অন্যান্য (U P)
Now Reading
একজন চেস্টার বেনিংটন এর মৃত্যু আর তার কারন
8790 1674 0

একজন চেস্টার বেনিংটন এর মৃত্যু আর তার কারন

What's your reaction?
লাইক ইট!
8%
FUNNY
0%
Sad
92%
Boring
0%

আমরা যারা নব্বই দশকের মানুষ, অধিকাংশের ইংরেজি গান শুনার হাতেখড়ি হয়েছিল In The End নামের একটা গান দিয়ে। একটা ভিডিও যেখানে একটা অনেক লম্বা মুর্তির উপর একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে কলার বোতাম লাগানো একজন গান গাচ্ছে, আরেকজন র‍্যাপ দিচ্ছে। চেস্টার চার্লস বেনিংটন কে সেখান থেকেই আমরা বেশিরভাগ মানুষ চিনি। সাথে মাইক শিনোডার র‍্যাপ পার্ফরমেন্স আমাদের মুগ্ধ করে দিয়েছিল। গানের কোরাস লাইন এর কথাগুলোতে চেস্টার বলেছিল –

I tried so hard and got so far
But in the end, it doesn’t even matter
I had to fall to lose it all
But in the end, it doesn’t even matter

কাল রাতে যখন চেস্টারের মৃত্যুর খবর পেলাম, তখন মনে হলো  It maters.  খবর শোনার পরপরই খুব অশান্ত লাগছিল ভিতর থেকে। মনে পড়ছিল  কিভাবে স্কুলের শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে লাইনগুলো আওরাতে আওরাতে বন্ধুদের সাথে প্রতিযোগীতা করতাম যে কে বেশি ভাল করে গাইতে পারে। বাসায় সন্ধ্যায় বাবা ফিরলে বাবার ফোন নিয়ে বারান্দায় চলে গিয়ে অল্প শব্দে গান শুনতাম। যেদিন এক বড় ভাই বলেছিল যে ইংরেজি গান শুনতে, মুভি দেখতে – তাহলেই ইংরেজিতে আরো ভাল কথা বলতে পারবো, সেদিন আর আমাকে পায় কে! সারাদিন লিনকিন পার্ক এর গান শুনেছিলাম। কারন তখন এই একটা ব্যান্ডকেই চিনতাম আর রক-হেভিমেটাল-অল্টারনেটিভ রক গাইত বলে ভাল লাগত।

ভালবাসাটা সেখান থেকেই শুরু । তখন বুঝিনি এর সাদা মানুষটার মৃত্যু এক নির্ঘুম রাত এনে দিবে আমাকে, কাদাবে প্রতিক্ষণে যতবার আমি তার কন্ঠ শুনবো। আমাদের কৈশোর কালের অনুপ্রেরণা ছিল এই মানুষটা। তার মত শার্টের টপ বোতাম লাগিয়ে ঘুরতাম, হাতে মার্কার দিয়ে ট্যাটু করতাম,  আয়নার সামনে চিল্লিয়ে দেখতাম ঘাড়ের রগ ফুলে উঠে নাকি। বন্ধুদের সামনে গাইতে চেস্টা করতাম উলটা পালটা লিরিক্স দিয়ে ভাব নেয়ার জন্য। পুরো কৈশোর কালটাই মনে পড়ছে আজ। নতুন এলবাম বের হলে দৌড় শুরু হয়ে যেত আমাদের যে কে আগে গান সংগ্রহ করতে পারে।

চেস্টার বেনিংটোন আর নেই। গত ২০ জুলাই,২০১৭ তারিখে, লস এঞ্জেলস এ তার নিজের এপার্টমেন্ট এ তার লাগ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দিনটা স্পেশাল ছিল কারন সেদিন চেস্টার এর ঘনিষ্ট বন্ধু ক্রিস কর্নেলের জন্মদিন ছিল যে কিনা ঠিক দুইমাস আগে নিজেও সুইসাইড করেছে। বন্ধুর জন্মদিনে লিংকিন পার্ক তাদের নতুন এলবামের টাইটেল ট্র্যাক “Talking To Myself” গেয়ে বন্ধুকে উৎসর্গ করে আর ইউটিউবে অফিসিয়াল ভিডিও রিলিজ করে ।

তো এমন আবেগঘন খুশির দিনে কেন চেষ্টার সুইসাইড করলো? বলা হচ্ছে অতিরিক্ত ড্রাগস আর হতাশার কারনে সুইসাইড করেছে আমাদের চাইল্ডহুড হিরো। আসলেই কি তাই? নাকি এর পিছনে অন্য কোন রহস্য আছে।

এন্টিনিউজ নেটওয়ার্ক নামের একটি সাইটে বলা হচ্ছে – “চেস্টার বেনিংটন তার বন্ধু ক্রিস কর্নেল এর মৃত্যু রহস্য প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন”। তবে কি ক্রিস কর্নেল ও সুইসাইড করেননি? আর সেটা যেন জনসম্মুখে না আসে সেটার জন্যই চেস্টারকে সরিয়ে দেয়া হল?

আরো বলা হচ্ছে চেস্টার এর হত্যায় তার স্ত্রীর প্ররোচনা ছিল। চেস্টার এর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী টালিন্ডার টুইটার থেকে কিছু টুইট করা হয় ।  বলা হয় – “আত্নহত্যার জন্য আমিই তাকে প্ররোচনা দেই। আমি বলেছিলাম এটা করলে কারো যায় আসেনা। ”

“আমার মনে হচ্ছে এখন এটা প্রকাশ করা উচিত। আমি মাইক শিনোডার সাথে সম্পর্ক করে চেস্টারকে ধোকা দিচ্ছিলাম।”

“আমার দৃষ্টিতে মাইক বেশি যোগ্য। আমি তাকে কখনোই ভালবাসিনি এবং আমি হ্যাকারদের শিকার নই। বলতে খারাপ লাগছে আমি তার অর্ধেক ভালবাসতাম”

পোস্টগুলো করার একঘন্টার মাঝেই সরিয়ে নেয়া হয়। অনেকের ধারণা হ্যাকিং এর শিকার হয়েছে ট্যালিন্ডার একাউন্ট।

তবে কি ক্রিস জেনে গিয়েছিল এই সম্পর্ক তাই প্রথমে ক্রিস আর পরে চেস্টার নিজেও এই সম্পর্কের বলি হলো? সত্যিই কি মাইক শিনোডার সাথে টালিন্ডার সম্পর্ক আছে? যাই থাকুক, সত্য দ্রুত উন্মোচিত হবে।

আমরা যারা ছোটকাল থেকে চেস্টার বেনিংটন এর ফ্যান, তারা সবাই কমবেশি তার জীবন সম্পর্কে জানি। ছোটোকালে সে চাইল্ড মলেস্টার এর হাতে নির্যাতিত ছিল এবং বাবা-মার ডাইভোর্স হয়ে যাবার পর তার বাবা যখন তার দ্বায়িত্বে আসলেন, তারপর চেস্টার  বিভিন্ন ড্রাগসে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তারপর ড্রাগস ছেড়ে ২০১১ সালে,ওয়ার্ল্ড ট্যুর এর সময় মদ্যপান করেন প্রচুর আর বলেছিলেন – “I just don’t want to be that person anymore.”

প্রথম স্ত্রী সামান্থার অলিট সাথে বিচ্ছেদ এর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন টালিন্ডা বেন্টলিকে।  ৬ সন্তানের জনক এই ৪১ বছর বয়সী চেষ্টার জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই পার করে এসেছেন। যতবার ডিপ্রেশন তাকে আকড়ে ধরেছে তিনি বলেছেন – “আমি কথা বলেছি। নিজের সাথে, বন্ধুর সাথে, সন্তান আর স্ত্রীর সাথে”। তাহলে আজ কেন তিনি আর পারলেন না নিজেকে আরেকবার কথা বলাতে?

চেস্টার বেনিংটন কে আর কখনো গাইতে দেখবোনা। অনেক ইচ্ছা ছিল জীবনে লিনকিন পার্কের কনসার্ট এ যাবো। চামড়ার চোখে চেস্টার আর মাইক কে দেখবো। লাখ ফ্যানের মাঝে আমিও চিয়ার আপ সাউন্ড করবো আর ছবি তুলে বন্ধুদের দেখিয়ে বলব – “দেখ, আমি আমার স্বপ্নের তারকার সাথে দেখা করেছি, যাদের গানের কথা আমাদের বাচ্চাকাল থেকে অন্যতম মোটিভেশন এর কারন, আমি তাদের দেখতে এসেছি”। একটা স্বপ্ন অধরা থেকে গেল। চেস্টার চলে যাবার আগে অনেকবার তার গানের কথায় বলতে চেয়েছেন তার চলে যাওয়ার আগাম ঘোষনাকে। তার শেষ গান “Heavy” এর কথাগুলো ছিল – I don’t like my mind right now , Stacking up problems that are so unnecessary , Wish that I could slow things down. ব্যান্ড মেট মাইক শিনোডা এই লিরিক্স সম্পর্কে বলেছেন – “ যেদিন এই গানের লিরিক্স লেখা হয় সেদিনও চেস্টা বিমর্ষ ছিল। আমরা একসাথে হ্যাং আউট করার কথা তাকে জানালে সে বলে যে সে ভাল অনুভব করছে না। তার ভাল লাগছিল না। ”

 

এছাড়াও আরো অনেক গানে তিনি বলতে চেয়েছেন তা মনের আকুতি। আমরা বুঝিনি, বুঝতে পারলে কোনোদিন প্রিয় রক গায়ককে এভাবে চলে যেতে দিতাম না।

প্রিয় চেস্টার চার্লস বেনিংটন,  যেখানেই থাকো, ভাল থাকো। সারাজীবন তুমি বেচে থাকবে আমাদের মাঝে তোমার গায়কী দিয়ে।

 

রেফারেন্স –

  1.   https://goo.gl/ibZ4RZ
  2.   https://goo.gl/ZpTGBt
  3.   https://goo.gl/dCTQkq
About The Author
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
Kazi Mohammad Arafat Rahaman

পড়াশোনা – ব্যাচেলর করছি কম্পিউটার সায়েন্সে।
ভাল লাগা – গান, ফুটবল আর বই।
খারাপ লাগা – নাই। খারাপ লাগেনা। অনুভূতিহীন।
শখ – অনেক আছে।
লক্ষ্য – ইন্টারপ্রেনার হতে চাই।

You must log in to post a comment