মিডিয়া-সিনেমা
Now Reading
সপ্তপদী
310 52 0

সপ্তপদী

by Farhana AfroseSeptember 28, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
100%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

‘এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত তুমি বলত,যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয় তবে কেমন হত তুমি বলত’- ষাটের দশকের অন্যতম বিখ্যাত একটি গান এটি। হেমন্ত মুখারজি ও সনধ্যা মুখারজির দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি আজও সমান জনপ্রিয়। পর্দায় এই গানের সাথে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন বাংলা সিনেমার সফল জুটি উত্তম কুমার আর সুচিত্রা সেন। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল রোমান্টিক ছবি ‘সপ্তপদী’ তে এই গানটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে তারাশংকর রায় লিখিত উপন্যাস অবলম্বনে এই ছবিটি নির্মাণ করেন পরিচালক অজয় কর। ছবিটি ১৯৬১ সালে মুক্তি পায়।

কাহিনি

১৯৪০ সালের শুরুর দিকের ঘটনা। ভারতবর্ষে তখন ইংরেজদের শাসন চলছিল। ভারতীয় আর অ্যাংলো- ভারতীয়দের মধ্যে পড়াশোনা, খেলাধুলা আর যাবতীয় সব বিষয়ে প্রতিযোগিতা চলত। কাহিনীটি কলকাতা মেডিকেল কলেজের দুইজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে। একজনের নাম কৃষ্ণেন্দু মুখারজি। সে বাঙালি হিন্দু  ছেলে। আরেকজনের নাম রিনা ব্রাউন। সে মেধাবী, সুন্দরী, অ্যাংলো- ভারতীয় খ্রিস্টান মেয়ে। ভারতীয় আর অ্যাংলো- ভারতীয়দের মধ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতা হয়। এতে ভারতীয়রা জিতে যায়। সেইসাথে কৃষ্ণেন্দু রিনার ছেলেবন্ধু ক্লেটনকে আহত করে। সেখান থেকে তাদের কথা কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। এদিকে ক্লেটন সুস্থ হয়ে কলেজে ফিরে আসে। সে রিনাকে অবসর সময়ে তার সাথে দেখা করতে বলে। আড়াল থেকে কৃষ্ণেন্দু সেটা শুনে ফেলে। সে আরেকজন ছেলেকে কিছু টাকা বকশিস দেয় এবং ক্লেটনকে বলতে বলে যে রিনা তাকে যে জায়গায় অপেক্ষা করতে বলেছে সেখানে না থেকে অন্য জায়গায় যেন অপেক্ষা করে। এদিকে কৃষ্ণেন্দু বাইরে রাখা ইংরেজদের পোশাক পরে ক্লেটনের জায়গায় রিনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। রিনা এসে ক্লেটনের জায়গায় কৃষ্ণেন্দুকে দেখে রাগান্বিত হয় ও চলে যায়। আর ঐদিকে বেচারা ক্লেটন একা একা রিনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এদিকে কৃষ্ণেন্দুর বাসায় তার বাবাকে পূজা করতে দেখা যায়। কৃষ্ণেন্দুর মা তার লেখা চিঠি আর খবরের কাগজ নিয়ে বাবার কাছে যান। খবরের কাগজে খেলার পাতায় তাকে নিয়ে খবর লেখা হয়েছে। এতে তার মা খুশি হলেও বাবা রাগান্বিত হন। তার মতে কৃষ্ণেন্দু পড়াশোনা ছেড়ে খেলাধুলায় বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তার মা বাবাকে জানান যে কৃষ্ণেন্দু নতুন একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে উঠেছে। কেননা আগের থাকার জায়গায় অনেক হট্টগোল।এতে তার পড়াশোনার অসুবিধা হয়। এতেও তার বাবা অখুশি হন। কারণ নতুন জায়গার বেশিরভাগ মানুষ ইংরেজ। কৃষ্ণেন্দুর পাশের বাড়িতে রিনার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের হট্টগোলের কারণে তার পড়াশোনার অসুবিধা হচ্ছিল।এতে তাদের আরেক দফা কথা কাটাকাটি হয়।এদিকে কলেজে ‘ওথেলো’ নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। প্রধান দুটি চরিত্রে ক্লেটন আর রিনার অভিনয় করার কথা থাকে। কিন্তু মঞ্চস্থ করার দিন ক্লেটনকে আর পাওয়া যায় না।তাই কৃষ্ণেন্দুকে অভিনয় করতে হয়। রাস্তায় ক্লেটন কৃষ্ণেন্দুকে ভালো অভিনয়ের জন্য অভিনন্দন জানায় ও তার হবু স্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।সে বলে যে রিনা শুধু তার বন্ধু ছিল আর তারা এর পরের দিন ইংল্যান্ডে চলে যায়। এদিকে মিক্সড ডাবলস ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় কৃষ্ণেন্দু ইচ্ছা করে হেরে যায় ও রিনা জিতে যায়। এতে রিনা রাগান্বিত হয়ে কৃষ্ণেন্দুর সাথে কথা বলার জন্য তার বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারে যে কৃষ্ণেন্দুর মা মারা গেছে। কৃষ্ণেন্দুর মা একজন আধুনিক মুক্তমনা মানুষ ছিলেন।তিনি কৃষ্ণেন্দুর বাবার মতো জাতপ্রথা কিংবা অস্পৃশ্যতায় বিশ্বাস করতেন না। তিনি চাইতেন কৃষ্ণেন্দু অনেক বড় ডাক্তার হবে। কৃষ্ণেন্দুর সাথে রিনার অনেক ভালো বন্ধুত্ব হয়।কৃষ্ণেন্দু কৃতিত্বের সাথে পরীক্ষায় পাশ করে। এরপর তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। কৃষ্ণেন্দুকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে হবে এই শর্তে রিনার বাবা বিয়েতে রাজি হন।কিন্তু কৃষ্ণেন্দুর বাবা কিছুতেই রাজি ছিলেন না। তিনি রিনাকে ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইল করে কৃষ্ণেন্দুকে বিয়ে না করার জন্য রাজি করান।কৃষ্ণেন্দু খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করে।কিন্তু যেহেতু রিনা কৃষ্ণেন্দুর বাবাকে কথা দিয়েছিল যে সে কৃষ্ণেন্দুর জীবন থেকে সরে যাবে তাই সে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। বেশ কয়েক বছর পরে ১৯৪৩ সালের ঘটনা।তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। কৃষ্ণেন্দু নিজেকে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে। এলাকার লোকজন তাকে ভগবান মানে।আর রিনা একজন মিলিটারি অফিসার। একদিন মদ্যপ অবস্থায় তাকে কৃষ্ণেন্দুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের দেখা হয়।রিনা জানায় যে সে কোনোদিন খ্রিস্টান ছিল না। তার মা ছিলেন তার বাবার একজন ভারতীয় আয়া। তার বাবা কোনদিন তার মাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। রিনা তার মাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানালে তার বাবা তাকে বন্দুক তুলে মারতে আসে। এসময় রিনার মা তার জীবনের বিনিময়ে রিনাকে বাঁচান।তার সাথে ঘটে যাওয়া অবিচারের কারণে সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। দেয়ালে থাকা ঈশ্বরের ছবিতে সে গুলি করে। এতে সেই ছবির পিছনে থাকা রিনার ছবি বেরিয়ে আসে।রিনা বুঝত পারে যে কৃষ্ণেন্দু তাকে এখনো মনে রেখেছে। এদিকে কৃষ্ণেন্দু একজন রোগী দেখতে গেলে রিনা চলে যায়।সে কৃষ্ণেন্দুকে চিঠি লিখে জানায় যে সে যেন তাকে খোঁজার চেষ্টা না করে। আসামে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার না থাকার কারণে ফাদারের অনুরোধে কৃষ্ণেন্দু সেখানে চলে যায়।এদিকে কৃষ্ণেন্দুর সাথে দেখা করার কারণে রিনা কৃষ্ণেন্দুর বাবার কাছে ক্ষমা চায়।রিনার সত্যবাদিতায় কৃষ্ণেন্দুর বাবার এতটাই মুগ্ধ হন যে তাকে তিনি দেবীর সমমর্যাদাসম্পন্ন মনে করেন। তিনি কৃষ্ণেন্দুকে চিঠি লিখে সব সত্য কথা জানান ও রিনাকে বিয়ে করতে বলেন।এদিকে রিনার এক সহকর্মীর জীবনকাহিনী রিনার সাথে মিলে যায়। মাকে শান্তিতে রাখা এখন তার জীবনের একটাই লক্ষ্য। কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে রিনা তার অন্ধ, বৃদ্ধ মাকে দেখতে যায়। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাই তাকে আসামের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবার কৃষ্ণেন্দুর সাথে রিনার দেখা হয়। কৃষ্ণেন্দুকে দেখে সে বাইরে চলে যায়। সে সময় বোমার আঘাতে রিনা আহত হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কৃষ্ণেন্দু তাকে তার বাবার লেখা  চিঠিটি দেখায়। কৃষ্ণেন্দু রিনাকে বলে যে তার কোনো কিছুই হারায়নি। তার ঈশ্বর আছে। তার সব আছে।এরপর তারা বিয়ে করে।

কাস্টিং

কৃষ্ণেন্দু মুখারজি- উত্তম কুমার

রিনা ব্রাউন   – সুচিত্রা সেন

কৃষ্ণেন্দুর বাবা – ছবি বিশ্বাস

রিনার মা    -ছায়া দেবী

কৃষ্ণেন্দুর বন্ধু  -তারুণ কুমার

ওথেলো(কণ্ঠ)  -উৎপল দত্ত

 

পুরস্কার

মস্কো আন্তর্জাতিক ফ্লিম ফেস্টিভ্যাল এ সুচিত্রা সেন এই ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।

১৯৬১ সালে এটি ২য় শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি হিসেবে জাতীয়  পুরস্কার পায়।

 

 

 

 

 

 

 

About The Author
Farhana Afrose
Farhana Afrose

You must log in to post a comment