Now Reading
আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব
8815 1735 0

আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

by Rohit Khan fzsJune 30, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
50%
FUNNY
0%
Sad
50%
Boring
0%

প্রথম পর্বের পর

মেজাজটা খারাপ হয়েছে আমার আগে আসবে বলে আমাকে ১ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছে । ১ ঘণ্টা পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসে আমার সামনে । মেজাজটা এতো খারাপ হচ্ছিলো যে , ইচ্ছে করছিলো কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারি , কিন্তু না আমি থাপ্পড় তো মারলাম না উল্টো রাসেল কে দেখে কেঁদে দিলাম । যাই হোক আমাকে শান্ত করে রিকশা করে একটা বাসায় নিয়ে গেলো ।

রাসেল আমি যদি আজ হারিয়ে যেতাম । আমার অনেক ভয় করছিলো । ঢাকায় এতো মানুষ !
হা হা হা কি যে বলো না , রাস্তায় এতো জ্যাম ছিল যা বলার বাহিরে । তাই দেরি হয়েছে । আচ্ছা এই সব কথা বাদ দাও তো । যাও হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নাও । আমি তোমার জন্য হোটেল থেকে খাবার এনে রেখেছি ।

আমি আর কোনো কথা না বলে হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিলাম । আমি যেই রুমে আছি সেখানে একা আমি একটা মেয়ে না , আমার সাথে অনেক মেয়ে আছে । আর তাদের দেখতে অনেক অদ্ভুত লাগছে । কি রকম ভাবে যেন সেজে আছে । আমি রাসেল কে বললাম ওরা করা ? আর আমার কাজ কি ?
রাসেল বলল ওরা ও নাকি কাজের জন্য ঢাকায় আসছে । আর আমাকে কাল বা পরশু জয়েন করবে ।
আমি আর কোনো কথা বললাম না । আমাকে খাওয়ানো শেষ হলে রাসেল চলে গেলো । আমি একা একটা রুমে শুয়ে পড়লাম । পরের দিন সন্ধ্যায় একটা লোক কে নিয়ে আসলো রাসেল । আমাকে দেখিয়ে কি যেন বলে চলে গেলো লোকটি । আমি রাসেল কে বললাম

রাসেল এই লোকটি কে ?
তুমি যেখানে কাজ করবে তার বস উনি । তোমাকে দেখতে এসেছে । কাল সন্ধ্যা থেকে তোমার কাজ শুরু ।
কাল সন্ধ্যা ? কাল সন্ধ্যা কেন । মানুষ তো দিনে কাজ করে আমি রাতে কেন করবো ?
আসলে এইটা একটা বিদেশী কোম্পানি তো তাই ।

আমি আর কোনো কথা না বলে খেয়ে গতকালের মতো আজকেও শুয়ে পড়লাম । কাল সন্ধ্যায় রাসেলের সাথে যেই লোকটি এসেছে সে আসলো আমার রুমে । আমি খাটের এক পাশে বসে আছি । উনি ঢুকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো । আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম , আপনি কি করছেন দরজা বন্ধ করেছেন কেন ? উনি জবাব না দিয়ে আমার সামনে এসে বসে আমার গায়ে হাত দিচ্ছিল । আমি সাথে সাথে দৌড়ে ঘরের এক কোনায় চলে গেলাম । উনি বলে উঠলো দৌড়িয়ে লাভ নেই । আমার কাছে তোমাকে ধরা দিতে হবে । রাসেল হেব্বি একটা মাল রেডি করেছে আমার জন্য ।

দেখেন আপনি ভুল করছেন । আমি কাজ করতে এসেছি । গ্রামে আমার বাবা । খুব অসহায় । আমার কোনো ক্ষতি করবেন না । আমাকে যেতে দিন । রাসেল কোথায় । এই বলে আমি চিৎকার চেঁচামেচি করা শুরু করলাম ।
উনি বলে উঠলো রাসেল তোমাকে আমার কাছে আজ রাতের জন্য বেঁচে দিয়েছে । এখন তুমি আমার । এই কথা বলে হিংস্র ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো । আমি কত না চিৎকার করছি । উনাকে আমি বাবা বলেও ডাকছি নিজের ইজ্জত টুকু বাঁচানোর জন্য ।কিন্তু না কোনো কিছু তে কাজ হচ্ছে না । আমার কান্নায় সেদিন সেই রুমের বাতাস পর্যন্ত কেঁদে ছিল । কিন্তু ওই নর পিচাশের মন একবার কেঁদে উঠেন । সেদিন থেকে আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছে । সারা রাত চলে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন । ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে আমাকে উলঙ্গ রেখে আমার দেখার উপর ২ হাজার টাকা রেখে উঠে চলে যায় ।
আচ্ছা পাঠক আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন আমার ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ? আপনার মা বোনের ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ?
কিছুক্ষণ পর রাসেল আসে আমার রুমে । কি আমার ভালোবাসা ! আহা আমাকে উলঙ্গ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি আমার ভালোবাসা । আমার এই নির্যাতিত দেখার উপর চলে আরেক দফা নির্যাতন । বিশ্বাস করেন এইবার আমি চিৎকার করেনি । আমি নড়াচড়াও করেনি । শুধু কান্না করেছি , নীরব কান্না । আমাকে এমন একটা ঘরে রাখা হয়েছিল আশে পাশে কি ঘটছে বলাও যায়না ।

তারপর থেকে আমাকে আর জোর করতে হয়নি , আমি নিজে স্বেচ্ছায় গিয়েছি তাদের সাথে । আর যেটাকে কামাই করেছি তা দিয়ে আমি এতিমদের খাইয়েছি । সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের বাবাকে একটা টাকাও পাঠায়নি । কিভাবে পাঠাবো ? নিজের দেহ বেচা টাকা কিভাবে নিজের বাবাকে খাওয়াই ।

আর রাসেল এর অবস্থা হলো . রাসেল দুই বছর পর একটি মেয়েকে বিয়ে করে । কিন্তু তাদের কোনো বাচ্চা হচ্ছিলো না । অনেক চেষ্টার পর একটা বাচ্চা হলো , তাও মেয়ে ! কিন্তু মেয়েটি সর্ব অঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী । না কথা বলতে পারে না ভালো ভাবে হাঁটতে পারে । রাসেল কোনো দিন তার সন্তানের মুখে বাবা ডাক শুনেনি । আমি যেখানে আজ দেহ ব্যবসা করি এখানে অনেক মেয়ের আশা হয়েছে তার হাত ধরে । আজ রাসেল ভালো হয়ে গিয়েছে . কিন্তু আমার মতো অনেক মেয়ের কান্নার আর্তনাদ মিশে আছে তার আশে পাশে ।

আজ আমি আপনাদের ভদ্র সমাজে পতিতা । কিন্তু আপনারা ?

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs

বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।

You must log in to post a comment