বিজ্ঞান
Now Reading
জেগে উঠছে ঘুমন্ত ভাইরাসেরা !
1855 275 0

জেগে উঠছে ঘুমন্ত ভাইরাসেরা !

by Jannatul FirdousJune 15, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
100%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

ভাইরাস আমাদের খুব পরিচিত একটা শব্দ । এইটার সাথে আমরা হয়ত “ভাইরাল ফিভার” এর মাধ্যমেই অনেকে পরিচিত । কিন্তু, এর মাধ্যমে মানুষের যেমন কেবল ফিভার হয় ঠিক তেমনি এইডস কিংবা র‍্যাবিসের মত ভয়ংকর কিছুও হতে পারে । আবার এমনও হতে পারে যে মানুষের আসলে কিছুই হয়নি ! আজকে তাই, এরকম কিছু বৃহাদাকার ভাইরাস নিয়েই আলোচনা করব যা তাদের দীর্ঘ দিনের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জেগে উঠলেও সত্যিকার অর্থে তেমন ভয়ের কিছু নেই কারন, এগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় !

 

ভাইরাস গুলোর উৎপত্তিস্থল   

এইসব ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল সংক্রান্ত সাধারন বৈশিষ্ঠ্য হল এগুলো কোন ভুগর্ভস্থ বরফের মধ্যে অবস্থিত । প্রায় ৩০,০০০ বছরের মত ঘুমন্ত অবস্থায় থাকার পর তারা আবার জেগে উঠছে । বিজ্ঞানীদের কাছে এই বিষয়টা বিস্ময়কর যে এতদিন ধরে কিভাবে তারা সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে ।

প্রথমেই যার কথা বলব তার নাম– “Pithovirus Sibericum” এই ভাইরাসটা প্রথম ২০১৪ সালের দিকে একটা পেপারে পাবলিশড হয় । যার ফলে, মানুষ এর কথা সর্বপ্রথম জানতে পারে । আর এইটা আবিষ্কার হয় রাশিয়ার সাইবেরিয়াতে বিদ্যমান  গভীর বরফ অঞ্চলগুলোতে  । যদিও, এই “Pithovirus” genus এর ভাইরাস প্রথম আবিষ্কার হয় ২০০০ সালের দিকে রাশিয়ার “Chukotka” নামক অঞ্চলে । যা কিনা “Anui River” থেকে ২৩ মিটার উপরে অবস্থিত ছিল । পরে রেডিও কার্বন টেস্টের মাধ্যমে জানা যায় এইটা ৩০ হাজার বছর আগের !**

 

Pithovirus_sibericum_sketch.jpg

 

তবে, শুধু এই পিথোভাইরাসই নয় এর আগেও আর কিছু এরকম বিশাল সাইজের ঘুমন্ত ভাইরাস আবিষ্কার হয়েছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল Acanthamoeba polyphagamimivirus (APMV), যা কিনা ২০০৩ সালের দিকে প্রথম পেপার হিসেবে পাবলিশড হয় যদিও, এই ভাইরাস ১৯৯০ দিকেই বিজ্ঞানীরা খুজে পান । আর এই ভাইরাস ইংল্যান্ডের একটি ওয়াটার কুলিং টাওয়ার এ খুজে পাওয়া যায় ।

APMV প্রথম আবিষ্কৃত জায়ান্ট ভাইরাস হলেও এর ধারা তখনও বজায় থাকে । কারন, ঠিক এরপরেই ২০১৩ সালে আলোচনায় উঠে আসে আরেক জায়ান্ট ভাইরাস যার নাম হল “Pandoravirus Salinas” যেইটা কিনা চিলির উপকূলে আবিষ্কৃত হয় | আর, “Pandoravirus” genus এর আরেকটি ভাইরাস “Pandoravirus dulcis”  আবিষ্কার হয় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে |**

আর ঠিক এরপরেই আবিষ্কার হয় আমাদের আলোচিত ভাইরাস “Pithovirus Sibericum”

তবে, মজার ব্যাপার হলো এরকম জায়ান্ট ভাইরাস আবিষ্কার কিন্তু এখানেই শেষ নয় | এরপরেও ২০১৫ এর দিকে আরেক টা ভাইরাস আলোচনায় চলে যা কিনা আগেগুলোর চেয়েও ক্ষেত্র বিশেষে বড় আর তার নাম হলো- “Mollivirus sibericum” যার উৎপত্তিস্থল সেই আগের জায়গাতেই যেখানে কিনা সেই পিথোভাইরাস পাওয়া গিয়ে ছিল ।

 

mollivirus.jpg

 

ভাইরাসের পরিচয়  

সাধারনত, একটা ভাইরাস কত বড় হতে পারে ? বড়জোর 20 nm থেকে 100 nm পর্যন্ত । কিন্তু, এইসব জায়ান্ট ভাইরাসগুলো হয় এসব সাধারন ভাইরাস থেকে বহুগুনে বড় । একটা মাইক্রোস্কোপ এর নিচেই এদের খুব সহজে দেখা যায়; যেগুলো, অন্য সাধারন ভাইরাসের ক্ষেত্রে হয়ত কল্পনা করা যায়না । যাইহোক, পিথোভাইরাস গুলো যখন আবিষ্কার হয় তখন এর সাইজ ছিল সবচেয়ে বড় । দৈর্ঘ্যে প্রায় 1500 nm এবং এর ডায়ামিটার হল প্রায় 500 nm । এই ভাইরাসগুল তখন ল্যাব টেস্ট করতে নিয়ে যাওয়া হয় যে কোনো ক্ষতিকারক কিছু আছে কিনা । এজন্য তারা কিছু অ্যামিবা নিয়ে পরীক্ষা করে এবং অবাক হয়ে আবিষ্কার যে অ্যামিবাগুলো সেই পরিবেশে টিকতে পারছেনা । পরে পরীক্ষা করে দেখা হয় অ্যামিবার শরীরে ভাইরাসগুলো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করছে আর এর ফলেই, ইনফেকশনের কারনে, একটা সময় অ্যামিবাগুলো মারা পরছে ।

এরপর ঠিক একইরকম পরীক্ষা সেই মলিভাইরাস গুলোর উপরও পরীক্ষা করে দেখা হয় এবং সেখানেও দেখা যায় অ্যামিবাগুলো মারা পরছে ।

তবে, সর্বপ্রথম যখন APMV আবিষ্কৃত হয় তখন বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন সকল জায়ান্ট ভাইরাসগুলো হয়ত এই ভাইরাসটির ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত হবে । কিন্তু, বিজ্ঞানীদের সেই ধারণা ভুল করে এরপরে যখন Pandora ভাইরাসের আগমন হল তখন দেখা গেল এই ভাইরাস টি আগের সেই APMV এর চেয়ে একেবারেই আলাদা । আর, এই ঘটনার পরই বিজ্ঞানীদের বাধ্য করে যে জায়ান্ট এইসব ভাইরাসগুলোকে তারা যে ভেবেছিল তার চেয়ে অনেক বেশি ডাইভার্স ! আর ঠিক তারপরেই আবিষ্কার হয় পিথোভাইরাস যা আগেরগুলোর থেকেও আলাদা । এখানেই হয়ত, শেষ হওয়া উচিত ছিল কিন্তু, আবারও আরেকটি জায়ান্ট ভাইরাস আবিষ্কার হয় যা হল সেই মলিভাইরাস । বলাই বাহুল্য, এইটাও আগেরগুলোর থেকে আলাদা । আর এভাবেই বিজ্ঞানীরা ৪টি ভিন্ন প্রজাতির জায়ান্ট ভাইরাসের দেখা পেল ।

 

ভাইরাসগুলোর হঠাৎ জেগে ওঠার কারণ কি ?   

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল হঠাৎ কি হল যার কারনে, ভাইরাস গুলো এরকম জেগে উঠছে ? এর সহজ এবং এক কথায় উত্তর হল “ক্লাইমেট চেঞ্জ” । আমরা সবাই জানি পৃথিবী ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হচ্ছে । আর এই উত্তপ্ত হবার ফলেই বরফগুলো আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে । NOAA র মাধ্যমে জানা যায় যে, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১২ মাসের মধ্যে প্রায় ৯ মাসই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ওয়ার্মেস্ট সময়গুলোর মধ্যে একটি ।

এছারাও, আরো কিছু গবেষনায় দেখা যায়, গত ১০০ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট (০.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বৃদ্ধি পেয়েছে । এছারাও ভূগর্ভস্থ বরফের (permafrost) তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট (৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস) এবং বরফের গভীরতা প্রায় ৭% হ্রাস করেছে । 2

এইসব, তাপমাত্রা আমাদের কাছে তেমন মনে হবেনা কিন্তু, এইটুকু পার্থক্যই যথেষ্ট পুরো পৃথিবীর মধ্যে প্রলয়ংকারি কিছু ঘটানোর জন্য !

শেষের দিকে এটাই বলতে হয় আর বেশিদিন হয়ত বাকি নেই যখন এই ভাইরাসগুলো পুরোপুরি জেগে উঠবে । এখন পর্যন্ত যেই ভাইরাসগুলো পাওয়া গিয়েছে তা আসলেই, মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় । কিন্তু, সমস্যা হল বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা সেই বরফের নিচে আরো অনেক ঘুমন্ত ভাইরাস থাকতে পারে তবে, সেগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিনা তারা সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় !

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই | আশা করি সবার ভালো লেগেছে | সবাইকে ধন্যবাদ |

 


 

References:

  1. http://science.howstuffworks.com/life/cellular-microscopic/are-extinct-viruses-coming-back-thanks-to-climate-change.htm
  2. https://www.ncdc.noaa.gov/sotc/global/201502
  3. http://www.bbc.com/news/science-environment-26387276
  4. http://www.pnas.org/content/111/11/4274
  5. https://www.livescience.com/52175-ancient-giant-virus-revived-siberia.html
  6. https://www.livescience.com/43800-giant-virus-found-permafrost.html
রেটিং
পাঠকের রেটিং
Rate Here
পোস্টের টাইটেলের সাথে মুল লেখার মিল
100%
পোস্টের ছবি কতটা সামঞ্জস্য পূর্ন
100%
লেখনীটা কেমন?
100%
পোস্টটি পড়ে আপনি কতটুকু স্যাটিসফায়েড?
100%
100%
পাঠকের রেটিং
5 ratings
You have rated this
About The Author
Jannatul Firdous
Jannatul Firdous

Studying in Computer Science & Engineering (CSE)

You must log in to post a comment