বাংলাদেশ পরিচিতি
Now Reading
জলের শহর… চট্টলা
445 79 0

জলের শহর… চট্টলা

by fahadul islamJuly 30, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
100%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

জলের শহর নামটা কেমন যেন…..!

১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা গঠিত হয়। তিন পার্বত্য জেলা এ জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল।চট্টগ্রাম (ইংরেজি: Chittagong) ( / Chôṭṭôgram) ঐতিহাসিক নাম সমূহ: পোর্টো গ্র্যান্ডে এবং ইসলামাবাদ) বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। বন্দরনগরী নামে পরিচিত শহর, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত পাহাড়, সমুদ্রে এবং উপত্যকায় ঘেরা চট্টগ্রাম শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে বিখ্যাত।

17052.jpg

উপরের ছবিটি দেখে অবাক হচ্ছেন?   …অবাক হবার কিছুই নেই। এটি বর্ষার চট্টলা। বর্ষাকালের নিত্যদিনের ঘটনা এমনি চট্টগ্রামে। এখানকার মানুষ একরকম মানিয়ে নিয়েছে নিজেদের। এমন ছবি এবং এমন ঘটনার সাথে তারা খুবই পরিচিত । কিন্তু এ অবস্থার জন্য অনেকাংশে  দায়ী  আমরা নিজেরাই। বৃষ্টির পানি কিন্তু এ জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী নয়, দায়ী আমাদের কর্মকান্ড। দিন দিন উঁচু উঁচু দালানকোঠার পরিমাণ বাড়ছে।বিন্দু মাত্র জায়গা রাখি নাহ। যে যেখানে পারছে..নগর পরিকল্পনা ছাড়াই। এসব উঁচু দালানকোঠার কারণে আজ  ভূমির স্তর ক্রমশ নিচু হচ্ছে।আমরা যত উপরে উঠছি ভূমির স্তর ততই নিচে নামছে। তাই জলভাগ ও স্থলভাগ এর উচ্চতা প্রায় সমান হয়ে আসছে।আবার চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার আরেকটি বিশেষ কারণ হচ্ছে পানি নিষ্কশনের তেমন ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। জোয়ার পানি খুব সহজেই চারিদিক তলিয়ে দেয়…কিন্তু এ পানি নামার মতো কোনো সুব্যবস্থা নেই। নালা নর্দমা যেগুলো আছেহ বেশির ভাগ ই ময়লা আবর্জনাই পরিপূর্ণ।39235351_30311.jpg20258436_1580219818696970_6969185265650854171_n.jpg

বলতে পারি আমরা রাস্তার সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছি। রাস্তায় একই সাথে নৌকা এবং  রিকসা……হাস্যকর আবার ভয়াবহ এমন এক অবস্থা। উপরের ছবিগুলো চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এর। বর্ষার  মৌসুমে এই চিত্র নতুন নয়। চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা  আগ্রাবাদ। সকল ব্যাংক থেকে শুরু করে সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এখানে। আগ্রাবাদ সিডিএ  তে এই অবস্থা।দৈনন্দিন।শুনলে একটু অবাক ই হবেন এই এলাকার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান  এমনকি বাড়িওয়ালারা ও ছোট নৌকা কিনছে..তাদের যাতায়তের জন্য। উপরের ছবিগুলোই সব বুঝিয়ে দিচ্ছে। এই অবস্থায় রিকসা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।  রিকসা ভাড়া  ২০ টাকা যেখানে  সেখানে ১০০-১৫০ টাকাও দিতে হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি..কি ভয়াবহ দুর্ভোগ এই  এলাকার মানুষের।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গুদাম এবং আড়তগুলোতে ভিজে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য রাস্তায় বিছিয়ে রাখা হয়েছে।

পানি নেমে যাওয়ার পর রোদে শুকিয়ে কিছুটা উদ্ধার করা যায় কিনা, বাজারটির ব্যবসায়ীদের এখন সেই চেষ্টা চলছে। চাল,ডাল,তেলসহ সব ধরণের ভোগ্যপণ্যের জন্য দেশের বৃহত্তম এই বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততার চিরচেনা পরিবেশ এখন দেখা যায়নি। সবকিছু যেনো স্থবির হয়ে আছে।দশক দশক ধরে প্রতিবছরই জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এবছর পাঁচ দফায় জলাবদ্ধতায় তাদের অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।গত কয়েকদিনে জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। এটা শুধু চট্টগ্রামের নয়, সারাদেশের আমদানি রপ্তানির বিষয়। পোশাক শিল্প বা যেকোন রপ্তানিমুখী শিল্প বলেন, তার সিংহভাগই এই বন্দর দিয়ে হয়। ফলে এখানকার জলাবদ্ধতার সমস্যাকে স্থানীয় সমস্যা হিসেবে দেখলে, সেটা ভুল করা হবে।গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ভারী বর্ষণ ও অমাবস্যার অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ, হালিশহর, এক্সেস রোড, চকবাজার, মুরাদপুর, চাক্তাই খাতুনগঞ্জ ও বাকলিয়া সহ অধিকাংশ এলাকা কোমর থেকে বুক পরিমাণ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থী, অফিসগামীসহ সাধারণ জনগণ। অনেকের বাসবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে রান্নাবান্না। চট্টগ্রামবাসী চায় এ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান।

এর আগেও চলতি মৌসুমে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর কয়েক দফা তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরী।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন নালার পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকার বাসিন্দারা তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য মহেশখালের উপর দেওয়া বাঁধকে দায়ী করেন। মহেশখালের মহেশখালের ওই পথ দিয়ে এসব এলাকার পানি কর্ণফুলী নদী হয়ে সাগরে যায়।নগরবাসীর অভিযোগের মুখে গত ১৩ জুন বাঁধটি অপসারণ কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাঁধ অপসারণের পর এখন জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে পানি নামতে না পারায় এসব এলাকার রাস্তায় পানি জমে থাকে।

চট্টগ্রামে যখন টানা জলাবদ্ধতা চলছে, সে সময়ে সোমবার রাতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ওপর সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে মেয়র উপস্থিত হলেও সেমিনারে উপস্থাপন করা প্রস্তাবগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করেন তিনি। মেয়র বলেন, ব্যক্তিগতভাবে যা পারব, যেখানে অর্থের কোনো সংস্থান করতে হবে না, তা নিয়ে আমার কাছে আসবেন, করে দেব। তবে প্রস্তাবগুলো আপনারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করুন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। কাজেই এই কাজটি আপনাদের জন্য অনেক বেশি সহজ হবে।

শুধু খাল নয়, কর্ণফুলীও ভরাট হয়ে গেছে। কর্ণফুলী ড্রেজিং করতে হবে। আর খাল খনন কেবল করার জন্য নয়, কার্যকরভাবেই করতে হবে। নিয়মিত ব্যবস্থাপনা দরকার। খাল খনন করলে হবে না কেবল, এগুলোকে নাব্য করে তুলতে হবে।গত পঞ্চাশ বছরে ড্রেনেজ খাতে পাঁচটি মহাপরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে। জনগণের টাকায় প্রণীত এই মহাপরিকল্পনা কেউ উল্টিয়ে দেখে বলে মনে হয় না। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ মেয়র, সাংসদ, সিভিল ব্যুরোক্রেট (সচিব, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) এবং টেকনিক্যাল ব্যুরোক্রেটদের (প্রকৌশলী) এই নিস্পৃহতা অমার্জনীয়। তাঁদের জবাবদিহির মধ্যে রাখতে হবে। তাঁরা চাইলে মহাপরিকল্পনার অনেক কিছু করা যেত। সরকারের কাছে চাইতে হবে।

আমরা প্রায় সকল পোষ্টে কতৃপক্ষের দ্ষ্টি আকর্ষণ করি। কিন্তুু আমাদের আগে নিজেদের সচেতন হওয়া উচিত নয় কি! আমাদের দায়িত্ব আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখা । আমাদের দায়িত্ব কতৃপক্ষকে সাহায্য করা। সকলে মিলে উদ্যোগ নিলে জলাবদ্ধতা নিরসন খুব সহজ হয়ে যাবে। আসুন জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগাম গড়তে আমরা সবাই সচেতন হই।

রেটিং
পাঠকের রেটিং
Rate Here
পোস্টের টাইটেলের সাথে মুল লেখার মিল
পোস্টের ছবি কতটা সামঞ্জস্য পূর্ন
লেখনীটা কেমন?
পোস্টটি পড়ে আপনি কতটুকু স্যাটিসফায়েড?
পাঠকের রেটিং
You have rated this
About The Author
Fahadul Islam
fahadul islam

You must log in to post a comment