অন্যান্য (U P)
Now Reading
মেডুসা – সর্পকেশী সুন্দরী
85 17 0

মেডুসা – সর্পকেশী সুন্দরী

by Kazi Mohammad Arafat RahamanJanuary 12, 2018
What's your reaction?
লাইক ইট!
0%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

মেডুসা, গ্রীক মিথোলজির সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র সে। মেডুসা অর্থ ভীতিপ্রদ।

গ্রীক মিথোলজির একটি বিখ্যাত চরিত্র হচ্ছে মেডুসা। আদি দেবতা ফোর্কিস ও সেটো’র তিন কন্যার একজন। এই তিনজনকে একত্রে গর্গন বলা হয়, যার মানে ভয়ংকর নারী! গর্গন বোনদের বাকি দুইজন হচ্ছে স্থেনো ও ইউরিয়েল। এই তিন বোনের মধ্যে মেডুসা ছাড়া বাকি দুইজন ছিলেন অমর। একমাত্র মেডুসাই মরণশীল।

গর্গন বোনদের একসাথে নিয়ে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা নেই, কিন্তু মেডুসাকে নিয়ে বেশ কিছু মিথ রয়েছে।
মেডুসা ছিলেন সোনালি চুলের এক অপূর্ব সুন্দরী কুমারী নারী ! তিনি দেবী এথেনার মন্দিরের ধর্মযাজিকা ছিলেন। অধিকাংশ ভক্তরা প্রতিদিন মন্দিরে আসতই শুধুমাত্র মেডুসার রূপের জন্য। ভক্তরা মেডুসার রূপ, গুণের প্রশংসায় মুখর ছিল । মেডুসার রূপে-গুণে দেবী এথেনা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন!

মেডুসা একদিন সমুদ্রপাড়ে গেলে সমুদ্রদেবতা পোসাইডন এর নজরে পড়েন। সে তার রুপে বিমোহিত হয়ে পড়ে। পোসাইডন মেডুসাকে প্রস্তাব দেয় বিয়ে করার, কিন্ত তিনি সদা কুমারী থাকতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি ধর্মযাজিকা ছিলেন। পোসাইডন অত্যন্ত রেগে যায়,মেডুসার প্রত্যাখ্যানে।পোসাইডন মেডুসাকে ধরতে উদ্যত হলে, তিনি দৌড়ে মন্দিরে পালিয়ে আসেন এবং দেবী এথেনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। মেডুসার রুপে আকর্ষিত সমুদ্রদেবতা পোসাইডন এথেনার মন্দিরেই তাঁকে ধর্ষণ করেন (গ্রীক দেবতাদের স্বাভাবিক অভ্যাস)! এথেনা তাঁর মন্দিরে এমন একটি ঘটনা ঘটায় ক্ষেপে যান!!! যেহেতু তিনি পোসাইডনকে কিছু বলতে পারবেন না (কারণ পোসাইডন দেবী এথেনার চাচা) তাই তাঁর সব রাগ মেডুসার ওপর ঝাড়েন এবং অভিসম্পাত করেন ।
মেডুসার অপূর্ব সুন্দর চুল পরিণত হয় বিষাক্ত সাপে, কোমল চোখজোড়া রুপান্তরিত হয় মৃত্যুর দূত হিসেবে, দুধে আলতা ত্বক সাপের চামড়ার মতো সবুজাভ হয়ে যায় আর কোমর থেকে হয়ে যায় সাপের লেজ! মেডুসার পক্ষ নিতে যাওয়ায় তাঁর বাকি দুই বোনকেও শাস্তিস্বরূপ এমন কুৎসিত করে দেয়া হয়।

নিজের কুৎসিত অবস্থা দেখে মেডুসা বাড়ি ছেড়ে দূরে চলে যান এবং তাঁর ক্ষোভ পরিণত হয় হিংস্রতাতে। তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরতে থাকেন একটু শান্তি পাবার আশায়, তখন মাথা থেকে মাঝে মাঝে সাপ খসে পড়তো সেখানকার মাটিতে। সেজন্যেই নাকি আফ্রিকাতে নানা ধরণের বিষাক্ত সাপের আবাস!

মেডুসার অস্ত্র ছিল একটি বড় ধনুক। কিন্তু আসল অস্ত্র ছিল তাঁর চোখ। ওই চোখে যে চোখ রাখতো, সঙ্গে সঙ্গে সে পাথরে রুপান্তরিত হতো। যারা তাঁর গুহায় তাঁকে হত্যা করার জন্য যেত, কেউই আর ফেরত আসতো না।

আর্গোস রাজ্যের রাজা ও রাণী দেবতাদের অবমাননা করায় দেবতারা ক্ষেপে ক্র্যাকেন নামের বিশাল জলদানব পাঠায় তাঁদের ধ্বংস করার জন্য! যেই দানবকে হত্যার কোন অস্ত্র ছিলোনা। দেবতারাও যাকে ভয় করতো। শর্ত ছিল রাজকুমারীকে বলি দিতে হবে ক্র্যাকেনএর কাছে, নইলে সবাইকেই মরতে হবে। পরে জানা গেল একমাত্র মেডুসার চোখের দৃষ্টিই পারবে ক্র্যাকেনকে হত্যা করতে। শেষে জিউসের পুত্র পার্সিয়াস রাজকুমারীকে রক্ষার জন্য রওয়ানা হলেন মেডুসাকে হত্যা করার জন্য, এবং পার্সিয়াস মেডুসার মাথা কাটতে সফল হন। এবং সেই মাথা ক্র্যাকেনের সামনে ধরে ওকে পাথরে রুপান্তরিত করে ফেলে।

মেডুসাকে হত্যার পর পরই তাঁর কাটা মাথার জায়গা থেকেই জন্ম হয় পেগাসাস ও ক্রিসেওর এর! কারণ মেডুসা পোসাইডনের ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী ছিলেন।

মেডুসাকে দানবী হিসেবে ধরা হলেও সুরক্ষা চিহ্ন হিসেবে অনেক বর্ম ও ঢালের গায়ে এর মাথার চিহ্ন খোদাই করা হতো। অনেক প্রাচীন মুদ্রাতেও এর চিহ্ন পাওয়া যায়। শুধু প্রাচীন কালেই নয়, মেডুসা বর্তমান আধুনিক সভ্যতায় ও জায়গা করে নিয়েছে । বিখ্যাত ইতালিয়ান ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভার্সাচি (Versace) এর লোগোতেও স্থান পেয়েছে তাঁর বিখ্যাত মাথা।

About The Author
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
Kazi Mohammad Arafat Rahaman

পড়াশোনা – ব্যাচেলর করছি কম্পিউটার সায়েন্সে।
ভাল লাগা – গান, ফুটবল আর বই।
খারাপ লাগা – নাই। খারাপ লাগেনা। অনুভূতিহীন।
শখ – অনেক আছে।
লক্ষ্য – ইন্টারপ্রেনার হতে চাই।

You must log in to post a comment