অন্যান্য (U P)
Now Reading
ভালবাসার অন্তর্ধান
440 58 0

ভালবাসার অন্তর্ধান

What's your reaction?
লাইক ইট!
100%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

– মামা চা দাও তো।
– আবার খাইবেন?
– হুম, ক্যান সমস্যা?
– না এই নিয়া গত ২ ঘন্টায় ১৩ কাপ খাইছেন।
– আরো লাগবে, তোমার দোকান তো সারারাত খোলা তাইনা?
– হ, সারারাত খাইবেন?
– হুম।দাও চা দাও।

দুই কাপ চা আর ২ টা ব্যানসন নিয়ে প্রতিক এসে সামির পাশে বসলো।

– নে খা, টেনশন করিস না। আল্লাহ সব ঠিক করে দিবে।
– দোস্ত, কি হবে কি জানে। ওর কিছু হলে আমি পুরা পাগল হয়ে যাবো।
– তুমি আমার বাল হবা। নে ব্যাটা খা। উপরে আল্লাহ আছে, সব ঠিক করে দিবে।
– কালও মালয়েশিয়া যাচ্ছে। মিলি কে বলে ওর সাথে দেখা করার একটা সুযোগ নিতেই হবে।
– মিলি কে জানি?
– ওর ছোট বোন।
– অহ, আচ্ছা চা শেষ করে মিলিরে কল দে। দেখ ওর আব্বু আম্মু কেবিন থেকে বের হইছে নাকি। হইলে তুই ওরেও দেখে আয় আর ওর ডক্টর এর সাথেও কথা বলে আয়।
– হুম।

সিগারেট শেষ করে মিলিকে কল দিলো সামি। আব্বু আম্মু ক্যান্টিনে চলে গেছে। সামি দৌড়ে ৫ তালায় ৫০২ নং কেবিনে গেল। তানজি শুয়ে আছে। পুরা শরীরটাই ব্যান্ডেজ এ মোড়া । কপালে হাত রেখে গালে একটা চুমু খেল সামি।

সামি এর দুনিয়ার অনেক বড় একটা অংশ তানজি। ২বছর ধরে একজন আরেকজন কে পাগলের মত ভালবাসে। ভার্চুয়াল জগতেই পরিচয়,কিন্তুকেউ কাউকে দেখেনি। ভালবাসা টা এজন্যই আরো জোরালো। সামি সেমিস্টার ফাইনাল শেষ করেই যখন ঢাকা এসে তানজি এর সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ই মিলির ফোন।

– ভাইয়া
– হুম মিলি বলো।
– ভাইয়া আপু এক্সিডেন্ট করেছে। এখন হসপিটাল এ।

সামি অলমোস্ট আধামরা হয়ে কল টা কেটেই প্রতিক কে নিয়ে ঢাকা রওনা দেয়। গত দুই দিন ধরে ওর ঠিকানা হসপিটালের নিচের এই টং দোকান আর সুযোগ পেলে তানজির কেবিন।

– ডক্টর, হাউজ শী।
– এখনো কিছু বলা যাচ্ছেনা। বাচানো টাফ, আর সেটা হলেও হয়ত প্যারালাইজড হয়ে থাকতে হবে কারন লেফট সাইডের সবগুলো বোনস ড্যামেজড।
– ডোন্ট টক লাইক শীট।ওকে ভাল করে তুলুন। আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার কাছে।
– আমাদের হাতে কিছুইনেই। আল্লাহ ভরসা এখন। কাল তো মালয়শিয়া যাচ্ছে,ফর হায়ার এন্ড বেটার ট্রিটমেন্ট,হোপ ফর দ্য বেস্ট।

মাথা নিচু করে সামি ফিরেআসে।

সকালে তানজীকে নিয়ে যাবার আগে ওর মা-বাবার সাথে দেখা করবে। কি বলবে জানেনা, বাট দেখাটা করবে।

নিচে এসে আবার চা সিগারেটে ডুব দিলো।

সকাল ৭ টা। ৭.৩০ এ এম্বুলেন্স আসবে। ৯ টায় ফ্লাইট। সামি তানজীর কেবিনের সামনে গেল। ওর আব্বু সামিকে ভেতরে ডাকলো।

– বাবা তোমার কোন পেশেন্ট এখানে এডমিট?
– জ্বী আংকেল।
– কোথায় কত নং কেবিনে? তুমি দিনরাত এখানেই পড়ে আছো। গত দুদিন ধরে দেখছি। কি হয়েছে পেশেন্টের?

এমন সময় মিলি ঢুকলো। সামিকে ওর বাবার সাথে দেখে বেশ ঘাবড়ে গেল।

– ভাইয়া আপনি?
– মিলি, তুই ওকে চিনিস?
– হুম।
– কিভাবে?
– আপুর ফ্রেন্ড। দিনাজপুর থেকে এসেছে।

তানজীর বাবা, সামিকে বাইরে নিয়ে গেলেন। উনি বুঝতে পেরেছেন যে সামি কে আর কেন এসেছে। কথা বলার জন্যবাইরে নিয়ে গেলেন।

ফিরে এসে বললেন,- সামি তুমি বসো। আমি রিলিজ এর কাজ শেষ করে আসি।
সামির ফ্যাকাশে রিপ্লাই –জ্বী আংকেল, আচ্ছা।

তানজির পাশে এসে সামিবসলো। তানজির ঘুম ভেঙেছে।

– কেমন আছো ?
– চুপ, রেস্ট করো। বলতে বলতেই সামির চোখ দিয়ে ব্যাথা গড়িয়ে পড়লো।
– সামি আমার বুক জলতেছে।মাথা টা মনে হয় ফেটে যাচ্ছে।আমার হাত টা ধরো।
– কি? আমি ডক্টর ডাকছি।

সামি ডক্টর এর নাম ধরে চিল্লিয়ে উঠলো। দুজন নার্স দৌড়ে এলো।
নার্স বললো,
– আপনি বাইরে যান।
– না ও থাকুক। সামি আমার হাত টা ধরো। অনেক ভালবাসি তোমায়।
– তোমার কিচ্ছু হবেনা। সব ঠিক হয়ে যাবে। নার্স প্লিজ চেক হোয়াট ইজ হ্যাপেনিং উইথ হার। একটু শান্ত হও।
– সামি, আব্বু আম্মুর সাথে যোগাযোগ রেখ। তুমি ভাল থেক। আমাকে ভালবাসো তো তাইনা?
– অনেক ভালবাসি প্লিজ এভাবে বলো না। তোমার কিচ্ছু হবেনা।

তানজীর নাক দিয়ে রক্ত যাচ্ছে। চোখে রক্তের রগ দেখা যাচ্ছে। মুখ লাল হয়ে গেছে।

সামি আবার চিল্লিয়ে উঠলো– সামওয়ান প্লিজ চেক হোয়াটস গোইয়িং অন? আল্লহর দোহাই লাগে, কেউ একটু ওকে সুস্থ করেন।

তানজী সামির হাত ধরে একটা চুমু খেয়ে ডান দিকে মাথা এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।ঘুমটা আর ভাঙ্গবে না। ঘুমটা চিরোদিনের জন্য।

আর সামি?
সারাজীবনের জন্য ঘুমহীনরাতকে আপন করে নিল।

কিছু ভালবাসা শেষ হয়েও হয়না। একটা টু বি কন্টিনিউড সাইন রেখে যায়। সময় যেমন কেটে যায়, কিন্তু কাটা দাগটা থেকে যায়, তেমনি ওদের এক হওয়ার সম্ভাবনা এখানেই শেষ কিন্তু না পাওয়ার আক্ষেপ তা সারাজীবন সামি বয়ে বেড়াবে।

কিছু ভালবাসা থেকেও না থাকার মত,
আবার কিছু ভালবাসা না থেকেও বেচে থাকে অনুভবের মাঝে।

তানজি নাহয় সেভাবেই সামির মাঝে বেচে থাকবে।

আজকাল কেউ যখন সামিকে প্রশ্ন করে – কিরে তো জি এফ নাই?
সামি সেই ফ্যাকাশে হেসে উত্তর দেয় – ভালবাসাটা সবার কপালে জোটে না রে পাগলা। যাদের কপালে জোটে তারা ভাগ্যবান।

 

রেটিং
পাঠকের রেটিং
Rate Here
পোস্টের টাইটেলের সাথে মুল লেখার মিল
73%
পোস্টের ছবি কতটা সামঞ্জস্য পূর্ন
50%
লেখনীটা কেমন?
71%
পোস্টটি পড়ে আপনি কতটুকু স্যাটিসফায়েড?
70%
66%
পাঠকের রেটিং
2 ratings
You have rated this
About The Author
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
Kazi Mohammad Arafat Rahaman

পড়াশোনা – ব্যাচেলর করছি কম্পিউটার সায়েন্সে।
ভাল লাগা – গান, ফুটবল আর বই।
খারাপ লাগা – নাই। খারাপ লাগেনা। অনুভূতিহীন।
শখ – অনেক আছে।
লক্ষ্য – ইন্টারপ্রেনার হতে চাই।

You must log in to post a comment