সাহিত্য কথা
Now Reading
সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (পর্ব-১)
5750 1090 2
Admin Loves it!

সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (পর্ব-১)

by Ferdous Sagar zFsAugust 3, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
50%
FUNNY
0%
Sad
25%
Boring
25%

ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু সংক্রান্ত কিছু বাস্তব ঘটনার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে আপনারা দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের নানা প্রকার কালোজাদুর ঘটনা জেনেছিলেন। বরাবরের মত পাঠক-পাঠিকাদের তুমুল সাড়া আমাকে আবারও বাধ্য করেছে আজকের এই ঘটনা লিখতে।

আচ্ছা, ফল দিয়েও যে জাদু করা যায় তা আগের পর্বেই জেনেছিলেন, আজ বলবো আরেক ঘটনা।

প্রথম যখন এই ঘটনা শুনি, যেমন অবাক হয়েছিলাম তেমনি চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রুও ঝরেছিল। তাহলে বুঝতেই পারছেন এটা কতটা ভয়ংকর সাথে কষ্টদায়ক? গল্পের আকারে লিখছিঃ

এটা ঠিক প্রেমের ঘটনা না হলেও প্রেম জাতীয় ঘটনা আরকি! জহির আর সীমার কথা বলছি। একই সাথে রুয়েটে পড়াশুনা করতো। দুইজনই দুজনাকে মনে মনে প্রচন্ড ভালোবাসলেও কেউ কাউকে বলতোনা। যাইহোক, একটা সময় তাদের মাঝে উপস্থিত হয় একজন তৃতীয় ব্যক্তি। তৃতীয় ব্যক্তিটা আর কেউ না, সীমার খালাতো ভাই এনামুল। এনামুল বিদেশ ফেরত যুবক, সীমাকে নিয়ে তার বহুদিনের স্বপ্ন কিন্তু সীমার মনে স্বপ্ন জহিরকে নিয়ে।

এনামুল এসেই সীমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলো। কিন্তু সীমা রাজি হলো না। ওদিকে সীমা জহিরকে এই কথা বলার পরই জহির বুঝতে পারলো যে সীমা ওকে চায়। জহির তখন বাংলালিংকের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ঢুকেছে মাত্র। জহির তাই সীমার মনের চাওয়া বুঝতে পেরে আর দেরী করলো না। ওদের বাসায় বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে গেল। ব্যস, ভালো-ভদ্র পাত্র দেখে সীমার বাবা-মা রাজি হয়ে গেল। কোনো এক রোজার ঈদের কয়দিন পর ওদের বিয়ে হয়ে যায়।

এদিকে এনামুল তো রাগে অস্থির। খালা-খালু এমন করলো? সীমাকে আমার সাথে বিয়ে দিলো না?- এমন মনোভাবে সে দিনে দিনে হিংস্র হয়ে উঠলো। এনামুল সীমাকে এসিড মারার চিন্তাও করেছিল যা পরবর্তীতে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে জানা যায়।

সীমার সুখের সংসারে আগুন লাগানোর হাজার চেষ্টা করেও যখন সে ব্যর্থ, তার মাথায় হঠাৎ ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু করার চিন্তা এলো। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সত্যিকার কালোজাদুকর কিংবা তান্ত্রিক খুঁজে পাচ্ছিলো না। এক বন্ধু বললো, তার মামা টুকটাক সাধনা করে ওসবের। গোপনে সেই মামার সাথে এনামুল দেখা করে সমস্ত ঘটনা খুলে বললো, সেই মামার নাম রুবেল। রুবেল তান্ত্রিক জিজ্ঞেস করলো, কোন ধরণের ক্ষতি করতে চাও?

এনামুল বললো, যেভাবেই হোক ওদের সংসার যেন আর না টিকে এমন কিছু করতে। রুবেল তান্ত্রিক এর ডিম্যান্ড অনেক। দশ হাজার টাকা চেয়ে বসলো, এনামুল অর্ধেক দিয়ে বললো, আগে কাজ চাই, পরে বাকি অর্ধেক দেয়া হবে। তান্ত্রিক ওকে পরদিন দেখা করতে বললো আর জানিয়ে দিলো যে সে পরদিন কিছু ফল আনবে।

আগের দিনের কথামত এনামুল পরদিন সেই ফল আনতে গেল। দেখলো রুবেল তান্ত্রিক কমলালেবু, আপেল, ডালিম ফল- এইসব এনেছে। এনামুল এমনটা দেখে রাগ হয়ে জিজ্ঞেস করে, এইসব কি? ফল দিয়ে কি হবে? যত্তসব ফাজিল লোকজন। দেন টাকা ফেরত দেন, জানি আপনিও নামে তান্ত্রিক, কাজ হবেনা।

তান্ত্রিক তখন মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলে, এত সহজে বিশ্বাস হারালে কি চলবে জনাব? বিদেশেই তো সারাজীবন কাটিয়ে এলেন তাই বলে দেশী মানুষের প্রতি কি বিশ্বাস হারাবেন এভাবে?- এই বলে পকেটে হাত দিয়ে নেয়া টাকা ফেরত দিয়ে বললো, এই নেন আপনার টাকা, সাথে ফলও নেন। যদি আমার জাদুতে কাজ হয়, তাহলে পুরো টাকা নিয়ে চলে আসবেন আর না হলে আসবেন না।

এনামুল তখন নরম কন্ঠে জানালো, তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু ফল দিয়ে হবেটা কি শুনি? আর কি আছে এই ফলের ভেতর?

– এইতো জনাব, এতক্ষণে লাইনে এলেন তাহলে। এই কথাগুলো আগে বললেই ভালো শোনাতো। আসলে কথা হচ্ছে এই ফলের ভেতরে ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে কিছু তরল পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্লিসারিনের সাথে কিছু গোপন রস যা বলা যাবেনা। এই গোপন রস অনেক দূর থেকে আনতে হয়। এটা কোনো এক পশুর কিছু একটা হবে! যাইহোক, এত জেনে তো আর আপনার লাভ নেই, আপনি ফলগুলো ঐ মেয়ের বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করুন, খাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় খবর পাবেন কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে দুজনার ভেতরে। সংসারে অশান্তির ঝড়!

সবকিছু শুনে এনামুল একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাসার দিকে পা বাড়ালো। বাড়ি বসে ও চিন্তা করতে লাগলো কিভাবে ফলগুলো সীমার বাসায় পাঠানো যায়?

কি করবে? নিজেই যাবে নাকি অন্য কাউকে পাঠাবে? এমন চিন্তা করতে করতে সিদ্ধান্ত নিল ও নিজেই যাবে। হাজার হলেও খালাতো ভাই তো। সমস্যা নেই!

যেমন ভাবা তেমন কাজ। এক শুক্রবার বিকেলে এনামুল সীমার বাসায় গিয়ে উপস্থিত। সাথে সেই ফল আর দোকান থেকে কেনা মিষ্টির প্যাকেট। সীমা মনে মনে খুশীই হয়েছিল যে খালাতো ভাই বেড়াতে এসেছে, কারণ ওর মনে তো আর কুটিলতা নেই!

ভাইকে অনেক আদর যত্ন করে খাওয়ালো নিজের হাতে রান্না করে। অমন মধুর রান্না খেয়ে এনামুল মনে মনে বললো, আর কয়টা দিন যাক, এই এমন রান্না প্রতিদিন ও নিজেই আমাকে রান্না করে খাওয়াবে! এমন ভেবে মনে মনে ও একটা ক্রুর হাসি হাসলো- ভিলেনের পাঠে এনামুল মন্দ যায়না কিন্তু!

সপ্তাহ খানেকের মাথায় এনামুল জানতে পারলো, সীমা আর জহির দুইজনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি! এর মধ্যে সীমার অবস্থা করুণ, ডাক্তার বলেছে নাক দিয়ে নাকি প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে এবং প্রায়ই ব্লিডিং হচ্ছে তাই রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও ডাক্তার হিসাব মেলাতে পারছেনা যে কিভাবে কি হচ্ছে? শারীরিক তো কোনো সমস্যাই চোখে পড়ছে না ওদের, তাছাড়া সীমার নাকেও কোনো ফাটল নেই, চেকআপেও কিছুই ধরা পড়েনি। ঠিক এমন সময় কেবিন থেকে সীমার চিৎকার…………

 

চলবে

https://www.facebook.com/ferdous.sagar
About The Author
Ferdous Sagar zFs
Ferdous Sagar zFs

Hi, I am Ferdous Sagar zFs. I am a Proud Bangladeshi living in abroad for study purpose. I love to write and it’s my passion or hobby. Thanks.

You must log in to post a comment