Now Reading
যে মানসিক অসুখটি আপনাকে সফল হতে দিচ্ছে না!! (অধিকাংশ মানুষই জানে না তারা এতে আক্রান্ত)
5135 997 0
Admin Loves it!

যে মানসিক অসুখটি আপনাকে সফল হতে দিচ্ছে না!! (অধিকাংশ মানুষই জানে না তারা এতে আক্রান্ত)

by Kanij SharminOctober 8, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
40%
FUNNY
20%
Sad
40%
Boring
0%

সফলতা আর ব্যর্থতার সংজ্ঞা কি? কাকে আমরা বলি সফল মানুষ, আর কাকে বলি ব্যর্থ মানুষ? টাকা-পয়সা, উঁচু পদ , সুখের সংসার কোনটা আসলে সফলতা? মূলত সফলতা নির্ভর করে প্রতিটা মানুষ তার জীবনকে কিভাবে দেখে তার উপর। মানুষ যখন নিজের জীবন নিয়ে হতাশ থাকে,বা অপ্রাপ্তি তাকে ঘিরে ধরে, তাকেই বলে ব্যর্থতা । তবে জীবনের এই না পাওয়া, অপ্রাপ্তি বা এই ব্যর্থতার কারণ কিন্তু মানুষের একটি মানসিক রোগ।

এরকম একটি অসুখের নাম হচ্ছে excusitise. বাংলায় যেটাকে বলা যায় ‘অজুহাত রোগ’। যারা জীবনে কিছু করে উঠতে পারে নি, তারা অন্যদেরকে বোঝায় কেন করেনি, কেন করেনা, কেন পারে না, ও কেন তারা নয়। অনেক সময় এটা একটা অসুখে পরিণত হয়।

তো ,অজুহাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রথম দিকে ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে ভালো একটি অজুহাত বের করে হতাশা থেকে মুক্তির জন্য। কিন্তু ,এই রোগগ্রস্ত ব্যক্তিটি যতবারই অজুহাত দেখায়, ততবারই তা তাদের মনের মধ্যে গেঁথে যায়। এক সময় যে অজুহাত সে ব্যর্থতা ঢাকার জন্য ব্যবহার করত পরে সে তা নিজেই বিশ্বাস করতে শুরু করে।
এটি কিন্তু একটি ভয়ানক অসুখ যা মানুষকে জীবনে সফল হতে বাধাগ্রস্ত করে এবং মানুষ মনের অজান্তেই এই অসুখের শিকার হয়ে পরে। সফলতা লাভ করতে হলে প্রথমেই নিজেকে এই অজুহাত রোগ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
এই অসুখের অনেক গুলো ধরন আছে। তবে ৪ ধরনের এক্সকিউসাইটিস আছে যা সাধারণত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়-

 

১। স্বাস্থ্য এক্সকিউসাইটিসঃ
হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অজুহাত বা স্বাস্থ্য এক্সকিউসাইটিস রোগে আক্রান্ত। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চির পরিচিত কিছু কথা আছে- ‘কি করব ,শরীর টা যে একদমই ভালো যাচ্ছে না ’, ‘শরীর ভালো নেই’। এই রোগীদের মধ্যে অবচেতন ভাবে এই ধারনা গেড়ে বসে যে, তাদের শরীর খুবই অসুস্থ। কেও তাকে বুঝতে পারছে না এবং তাদের জীবনে সফলতা না আসার কারণও এই অসুস্থতা।

এই স্বাস্থ্য এক্সকিউসাইটিস থেকে রক্ষা পাবার কিছু কৌশল রয়েছে-
• নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কোন রকম আলোচনা করবেন না। নিজের অসুখ নিয়ে যত বেশি কথা বলবেন ততই অসুখ টি আরও গুরুতর হবে।
অবচেতন মনেই অসুস্থতা থেকে ভালো হবার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলবেন। অসুখের কথা বেশি বলার কারণে মানুষের কাছে সাময়িক সহানুভূতি পাবেন কিন্তু মনে রাখবেন যে সব সময় অভিযোগ করে তাকে কেও শ্রদ্ধা করে না। আর সফল ব্যক্তিদের মধ্যে একটি অভ্যাস দেখতে পাওয়া যায় যে তারা তাদের অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে বা এড়িয়ে যায়।

• স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তাকে মোটেও প্রশ্রয় দিবেন না। ডাক্তারদের মতে, প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ পাওয়া অসম্ভব। এজন্য চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করুন। দুশ্চিন্তা যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে।
• আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা বোধ করুন, যে আপনি যেমন আছেন বেশ ভালো আছেন। আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে এই সুন্দর ধারনা আপনাকে ব্যথা-বেদনা ও নতুন কোন অসুখ থেকে সুরক্ষা দেবে।
• জীবন কে উপভোগ করুন, অপচয় করবেন না। মনে রাখবেন জীবনটা আপনার। নিজেকে বারবার বলুন,’মৃত্যুর আগে মরবো না’।

 

 

২।বুদ্ধিমত্তার এক্সকিউসাইটিসঃ
ব্যর্থতার একটি অতি পরিচিত শব্দ ‘আমি বোকা’ বা ‘এসব আমাকে দিয়ে হবে না’। আমাদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগছে।এরা মনে করে এদের মেধা কম।এজন্য কোন কাজে তারা নিজের উপর আত্মবিশ্বাস পায় না। অন্যান্য এক্সকিউসাইটিস রোগীদের সাথে এদের পার্থক্য হচ্ছে এরা নিঃশব্দের কষ্ট সহ্য করে।

বুদ্ধিমত্তার এক্সকিউসাইটিস থেকে উত্তরণের কিছু কৌশল রয়েছে-

• পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করুন। সফল মানুষের জীবন দেখলে বোঝা যায় বুদ্ধির চাইতেও পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তাদের বেশি কাজে এসেছে। এজন্য নিজেকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিন ‘আমার মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি আমার বুদ্ধির চাইতেও বেশি প্রয়োজন’। জেতার পথ টা খুঁজুন, আপনি হেরে যাবেন এটা প্রমাণের জন্য বা মানুষ কে বোঝানর জন্য বুদ্ধি খরচ করবেন না।

• নিজের বুদ্ধিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগান। মনে রাখবেন আপনি কতটা বুদ্ধিমান তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ । আপনি আপনার বুদ্ধিকে কি পরিমাণ কাজে লাগাচ্ছেন। আপনার বুদ্ধি কম  এবং অন্যজনের বুদ্ধি বেশী এ ধরনের চিন্তা থেকে বেড়িয়ে আসুন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে বেশির ভাগ মানুষ তার বুদ্ধির ১০% ও ব্যবহার করেন না। সুতরাং আপনার বুদ্ধির সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন। পরিশ্রমী হন। সাফল্য আসবেই।

sad-2635043_1920.jpg

 

৩। বয়সের এক্সকিউসাইটিসঃ
আপনি সঠিক বয়সে নেই বা আপনার বয়স আপনার সফলতার পিছনে বাঁধার কারণ এরকম ভাবাটাকে বলা হয় বয়সের এক্সকিউসাইটিস । এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, এ বয়সে কি আর সম্ভব?’ অথবা ‘আমিতো অনেক ছোট,এজন্য করতে পারছি না’। অধিকাংশ মানুষ ৪০ বছর বয়সেই নিজেকে বয়স্ক মনে করে এবং ২৫ বছরের আগে নিজেকে বড় মনে করে না।

বয়সের এক্সকিউসাইটিস থেকে রক্ষা পাবার উপায়:

  • ‘আগেই করা দরকার ছিল’ এধরনের ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসুন। বরং ভাবুন আমি এখন থেকেই শুরু করব।
  • নিজের বয়স নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। নিজেকে সব সময় তরুণ ভাবুন। এমন কি ৭০ বছর বয়সেও ভাবুন আমি তরুণ। মনে রাখবেন, বারাক ওবামা ৪৫ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭০ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট হন।
  • বয়স কম বলে বড় দায়িত্ব নিবেনা, এটাও মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। একবার, মার্ক জুকারবার্গের দিকে তাকান।

 

৪।ভাগ্যের এক্সকিউসাইটিসঃ

অনেক লোক মনে করে দুর্ভাগ্য তাদের ব্যর্থতার প্রধান কারণ। একসময় এটা তারা এমন ভাবে বিশ্বাস করা শুরু করে যে, নতুন কিছু করার সাহস হারিয়ে ফেলে।

এটা থেকে বের হবার উপায়গুলো হচ্ছে-
১।মনে রাখবেন সফলতার প্রধান কারণ প্রস্তুতি, পরিশ্রম, সফলতার ইচ্ছা।
আপনি যদি সফল ও ব্যর্থ মানুষের জীবন দেখে তবে দেখবেন সফল মানুষ ও বিভিন্ন সময় পরাজিত হয়। তবে তা থেকে তারা শিক্ষা নিয়ে নতুন ভাবে এগিয়ে যায়। আর ব্যর্থ ব্যক্তিরা একে দুর্ভাগ্য মনে করে থেমে যায়।

২। ভাগ্য কাওকে সফল করতে পারে না। ভাগ্যের জোরে কখনও কখনও সাময়িক সাফল্য আসতে পারে । তবে জীবনের দীর্ঘপথে সফলতার জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম।

 

সুতরাং,
সফল ব্যক্তিদের মধ্যে কখনও অজুহাত দেবার প্রবণতা দেখা যায় না। তার মানে কি তাদের জীবনে অজুহাত দেবার বিষয়ের অভাব ছিল।
তাহলে তো রুজভেল্ট বলতে পারতেন তার তো পা দুটো অচল, বন জঙ্গল দাপিয়ে বেড়ান চে গুয়েভারা বলতে পারতেন তার নিউমোনিয়ার কথা, আইস্যান হাওয়ার বলতে পারতেন তার হৃদরোগের কথা, মার্ক জুকারবার্গ এবং বিল গেটস দিতে পারতেন অসমাপ্ত শিক্ষা জীবনের অজুহাত, আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জেক মা চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটি বলতে পারতেন ,আমি তো অক্সফোর্ডেই পড়তে পারলাম না ।

তাই, মেনে চলুন এই নিয়মগুলো, আর সফলতার পথে এগিয়ে যান দৃঢ় প্রত্যয়ে!!

About The Author
Kanij Sharmin
Kanij Sharmin

You must log in to post a comment