অন্যান্য (U P)
Now Reading
প্রযুক্তির বিবর্তন।
80 10 0

প্রযুক্তির বিবর্তন।

by Mohammad Abubakker MollahDecember 5, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
0%
FUNNY
0%
Sad
100%
Boring
0%

প্রযুক্তির বিবর্তন।

রেডিও আবিস্কারের পর থেকে যদি বলি, একটা সময় ছিলো যখন রেডিও আবিষ্কারটা ছিলো সেই সময়কার যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন। সেই সময়কার সেই আবিষ্কার দেখে, তখনকার মানুষেরা নিশ্চয় খুবই অভিভুত হয়েছেন। কারণ তারা খুব কম মানুষই, এমন একটি আবিষ্কারের কথা চিন্তা করতে পেরেছিলেন। কারণ তখনকার সমাজ ছিলো খুবই পশ্চাদপদ, তখনকার যুগ হিসেবে রেডিওই অদ্ভুত সুন্দর এক আবিষ্কার। কোথায় না, কোথায়, গান বা খবর হচ্ছে, সেইটা তারা শুনতে পাচ্ছেন। সেইটা কি সহজ কথা? আমি শুনেছি, সেই সময়ে অনেক মানুষই নাকি বিশ্বাস করতেন, খুব ছোট ছোট একধরনের মানুষ, যারা এক আংগুল বা তার চেয়েও নাকি ছোট, রেডিওর ভিতরে আছেন, তাঁরাই এই বক্সের ভিতরে কথা বলে, বা খবর পড়ে বা গান গায়। সেগুলোই নাকি মানুষজন শোনে? তখন রেডিওর বক্সটা ছিলো আকারে খানিকটা বড়। তাই এই ভাবনাটাও অনেকের মনে দীর্ঘদিন স্থির হয়ে ছিলো। এর পরে আবিষ্কার হলো টেলিভিশন। এবার তো মানুষের মনে আরোও বিস্ময়! এই বক্স তো শুধু কথাই বলেনা। এখানে সত্যিকারের মানুষও দেখা যায়। আগে কেবল কল্পনা করতো ছোট মানুষগুলো কেমন হতে পারে। এখন দেখে, না তারা তো আমাদের মতোই, আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করা এক জাতের মানুষ। মোটামুটি সেই সময়েই কলের গান নামক যন্ত্রটি আবিস্কৃত হয়। এভাবেই মোটামুটি একটা সময় কাটতে না কাটতেই, আমরা পেলাম টেপ রেকর্ডার। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই, আমরা পেলাম ভিসিপি এবং ভিসিআর। তারপর আমরা পেলাম সিডি ও ডিভিডি। পাশাপাশি ডিজিটাল ক্যামেরা তো আছই। এরপরে আরেকটা নতুন জীনিস আবিষ্কার হলো, সেইটা হলো মোবাইল ফোন। এই মোবাইল ফোন প্রথম দিকে ছিলো,শুধু কথা বলার একটা যন্ত্র। এরপরে দিন দিন কথা বলার এই যন্ত্রই হয়ে গেলো। নানাবিদ কাজের এক দরকারী যন্ত্র।এখন এই যন্ত্রে আমরা সব কিছুই দেখতে পাই। ক্যামেরা, মোবাইল, ছোট টেলিভিশন, বা বিনোদনের নানা উপকরনের একটি যন্ত্র হিসেবে। প্রযুক্তির এই যে দ্রুত পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কিন্তু খুব অল্প সময়ের মাঝেই ঘটেছে। আমরা যারা এসময়ের মাঝে পৃথিবীতে আছি। তারা সবাই পৃথিবীর নিশ্চয় আমাদের থেকে শত বছর আগে, যারা পৃথিবীতে এসে মৃত্যুবরণ কারেছেন, তাদের চেয়ে নি:সন্দেহে ভাগ্যবান। এইসব প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা বিবেচনায়। এখন আবার আমরা যেটা হয়তো কল্পনা করতে পারছি না। সেই চমক হয়তো, আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে আমরা হয়তো জানিও না। আচ্ছা আমরা কি কল্পনা করতে পারি? কি কি আবিষ্কার হতে পারে আগামীতে? কি কি চমক অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। যদিও আমার ব্রেন সেইভাবে শার্প নয়। তাই আমার চিন্তাও ততদুর যাবে না। তারপরেও আমার ধারনা। খুব শিগ্রই মোবাইল ফোনটাকে আরোও ছোট করে ফেলা হবে। আরোও পাতলাও করবে।এমনও হতে পারে, ছোট করতে করতে এটাকে একটি আংগুলের সমান করা হতে পারে। অথবা এমনও হতে পারে, এর প্রয়োজন নাও হতে পারে। হয়তো এমনও সময় আসবে, এই যন্ত্র মানুষ আর ব্যবহার করবে না।নতুন আরোও কোন মাইক্রো ডিভাইস আসবে। সেই ডিভাইস এর জায়গা দখল করবে। সেইসময় এখনকার দারুন দারুন, চমৎকার সব মডেলের মোবাইলগুলোর জায়গা হবে জাদুঘরে। তখন সব মোবাইল দোকানদার গুলো নতুন ডিবাইস বিক্রি করা আরম্ভ করবে। অনেকেই বর্তমানে মোবাইল মেকানিকদের বেকার হয়ে যাবেন। তারপর আর কি করবে? আগামীতে মোবাইল ফোন, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড। এতো ছোট করা হতে পারে, যেইটা ছোট হতে হতে এক ইন্চি পরিমান জায়গায় বা তার চেয়ে ছোট করে নিয়ে আসা হবে। এমনকি সবকিছুই খুবই ছোট একটা চিপের ভিতরে বা ডিভাইসেই নিয়ে আসা হবে। এবং সেই চিপটি মানুষের হাতের বৃদ্ধাংগুলি এবং তর্জনীর ফাকার মাঝে প্রতিস্থাপন করা হতে পারে। তখন কোন ফোন কল আসলে, বৃদ্ধাংগুলির ফাকে থাকা, চিপে টিপ দিলেই কানের মধ্যে আগে থেকেই থাকা, খুব ছোট স্পিকারের মাধ্যমে শব্দ কানে পৌছাবে। আর কঁথা বলতে চাইলে, সবাই তখন ডান হাত বা বাম হাত কেবল মুখের সামনে ধরে রাখবেন। তাতেই অপরপক্ষে হাজার হাজার মাইল দুরে কথা শুনতে পাবেন। আর কল করতে চাইলে হাতের মাঝেই মোবাইলের স্ক্রীনের মত ভাসবে। সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় নাম্বারে অডিও বা ভিডিও কল করা যাবে। আর কোন কিছু কেনাকাটা করার পরে, কার্ড পেমেন্টের দরকার হলে। হাতের মধ্যে থাকা চিপটি স্ক্যান করেই সব কাজ করা যাবে। কারণ হাতের ঐ চিপেই সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। সেই চিপটি স্ক্যান করিয়ে প্রয়োজনীয় পিন নাম্বার চাপলেই চলবে। সেই ডিভাইসেই একেধারে থাকবে,মোবাইল ফোনের সুবিধা, ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা। আইডেন্টিটি কার্ড, ইত্যাদি সবই একটি ডিভাইসেই পাবে মানুষ।এভাবেই একটার পরে আরেকটা প্রযুক্তি, মানুষের প্রয়োজনে মানব সমাজে আসবে। সেইটা আমরা এখন হয়তো কল্পনাও করতে পারি না। আর সেই প্রযুক্তি আমরা হয়তো দেখতে নাও পারি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো দেখতে পাবে সেগুলো।

About The Author
Mohammad Abubakker Mollah
Mohammad Abubakker Mollah

আসসালামু আলাইকুম । আশা করি সবাই ভালো আছেন।

You must log in to post a comment