কারেন্ট ইস্যু
Now Reading
মাশরাফি- শুভাশিস দের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে!
930 186 0

মাশরাফি- শুভাশিস দের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে!

by Kanij SharminNovember 10, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
0%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

মুল ঘটনা:
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

মিরপুরের এক ব্যস্ত রাস্তা। গরমে ঘামছে পথচারীরা। এর মধ্যেই শোনা গেল শোরগোল। দুই ব্যক্তিকে দেখা গেল মারমুখী অবস্থায়। একজন চল্লিশ ঊর্ধ্ব বয়স্ক ব্যক্তি। আরেকজন ১৪ – ১৬ বছর বয়সী তরুণ। বয়স্ক ব্যক্তিটি রাস্তায় বইয়ের দোকান। শব্দের উচ্চারণ ও খুব ই সুন্দর। কিন্তু এই মুহূর্তে তার চোখ লাল। প্রচণ্ড রাগে কাপতে কাপতে বলছেন, তোর সাহস হল কি করে আমার দোকানের ছাতা ফেলেছিস । বেআদব কোথাকার!
কিশোর ছেলেটাও কিন্তু কম যায় না,
‘আরে আমি ইচ্ছা করে ফেলেছি নাকি, আপনার সাহস হয় কি করে আমার সাথে বাজে ব্যবহার করার।ইচ্ছা থাকলে তো এই বই গুলাও ফালায় দিতে পারতাম।
ছেলেটির পরনে জার্সি আর কাঁধে বড় ব্যাগ। বোঝা যাচ্ছে কোন খেলার সাথে যুক্ত। দরদর করে ঘামছে। হয়ত প্র্যাকটিস থেকে ফিরল মাত্র।
মুহূর্তেই পরিস্থিতি শোচনীয় আকার ধারণ করল। পাশের আরও দোকানি রা এসে বয়স্ক লোকটির পাশে এসে দাঁড়াল। তারাও মার মুখি, বেয়াদব ছেলেটাকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে। ছেলেটার তাতে কোন ভয় নেই। সে পারলে একাই ১০০ জনকে কুপোকাত করে দেয়।
যারা ভাবছিল চমৎকার একটি মারামারি দেখবে, তাদের আশায় গুড়ে বালি দিয়ে, দুজন পথচারী কোন মতে ঝগড়ার মাঝখানে দাঁড়িয়ে মারামারিটা থামাল। ছেলেটা উঁচু গলায় বকতে বকতে চলে গেল। আর দোকানিটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বকতে লাগলো, এখন কার ছেলে পেলে কি পরিমাণ বেআদব হয়।

ঘটনা টা আরও খারাপ কিছু হতে পারত। খুবই দু:খ জনক একটা ঘটনা। মনটা খারাপ হয়ে যাবার মত একটা ঘটনা। তবে মনের একটা সুবিধা আছে দ্রুত বাস্তব জগত থেকে কল্পনার জগতে চলে যাওয়া যায়। আসুন কল্পনা করি ঘটনা তো এরকম ও ঘটতে পারত-

 

কাল্পনিক ঘটনা -১:
প্রচণ্ড গরম। সকাল থেকে প্র্যাকটিস করে কিশোর ছেলেটি ক্লান্ত। রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় ভুলে ধাক্কা লেগে একটা বইয়ের দোকানের পাশে রাখা বড় ছাতা টা পরে গেল। ওমনি তেড়ে এলো দোকানি। শুরু করল অকথ্য ভাষায় গালা গালি। মেজাজ চড়ে গেল ছেলেটির। ঘুরে যেই একটা উত্তর দিতে গেল , তাকিয়ে দেখে বাবার বয়সী লোকটির রাগে দুই চোখ লাল হয়ে আছে। কোন মতে রাগ টা কে নিয়ন্ত্রণ করল।একটু মুচকি হেসে বলল, সরি, চাচা দেখতে পাই নেই। কিভাবে যে লেগে গেল বুঝতে পারলাম না। দাঁড়ান উঠিয়ে দিচ্ছি।
লোকটা বলল, ঠিক আছে, এরপর থেকে একটু দেখে চলবে।

কাল্পনিক গল্প- ২

প্রচণ্ড গরম। রাস্তার পাশের দোকানিদের অবস্থা খারাপ। বেচা- বিক্রিও কম। ঠিক এ সময় কোথা থেকে একটা কম বয়সী ছেলে এসে পরল গিয়ে দামি ছাতাটার উপর। তার মধ্যে ছেলেটার ভাবটাও খুব উগ্র যেন কিছুই হয় নি। মেজাজ আর কিভাবে ঠিক থাকে। মনে হল চড় দিয়ে দাঁত গুলো ফেলে দেই। কিন্তু ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করলেন। বাচ্চা একটা ছেলে। বললেন, বাবা, একটু দেখে হাঁটবে না? আমার দামি ছাতা টা ফালায় দিলা? ছেলেটাও লজ্জিত ভঙ্গীতে সরি বলে চলে গেল।

 

কিন্তু, কল্পনা আর বাস্তবতা এক হয় না। কল্পনায় সব কিছুর সুন্দর সমাধান হয়, অবশেষে তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে থাকিল। আর বাস্তবে এসকল ঘটনা শেষ হয় তিক্ততা দিয়ে। অনেক সময়ই তা গড়ায় আরও খারাপ পরিণতিতে।
আমাদের দেশে এমন ও উদাহরণ আছে। ক্লাসের দুই ক্লাসমেটের সামান্য নোট নিয়ে ঝগড়া অবশেষে দুই রাজনৈতিক দল জড়িয়ে যায়। আর, তাতে মৃত্যু ঘটে একাধিক তরতাজা ছাত্রের। রাস্তার সামান্য এ ধরনের ঘটনা থেকে হয় হাতা হাতি এবং তা রক্তা রক্তি পর্যন্ত ও গড়ায়।

তবে এবার আমাদের দেশের ক্রিকেটার রা সুন্দর একটা উদাহরণ সৃষ্টি করল। বিপি এল এর ম্যাচ চলছে। চিটাগাং ভাইকিংস বনাম রংপুর রাইডার্স।খেলার এমন একটা অবস্থা যে কেও জিততে পারে। টান টান উত্তেজনা ময় অবস্থা। সে অবস্থায় টিভি স্ক্রিন এ দেখা যায় মাসরাফি আর শুভাশিস এর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। শুভাশিস হাত নাড়িয়ে উদ্ধত ভঙ্গী কথা বলছে বয়সে বড় মাশরাফি বিন মুর্তজার সাথে। আর, মাশরাফিও কিছু কথা বলে রাগান্বিত ভঙ্গীতে তাকিয়ে আছে।
মাশরাফি আমাদের ক্রিকেট প্রেমী মানুষের কাছে ক্রিকেটার এর ও ঊর্ধ্বে একজন মানুষ। তার সাথে এমন ব্যবহার অধিকাংশ বাংলাদেশির পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন। টান টান উত্তেজনা । ইতিমধ্যেই সোশিয়াল মিডিয়া গুলোতে শুভাশিস কে হুইল পাওডার দিয়ে এক বার ধুয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু, একি করলেন মাশরাফি। সংবাদ সম্মেলনে কিনা এমন জ্বলন্ত উনুনে পানি ঢেলে দিলেন। বললেন, দুজনেই জিততে চেয়েছিলাম।এরকম অবস্থায় এমনটা হতেই পারে। বড় হিসেবে আমারই সরি বলা দরকার ছিল।

অবশ্য ক্রিকেট আইন অনুসারে অনেকেই মাঠের ঝগড়া সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে কিছু বলেন না। কিন্তু ভিতরে ভিতরে ঠিকই তিক্ততা থাকে। কিন্তু বিষয়টা যে আসলেই মন থেকেই ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গেল কিছু পরেই। ফেসবুক লাইভে দেখা গেল মাশরাফি আর শুভাশিস একজন আরেকজন কে জড়িয়ে ধরছে। শুভাশিস ও সবার সামনে সরি বলল মাশরাফিকে।

mash_subashish.jpg

অসম্ভব সুন্দর একটা পরিণতি। শুধু মাত্র একটু আত্ম নিয়ন্ত্রণ। ঘটনার মোড় ই ঘুরিয়ে দিল। যে দেশে ভার্সিটিতে একটা ছাত্র ঢুকলে ,সিনিয়র দের হাতে হতে হয় র‍্যাগিং এর শিকার। অন্যদিকে বড়দের সম্মান করা বা ভালো ব্যবহার করা প্রায় উঠেই গিয়েছে। এছাড়া অন্য কে সরি বলার সংস্কৃতি আমাদের দেশে একদম নেই বললেই চলে। সেই সাথে নেই কাওকে ছাড় দেবার মানসিকতা।

আসলে অল্প একটু ছাড় দিলেই যে সব কিছু কত সহজ হয়ে যায় তা ক্রিকেটার রা বুঝিয়ে দিল। ধন্যবাদ বাংলাদেশের ক্রিকেটার দের এত সুন্দর একটা উদাহরণ সৃষ্টি করার জন্য।

 

About The Author
Kanij Sharmin
Kanij Sharmin

You must log in to post a comment