মিডিয়া-সিনেমা
Now Reading
দ্যা রিং
490 98 0

দ্যা রিং

by Farhana AfroseOctober 2, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
0%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

আপনার বাসার টেলিফোনটি বেজে উঠল। আপনি কল রিসিভ করলেন। একটা অচেনা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন। তার কথা শুনে আপনার আত্মা কেঁপে উঠল। কেননা আপনি শুনলেন যে আর মাত্র সাত দিন পরে আপনি মারা যাবেন। কি করবেন তখন? নিজের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করবেন নাকি এই ফোন কলের রহস্য বের করবেন?এ রকম একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপানি উপন্যাসিক কোজি সুজুকি রিঙ্গু নামে এক উপন্যাস লিখেন। এর উপর ভিত্তি করে ১৯৯৮ সালে নির্মিত হয় রিঙ্গু মুভিটি। ২০০২ সালে দ্যা রিং নামে হলিউডে এই মুভির রিমেইক তৈরি হয়। এটি একটি অতিপ্রাকৃত সাইকোলজিক্যাল হরর মুভি। এটি পরিচালনা করেন গোর ভারবিন্সকি।

কাহিনী  

কেটি আর বেকা দুইজন অল্প বয়সী মেয়ে। একদিন তারা বাসায় বসে গল্প করছিল। এক পর্যায়ে তারা একটি ভিডিও টেপ নিয়ে আলোচনা করে। সেই ভিডিও যে দেখে সে নাকি সাতদিন পরে মারা যায়। কেটি যখন এই কথা শুনেছিল তখন সে কৌতূহলী হয়ে পরেছিল। সে তার বন্ধুদের সাথে এক সপ্তাহ আগে ভিডিওটি দেখে। বেকাকে যেই রাতে কেটি এই কথা জানায় সেই রাতে কেটি মারা যায়। কেটির বিকৃত মৃতদেহ দেখে বেকা নিশ্চুপ হয়ে যায়। কেটির মা তার খালা র‍্যাচেলকে এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে বলে। র‍্যাচেল একজন সাংবাদিক। তিনি সিয়াটলে থাকেন। অনুসন্ধান  করতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে কেটির সব বন্ধুরা কেটি যেই রাতে মারা যায় সেই রাতে মারা গেছে। র‍্যাচেল শেলটার মাউনটেন নামে এক জায়গায় যান যেখানকার একটি হোটেলে কেটি তার বন্ধুদের সাথে ভিডিওটি দেখেছিল। র‍্যাচেল ভিডিওটি দেখেন। ভিডিওটিতে অস্পষ্ট কিছু ছবি দেখা যায়। এরপর তিনি একটি ফোনকল পান। একজন অপরিচিত মহিলার কণ্ঠস্বর শুনতে পান। সে ফিসফিস করে বলে ‘সাত দিন’। র‍্যাচেল তার এক্স বয়ফ্রেন্ড নোয়ার সাহায্য চায়। সে একজন ভিডিও বিশ্লেষক। তারা এই ভিডিওর একটি কপি তৈরি করে। এতে তাদের কাজ করতে সুবিধা হবে। র‍্যাচেল একসময় বুঝতে পারে যে ভিডিওতে যে ছবিগুলো দেখানো হয়েছে সেগুলোর অস্তিত্ব আছে। তিনি ভিডিওতে একটি লাইট হাউস এবং একজন মহিলাকে  আবিষ্কার করেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে এই মহিলার নাম অ্যানা মর্গান। তার কয়েকটি ঘোড়া মোসেকো দ্বীপে পানিতে ডুবে মারা যায়। এরপর তিনিও আত্মহত্যা করেন। র‍্যাচেলের আইদান নামে একটি ছেলে ছিল। একদিন র‍্যাচেল  দেখতে পান যে তার ছেলে এই ভিডিওটি দেখছে। আইদানকে রুথ নামের এক ব্যক্তির কাছে রেখে র‍্যাচেল মোসেকো দ্বীপে যায়। সেখানে অ্যানা মর্গানের স্বামী রিচারড মর্গান বাস করেন। উদ্দ্যেশ্য তার সাথে কথা বলে এর পেছনের কারণ জানা। এদিকে নোয়া ইয়োলা মানসিক হাসপাতালে যায়। এখানে অ্যানা মর্গান কিছুদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। তার মেডিক্যাল ফাইলগুলো নোয়া দেখে। দ্বীপে যাওয়ার সময় র‍্যাচেল একটি ফেরিতে উঠে। হটাত একটা ঘোড়া তার দিকে ছুটে আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ঘোড়াটি পানি পড়ে মারা যায়। দ্বীপে পৌঁছে র‍্যাচেল জানতে পারে যে  অ্যানা মর্গান একটি মেয়েকে দত্তক নিয়েছিলেন। তার নাম সামারা। র‍্যাচেল রিচারড মর্গানের সাথে দেখা করেন। সামারা সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু তিনি মেয়ে দত্তক নেওয়ার ঘটনাকে অস্বীকার করেন। এরপর র‍্যাচেল সেই দ্বীপের একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করেন। তিনি বলেন যে অ্যানা মর্গান সন্তান ধারণ করতে অক্ষম ছিলেন। তাই তিনি সামারাকে দত্তক নেন। সামারার একটি অতিমানবীয় মানসিক ক্ষমতা ছিল। সে তার মানসিক শক্তি ব্যবহার করে কোনো ছবি পুড়িয়ে ফেলতে পারত। এই কাজ করে সে তার বাবা, মা আর তাদের ঘোড়াগুলোকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এদিকে নোয়া হাসপাতালে সামারার মেডিক্যাল ফাইল পড়ে একটি হারিয়ে যাওয়া ভিডিও টেপ এর কথা জানতে পারে যেটি কিনা সর্বশেষ রিচারড মর্গান দেখেছিলেন। র‍্যাচেল আবার রিচারড মর্গানের বাসায় যান।সেখানে তিনি সামারার হারিয়ে যাওয়া ভিডিওটি খুঁজে পান। সেই ভিডিওতে দেখা যায় যে  সামারার মানসিক চিকিৎসার সময় সে তার ক্ষমতার কথা প্রকাশ করছে। রিচারড এসে র‍্যাচেলকে ভিডিওটি দেখতে দেখেন। তিনি বুঝতে পারেন যে সামারার অপসত্বার প্রভাব শেষ হয়নি। তিনি বাথট্যাবের ভেতর নিজেকে তড়িতাহিত করে আত্মহত্যা করেন। এর কিছুক্ষণ পরে নোয়া সেখানে পৌঁছায়। তারা দুইজনে মিলে বার্নে প্রবেশ করে। বার্নের উপরে তারা একটা ঘর দেখতে পায় যেখানে সামারাকে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হত। দেয়ালের ওয়ালপেপারের পিছনে তারা একটি গাছের ছবি দেখতে পায়। র‍্যাচেল বুঝতে পারে এই গাছটি শেলটার মাউনটেন হোটেলের গাছ।মেঝের নিচে তারা একটি কুয়া আবিষ্কার করে। ঢাকনা সরাতেই কেউ একজন র‍্যাচেলকে ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। একটা হা্ত তাকে ধরে রাখে। সে দেখত পায় সামারার কর্মকাণ্ডে অ্যানা মর্গান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি সামারাকে সেই কুয়ায় ফেলে দেন। কুয়ার নিচে সামারা সাতদিন বেঁচে ছিল। সামারার মৃতদেহ তুলে এনে তাকে নিয়ম মেনে সমাহিত করা হয়। নোয়া  র‍্যাচেলকে বলে যে যেহেতু সাতদিন পার হয়ে গেছে এবং র‍্যাচেলের কিছু হয়নি তাই সে এখন নিরাপদ। কিন্তু বিপদ তখনও রয়ে গেছে। কেননা নোয়ার সাতদিন তখনও শেষ হয়নি। আইদান র‍্যাচেলকে বলে যে  সামারাকে সাহায্য করা উচিত হয়নি। র‍্যাচেল তখনই নোয়ার বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করে। এদিকে নোয়া টিভি দেখছিল। হটাত করে সামারার ভুত টিভির ভেতর থেকে বের হয়ে আসে এবং তাকে মেরে ফেলে। র‍্যাচেল নোয়ার বিকৃত মৃতদেহ পায়। র‍্যাচেল বুঝতে পারে যে সে একটা কপি করে একজনকে দেখিয়েছিল তাই তাকে মেরে ফেলা হয়নি। তাই সে আইদানকে দিয়ে আরেকটি কপি বানায় অন্য কাউকে দেখানোর জন্য। এতে সে বেঁচে যাবে।

কাস্টিং

র‍্যাচেল কেলার – নওমি ওয়াটস

নোয়া ক্লে    – মারটিন হ্যান্ডারসন

আইদান কেলার- দেভিদ দরফম্যান

সামারা      -দেভি চেইস

রিচারড মর্গান –ব্রায়ান কক্স

অ্যানা মর্গান  -শ্যানন ক্রচনান

রুথ এম্ব্রি    – লিন্ডসি ফ্রসট

কেটি এম্ব্রি   – অ্যাম্বার টাম্বলিন

বেকা কোটলার – র‍্যাচেল বেলা

পুরষ্কার

শ্রেষ্ঠ হরর মুভি ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে স্যাটার্ন পুরষ্কার পায়। এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ড এ পায় শ্রেষ্ঠ খলনায়িকার পুরষ্কার। টিন চয়েস অ্যাওয়ার্ড এ শ্রেষ্ঠ হরর মুভি হিসেবে পুরষ্কার পায় ।

রেটিং

আইএমডিবিঃ     ৭.১/১০

রোটেন টম্যাটোসঃ  ৭১% পজিটিভ রিভিউ

 

 

 

 

 

 

 

About The Author
Farhana Afrose
Farhana Afrose

You must log in to post a comment