সমসাময়িক চিন্তা
Now Reading
বৈষম্য বনাম মানব শক্তি
335 57 0

বৈষম্য বনাম মানব শক্তি

by Rahat AraMay 18, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
100%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নারী শক্তির বিষয়ে কথা বলতে গেলে বলবো, আমাদের দেশের নারীরা পার্শ্ববর্তী বেশকিছু দেশের তুলনায় চিন্তাশক্তির দিক থেকে এবং পদচারনায় স্বাধীন।

পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েক দেশেই নারীরা পেশাগত দিক বা শিক্ষাজীবন কোনটাতেই স্বাধীন নয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। তাছাড়া, কর্মক্ষেত্রের প্রতিটা জায়গায় নারীদের সফল পদার্পণ রয়েছে।

এসবই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ এবং মানবীয় গুণাবলী রয়েছে বলে। এখানে নারী বা পুরুষ আলাদা করে বলাটা প্রয়োজন বলে মনে করি না। এসব সম্ভব হয়েছে নারী এবং পুরুষের একত্রীত ভূমিকা পালনের মাধ্যমে।

আর যারা ধর্ষক, তাদের পুরুষ বলাটা কি ঠিক হবে? ওদের না হয় গ্রীষ্মের পাগলা কুকুর বলি। ধর্ষকদের পুরুষ বললে পুরুষ জাতীকে অপমান করা হবে। মিউনিসিপালিটি থেকে অনেক সময় রাস্তার পাগলা কুকুর গুলোকে মেরে ফেলার দায়িত্ব নেয়া হয়। ঠিক তেমনি ভাবে এই পুরুষ রুপী কুকুরগুলোকে একদম নিঃশেষ করে দেয়া উচিৎ, যেন তাদেরকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে কোন একটি জাতীকে ছোট করে কথা বলার সুযোগ না থাকে।

আমাদের সমাজের প্রচলিত কিছু কথা রয়েছে যা মানুষকে মানুষ হতে বাঁধা দেয়। যেমন- “পুরুষ মানুষ তো একটু এমন-ই হয়” , “মেয়েটা কি করে ভুল করলো?”

যারা এইসব বলে, তারা কি বোঝে যে এসব কথা দুটি পক্ষের জন্যই অপমানজনক? এভাবে তারা এক পক্ষকে হিংস্র জন্তু এবং অন্য পক্ষকে ঘরের কোণের ইঁদুরের সাথে তুলনা করে। তার থেকে অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ থাকবে,”আপনারা সন্তানদের মানুষ করুন, হিংস্র জন্তু বা ঘরের কোণের ইঁদুর নয়।“

আমরা মাদার তেরেসার কথা শুনেছি, শুনেছি লালন ফকিরের কথা। তাদের নারী বা পুরুষ এমন বিশেষণে বিশেষিত করলে মনে হয় তাদের মানবতার বিস্তারকে দেয়ালবন্দি করা হলো। আসলে তারা ছিলেন প্রকৃত মানুষ। আর সেই মানুষদের সম্পর্কে জানলে ইচ্ছা হয় একজন প্রকৃত মানুষ হই।

নারী-পুরুষের সম অধিকার নিয়ে কিছু মানুষের বিরোধীতা দেখা যায়। বিশেষ করে বাসে উঠলে বুঝতে পারা যায় বিষয়টি। কিছু আসন নারি,শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছু পুরুষ তিক্তস্বরে বিড়বিড় করে বলে,”সম অধিকার চায়, আবার শিশু-প্রতিবন্ধীদের সাথে নিজেদের সামিল করে কেন?” হাঁসি পায় শুনলে। কারণ ঐ বেচারাগুলো মেয়েদের সাথে বসতে না পেরে মনের কষ্টে এসব বলে। পাল্টা প্রশ্ন যদি তাদেরই করি, “বাসে নিয়মিত চলাচলের জন্য আপনি আপনার পরিবারের নারী সদস্যদের কোন আসনগুলোতে বসতে সাজেস্ট করবেন?” জানি উত্তরটা। মুখে না বললেও সেই নির্ধারিত আসনগুলোতেই বসতে বলবেন নিরাপত্তার জন্য। প্রশ্নটা অধিকারের নয়, সম্মানের। কারণ, অনেকেই পাশে বসা মেয়েটির সাথে অশোভন আচরণ করে, আবার ভাব দেখান কিছুই বোঝেননি। তবে মেয়েদের নিয়ে সব পুরুষই হাঁসি ঠাট্টা করেননা। অনেকে আছে যারা মেয়েদের দাড়িয়ে থাকতে দেখে নিজের আসন ছেড়ে দেন।

অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরাও তাদের প্রাপ্ত সম্মানের অপব্যাবহার করে। যানবাহনে বৃদ্ধলোককে দাড়িয়ে থাকতে দেখেও বসার জায়গা দেয়না। কারণ আসন সীমাবদ্ধতার তালিকায় নারীদের সাথে বৃদ্ধদের নাম নেই। শুধু সুযোগ গ্রহন করবো কিন্তু কাউকে সুযোগ দেবোনা, এটা কোন মানবতার মধ্যে পড়ে? আমি আমার এক বান্ধবীকে দেখেছি, বৃদ্ধ, অসুস্থ, অসহায় লোককে দেখলে নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে তাদের বসার ব্যবস্থা করে দেয়। আমি ওর কাছ থেকে শিখেছি এবং আমি বিশ্বাস করি এভাবেই সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

তাই বলবো, পুরুষ এবং নারী একে অপরকে সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সুস্থ সমাজ  ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। নারীর পক্ষে এবং নারীর বিপক্ষে, এই দুইটি দলের জন্ম হয় মূলত পরিবার থেকে। নারীর প্রতি সম্মানবোধ পারিবারিক ভাবেই শিশুকাল থেকে শিখতে হয়, শেখাতে হয়। ছেলে বাচ্চা যখন কাঁদে, অভিভাবক বলেন,” ছিঃ, ছেলেদের কাঁদতে হয় না।“ এভাবে শিশু থেকে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের মাঝে বৈষম্য তৈরি করে দেয়া হয়। কষ্ট পেলে কাঁদবে, এটাইত স্বাভাবিক। কেন বাচ্চার কোমল মনে এভাবে কঠোরতার শিক্ষা দেয়া হয়?

রায়টের সময় হিন্দু-মুসলিম একে অপরকে বিপক্ষ দল ভেবে খুন রাহাজানির নোংরা খেলায় মত্ত ছিল। নারী এবং পুরুষের মাঝে যদি এরকম মানসিক যুদ্ধ চলে, তবে আমরা একটি অসুস্থ সমাজ ব্যবস্থা পাবো।

চলুন কল্পনার একটা খেলা খেলি মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য। নারীরা কল্পনা করুন পৃথিবীতে পুরুষ নেই, আর পুরুষরা কল্পনা করুন পৃথিবীতে নারী নেই। এটাও ধরে নেই বংশবৃদ্ধির জন্য কাউকে কারো উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। কি হবে তখন? থাকবে কি পৃথিবীতে কোন ছন্দ ? কারই কি মনে হচ্ছে না , জীবন স্থির? হুম, সত্যি স্থির। দুটি সত্তার আবির্ভাব পৃথিবীতে অকারণে হয়নি। অনেক সৃষ্টিশীল কর্ম সম্ভব হয়েছে আমাদের সহাবস্থানের মাধ্যমে। আমরা একত্রে সমাজের রোগ গুলোর চিকিৎসা করতে পারি। কোন বাবা চায়না তার মেয়ে সমাজে একটি ভালো অবস্থানে থাকুক, আর কোন ভাই চায়না তার বোনের নিরাপত্তা। তাই বিশ্বাস করতে চাইনা, পুরুষরা নারী বিরোধী বা নারীরা পুরুষ বিরোধী।

সমাজ ব্যবস্থাকে ইতিবাচক করতে হলে আমাদের চিন্তা চেতনার পরিবর্তন দরকার। ইন্টারনেট ব্যবহার করে আধুনিক হওয়া ভালো। কিন্তু আধুনিকতার অর্থ অশালীনতা না । আধুনিকতার অর্থ উন্নত মানসিকতার মাধ্যমে মানব সত্তাকে জাগ্রত করা।

“একটি মেয়েকে দেখতে ভালো লাগছে” আর “একটি মেয়েকে দেখতে আবেদনময়ী লাগছে”, দুটি বাক্য কিন্তু এক অর্থ বহন করছে না। আমি যেহেতু একজন নারী, তাই আমি চাইব নারীদের দেখতে “ভালো” লাগুক, “আবেদনময়ী” নয়। “আবেদনময়ী” শব্দটা না হয় শুধুমাত্র সেলিব্রেটিদের জন্য তুলে রাখি। নারীরা পণ্য নয়, এটা উভয় পক্ষকেই মনে রাখতে হবে।

আমরা যদি আমাদের পার্শ্ববর্তী মানুষগুলোর ভুলগুলো একটু সংশোধন করে দেই, তবে হয়তো সমাজের অপরাধ কমে যাবে, কোন বৈষম্য থাকবে না। তাই, নারী বা পুরুষ শক্তিকে নয়,চলুন মানব শক্তিতে বিশ্বাস করি এবং সম্মান প্রদর্শন করি একে অপরকে।   

About The Author
Rahat Ara
Rahat Ara

I am Rahat. I am a BBA student. writing is my hobby. In my free time I like to read books and love to enjoy sci-fi movies. I want to be a Chartered accountant.

You must log in to post a comment