই । অন্য দিনগুলোর মতো আজ তেমন ভিড় নেই। পুরো দোকান ফাঁকা বললেই চলে ।পুরো দোকানে দোকানদার আর দোকানের কর্মচারীরা ছাড়া মাত্র দুই জন। দোকানের এক কোণের টেবিলে বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে গল্প করছে । আমি তাদের পাশের টেবিলে বসে এক কাপ চা দিতে বললাম।চায়ে চুমুক দিতে দিতে পাশের টেবিলে বসা লোক দুটোর কথা শুনতে লাগলাম-
-মায়ানমার দেশে এ কি অরাজকতা শুরু হলো বলতো ।
-খুবই মর্মান্তিক অবস্থা ।
-হুম, একটা দুধের বাচ্চাকেও ছাড়ছে না ।
-এ নাকি আবার শান্তিতে নোবেল পাইছে ।
-ঐ সুচির কথা আর বলিস না আমার যদি ক্ষমতা থাকতো ওকে থাবরায়া সোজা করতাম ।
-ঠিকই,বলছি ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের প্রতি কি একটুও দয়া হয় না ।
-আমার তো ঐ সব ছোটছোট ছেলে মেয়েদের দেখেই চোখে পানি এসে যাচ্ছে ।
-একদম অমানুষ।
তাদের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে যতটুকু বুজলাম তারা রোহিঙ্গা নির্যাতনের কারণে তারা অং সাং সুচির উপর অনেক ক্ষোভ ।ছোটছোট ছেলে মেয়েদের প্রতি যে নির্যাতন হচ্ছে তা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পাচ্ছে না।মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রতি যে নির্যাতন হচ্ছে তা সত্যি অনেক মর্মান্তিক।
একটু পরে আবার বৃষ্টি শুরু হলো । একটা ছোট ছেলে বৃষ্টি থেকে বাচতে তার ভাঙরি বস্তা নিয়ে দোকানে ডুকতেই,তাড়াহুড়ো তে বস্তা টা পাশের টেবিলে বসা দুজনের একজনের হাটুতে আঘাত লাগে সাথে লোকটি রেগে একটা থাপ্পর দিয়ে বলল চোখে দেখিস না বদমাশ,বলে দোকান থেকে বের হয়ে গেল ।ছেলেটি মনে মনে তীব্র রাগ নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকল ।সাথে আমিও অবাক হয়ে তার কর্মকান্ড দেখলাম ।
একটু আগে যে লোকটি শিশুদের প্রতি অন্যায় হচ্ছে বলে এতো কিছু বলল।আর সে নিজেই অন্য একটা ছোট ছেলের সাথে এটা কি আচরণ করলো ।এটাও তো একটা অন্যায় ছেলেটা তো আর ইচ্ছা করে তাকে আঘাত করেনি । লোকটি সে কথা একবার ভেবেও দেখলো না ।আর ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের প্রতি অন্যায় হচ্ছে বলে অং সাং সুচির উপর ঠিকই ক্ষিপ্ত ছিলেন। প্রকৃত পক্ষে আমরা সবাই ঠিকই বুজি কোন কাজ করা ঠিক আর কোন কাজ করা ঠিক না।আমাদের সকলের মধ্যেই একটা সুন্দর মন আছে । কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনে করার ক্ষেত্রে এতো তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেই যে সেই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ভুল করে ফেলি । লোকটি যদি একটু ভাবতো তবে হয়তো ঠিকই বুজতো ছেলেটি ইচ্ছে করে তাকে আঘাত করেনি। সেটা বুজে সে যদি ছেলেটার প্রতি রাগ না হয়ে স্নেহের চোখে দেখতো তাহলে ছেলেটি তার দিকে রাগ হয়ে না তাকিয়ে হয়তো সহজ ভাবে বলতো দুঃখিত ।
এটাই বাস্তবতা….।

সখি ভালোবাস কারে কয় ?

Now Reading
সখি ভালোবাস কারে কয় ?


প্রেম আছে বলেই মানুষ অমৃতের সন্তান। সম্ভবত: পৃথীবিতে যত কিছুর ব্যাথা আছে, সবচেয়ে কঠিন থেকে কঠিনতর প্রেম ব্যাথা। একটি পৌরণিক প্রণয়োপাখ্যান, শ্রী কৃষ্ণ বাঁশি বাজাচ্ছেন – আর রাঁধার মনে হলো, বাঁশি তার নাম ধরে ডাকছে। কবির ভাষায়,“কানের ভিতর দিয়া মরমে পর্শিল”। ব্যাকুল রাঁধা ছল করে কলসি কাঁখে চলিলো যমুনার ঘাটে। সখিদের স্ব-কৌতুহল জিজ্ঞাসা “অমন কাক সাদৃশ্য কালো কেষ্টার মধ্যে কি এমন দেখেছিলো সখি”! রাঁধার নিরূদ্বেগ উত্তর, আমার চোখ তোদের চোখে লাগিয়ে দ্যাখ।

প্রেম-ভালবাসা ঘুমন্ত। এটি জেগে ওঠে হৃদয়ের আহ্বানে। পাশাপাশি সত্য, রোমান্টিক প্রেমে শুধু মানুষের পক্ষেই সম্ভব। এখানেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব। লাইলী-মজনুর দীর্ঘ বিরহের পর একে-অপরকে খুঁজে পায়। ততদিন মজনু দেহাতীত পর্যায়ে চলে গেছে। তার কাছে তখন কামের আর কোনো আবেদন নেই। মজনু লাইলিকে আবেগ থেকে নিরস্ত থাকতে বললো।

এবার কবি ও কবিতার কাছে তরি একটু ভিড়াই। বিখ্যাত ইংরেজ কবি ব্রাউনিং ও এলিজাবেথ এবং বিয়াত্রিচের প্রেম। এ হচ্ছে নি:স্বার্থ প্রেম-ভালোবাসার দৃষ্টান্ত। কবি রফিক আজাদ তার ভাবনায় ব্যক্ত করেছেন ,“ভালোবাসা মানে দু’জনার পাগলমি/পরষ্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা/ ভালোবাসা মানে, জীবনের ঝুঁকি নেয়া/ বিরহ বালুতে খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি/ ভালোবাসার মানে একে-অপরের প্রতি, খুব করে ঝুকে থাকা/ ভালোবাসা মানে ব্যাপক বৃষ্টিতে একটানা দুজন হেঁটে যাওয়া/ ভালোবাসা মানে ঠান্ডা কফির পেয়ালা, সামনে অবিরাম কথা বলা/ ভালবাসা মানে শেষ হয়ে যাওয়া কথার পরেও, মুখোমুখি বসে থাকা ”।
প্রেম- ভালোবাসার সম্পর্ক জল ও চিনির সম্পর্কের মতন। প্রাচীন গ্রিক আমলে ‘আপেল’ প্রতীক প্রেমের। আর গ্রিক পুরাণ দেবতা অন্ধ। কেননা, প্রেম- ভালোবাসা দেশ কাল জাতির গন্ডি ভেঙ্গে বিস্তারিত। ইহা, শ্রেণি বৈষম্য,বংশীয় কৌলন্য, লোকাচার স্বীকার করে না।
প্রেম-ভালবাসার অনুভব কতটা তীব্র তা প্রকাশ করতে মানুষ অপরাগ। 

kk.PNG