মিডিয়া-সিনেমা
Now Reading
BAHUBALI 2 : the conclusion
215 25 0
Copy-Paste Article [Stolen]

BAHUBALI 2 : the conclusion

by Sadik AhmedDecember 9, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
33%
FUNNY
0%
Sad
33%
Boring
33%

“বাহুবলি টু: দ্য কনক্লুশন”-এ দুর্দান্ত ভিএফএক্স সিনেমাটির গল্প আর চরিত্রগুলোকে করে তুলেছে আরও বেশি প্রাণবন্ত। প্রতিটি দৃশ্যে দর্শক যেন হারিয়ে যেতে বাধ্য। “বাহুবলি টু”-র শুরুর দিকে বাহুবলির বীরত্ব আর প্রজাদের প্রতি ভালোবাসা দেখানোর পর বেশ কিছুটা সময় ছিল হাস্য-কৌতুকে ভরপুর। কিন্তু, প্রথম আধঘণ্টা বাদ দিলে বাকি সময় ছিল রাজপরিবারের রাজনীতি, যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র আর দুই ক্ষমতাধর নারীর মধ্যকার বিবাদ নিয়ে টানটান উত্তেজনা।

বাহুবলি রাজা হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে রাজমাতা শিবগামী দেবীর কথায় রাজ্য ভ্রমণে বের হোন। আর ঘুরতে ঘুরতে ঘটনাক্রমে দেখা হয় পাশের রাজ্যের রাজকুমারী দেবসেনার সঙ্গে। দেবসেনার বীরত্ব আর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে পড়েন অমরেন্দ্র বাহুবলি। তাঁর প্রেম পাওয়ার জন্য বোকার অভিনয় করে সেই রাজ্যেই দেবসেনার আশ্রয়ে থেকে যান বাহুবলি। আর তাঁদের মেলানোর জন্য কাটাপ্পার ভূমিকা ছিল বেশ কৌতুকপূর্ণ। বাহুবলি যখন প্রেমে মশগুল তখন রাজমহলে রাজা হতে না পারার কষ্ট নিয়ে বল্লাল দেব বুনতে থাকেন ষড়যন্ত্রের জাল।

বাহুবলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় দেবসেনার সন্দেহ হতে থাকে যে সে ঠিক বোকা একজন লোক নন, সে একজন যোদ্ধা। এর প্রমাণ শেষ পর্যন্ত দেবসেনা পেয়ে যান যখন তাঁর রাজ্য আক্রমণ করে বসে পিন্ডারিরা। বাহুবলির যুদ্ধপটুতা সে যাত্রায় রক্ষা করে কুন্তাল রাজ্যকে। বাহুবলি কুন্তাল রাজ্যের মানুষের কাছে মহান বনে যান। কিন্তু বল্লাল দেবের ষড়যন্ত্রে শিবগামীর আদেশে রাজকুমারী দেবসেনাকে বন্দি করে মহেসমতী নিয়ে যাবার আদেশ পান বাহুবলি। কুন্তাল রাজ্যের রাজা-রানীর কাছ থেকে রাজকুমারীকে বিয়ে করার অনুমতি নিয়ে এবং তাঁর সম্মান ও জীবনরক্ষার পণ করে দেবসেনাকে সঙ্গে নিয়েই বাহুবলি ফিরেন মহেসমতীতে।

Master.jpg

বল্লাল দেবের ষড়যন্ত্রে বাহুবলির বদলে বল্লাল দেবকে রাজা এবং বাহুবলিকে প্রধান সেনাপতি ঘোষণা করেন শিবগামী। রাজমাতার এই আদেশ খুশি মনে মেনে নেন বাহুবলি। দেবসেনাকে বিয়ে করে খুশি মনেই জীবন পরিচালনা করতে থাকেন তিনি। কিন্তু প্রজাদের মধ্যে বাহুবলির জনপ্রিয়তা দেখে হিংসায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে বল্লাল দেবের। বাড়তে থাকে তাঁর ও তাঁর পিতার ষড়যন্ত্রের প্রকোপ। এই হিংসা থেকেই প্রথমে বাহুবলিকে রাজমহল থেকে বহিষ্কার এবং পরে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে বল্লাল দেব।

বাহুবলির মতো বীরকে সাধারণ কাউকে দিয়ে হত্যা করা সম্ভব নয় এটা বুঝতে পেরে বল্লাল দেব রাজমাতা শিবগামী দেবীর কাছে মিথ্যা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে বাহুবলি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রাজমাতা কাটাপ্পাকে হাতে বাহুবলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মতো রাজ আদেশে মহেশমতী রাজ্যের গোলাম কাটাপ্পা হত্যা করে অমরেন্দ্র বাহুবলিকে।

কাটাপ্পার কাছে নিজের সন্তান বল্লাল দেবের মিথ্যে ষড়যন্ত্রের বিবরণ জানতে পেরে শিবগামী অমরেন্দ্র বাহুবলির সদ্যজাত সন্তান মহেন্দ্র বাহুবলিকে মহারাজা ঘোষণা দেন। কিন্তু বল্লাল দেব মহেন্দ্র বাহুবলিকেও হত্যার চেষ্টা করেন। নিজের জীবন দিয়ে শিবগামী কিভাবে মহেন্দ্র বাহুবলিকে বাঁচান এবং মহেন্দ্র বাহুবলির বেড়ে ওঠা ছিলো “বাহুবলি: দ্য বিগিনিং”-এ।

কাটাপ্পার কাছে সব ঘটনা জেনে মায়ের অপমান এবং পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে মহেসমতীতে ফিরে আসেন মহেন্দ্র বাহুবলি। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন রাজপরিবারের গোলাম কাটাপ্পা। কারণ, রাজমাতা শিবগামীর ঘোষণা অনুযায়ী মহেন্দ্র বাহুবলিই মহেসমতীর বৈধ রাজা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বল্লাল দেবের ক্রোধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কুন্দল রাজ্যের জনগণ, মহেসমতীর সাধারণ মানুষ আর কাটাপ্পার অধীনস্থ অল্পকিছু সংখ্যক সৈনিক। যুদ্ধকৌশলে জিতে যায় মহেন্দ্র বাহুবলি। এতে অবসান হয় বল্লাল দেবের আর মহেসমতী পায় তাদের নতুন মহারাজ মহেন্দ্র বাহুবলি।

Prabhas-Actor-image.jpeg

ট্রেড অ্যানালিস্ট তারান আদর্শ টুইটারে লিখেছেন, “অবিশ্বাস্য… অকল্পনীয়… বাহুবলি তুমুল গর্জন দিয়ে শুরু করল… ভেঙ্গে দিল সব রেকর্ড… তৈরি করলো ইতিহাস…।”

প্রথম দিনে যে সিনেমা ১০০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করেছে সামনে সেটি যে আরও কত রেকর্ড ভাঙ্গতে চলেছে তা এখন সময়ই বলে দেবে। আর দর্শকরা তো উন্মুখ হয়েই আছেন তা দেখার জন্য।

ভারতে সিনেমা মুক্তি পেলে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয় ছুটির দিনে। কিন্তু সেই সব হিসাব-কিতাব উল্টে দিয়ে ছুটির দিন ছাড়াই এতোটা ব্যবসা করে সবার চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে বাহুবলি টু।

তারান আদর্শ বিস্ময় নিয়ে লিখেছেন, “প্রজাতন্ত্র দিবস নয়… ঈদ নয়… স্বাধীনতা দিবস নয়… দিওয়ালি নয়… ক্রিসমাস নয়… বাহুবলি টু ছুটির দিন ছাড়াই বক্স অফিসে জাদু তৈরি করেছে…।”

re1pg9jigebhg.jpg

আমেরিকায় তেলেগু, তামিল এবং হিন্দি ভাষায় প্রায় ১,১০০ হলে এবং কানাডাতে ১৫০টিরও বেশি হলে মুক্তি পাচ্ছে “বাহুবলি টু”। এছাড়াও, অন্যান্য দেশে ১,২৫০ হলে দর্শকরা দেখতে পাবেন বাহুবলির নতুন কিস্তি।

আমেরিকাতে সিনেমাটির টিকিট বিক্রি এরই মধ্যে ৩০ লক্ষ ডলার ছাড়িয়েছে। ঘণ্টায় গড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ ডলারের টিকিট। এর মাধ্যমে আমেরিকার বাজারে এটি মুক্তির প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করা সিনেমার তকমা পেয়ে গেছে।

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকারের কাছে প্রতিদিন চারটির জায়গায় পাঁচটি করে প্রদর্শনীর যে অনুমতি চেয়েছিলেন “বাহুবলি টু”-এর প্রযোজকরা তাও পেয়ে গেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

প্রভাষ, রানা, আনুষ্কা, তামান্না অভিনীত সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যে উন্মাদনা তা পুঁজি করতে শুরু করেছেন হল মালিকেরাও। টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতের বিভিন্ন হলে। যেসব হলে টিকিটের দাম ১০০ ও ২০০ রুপি সেখানে ৪০০ ও ৬০০ রুপি পর্যন্ত টিকিটের দাম ধরা হচ্ছে। কোন কোন হলে এর দাম ৯০০ রুপি পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু টিকিটের চাহিদা তাতে কমেনি বিন্দুমাত্রও।

“বাহুবলি টু” তৃতীয় ভারতীয় সিনেমা হিসাবে মুক্তি পাচ্ছে আইম্যাক্স ফরমেটে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্য ফরমেট তো থাকছেই।এর আগে শুধু “ধুম থ্রি” এবং “ব্যাং ব্যাং” আইম্যাক্স ফরমেটে মুক্তি পেয়েছিল।

About The Author
Sadik Ahmed
Sadik Ahmed

You must log in to post a comment