খেলাধূলা
Now Reading
মাশরাফির টি-টোয়েন্টি বিদায়! বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে ভবিষ্যৎ
205 37 0

মাশরাফির টি-টোয়েন্টি বিদায়! বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে ভবিষ্যৎ

by Rakiiib Al HasanMay 18, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
0%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

নড়াইল থেকে খুলনায় যাত্রা শুরু হয় মাশরাফি এক্সপ্রেসের। খুলনা থেকে প্রথম সফর নাইরোবিতে। এরপর জোহানেসবার্গ, কেপ টাউন, নটিংহ্যাম, করাচি,  ব্রিজটাউন, গ্রস ইসলেট,  বেলফাস্ট, পাল্লাকেলে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ধর্মশালা, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, নেপিয়ার ও মাউন্ট ম্যাঙ্গানুই ‘স্টেশনে’ যাত্রা বিরতি দিয়েছেন মাশরাফি। হাজারো অলি-গলি, রাস্তা-ঘাট, হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে মাশরাফি এক্সপ্রেস এসে থেমেছে শ্রীলঙ্কার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। দায়িত্ব নিয়ে দলকে দিয়েছেন আত্মবিশ্বাস, বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের সাহস। সেই আত্মবিশ্বাস, অনুপ্রেরণায় মাশরাফির নেতৃত্বে একের পর এক সাফল্যের জোয়ারে ভাসতে থাকে বাংলাদেশ। একটা সময় ছিল তখন মাশরাফি ছাড়া আর কোনো নিয়মিত পেস বোলার ছিল না বাংলাদেশ ক্রিকেটে। মাশরাফির পেস দাপটের প্রায় এক যুগ পর গতিদানব মাশরাফিকে অনুসরণ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আসে আজকের মোস্তাফিজ, তাসকিন, রাব্বি, সাইফুদ্দীন। তারা সবাই রোল  মডেল মানেন তাদের মাশরাফি ভাইকে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে পৌঁছানোর পেছনে মাশরাফির কি অবদান, মাশরাফি কত যোগ্য ক্যাপ্টেন, কত বড় নেতা বা কত বড় মনের মানুষ সেটা নিয়ে এই পর্যন্ত লাল-সবুজের দেশের মানুষ  দিস্তার পর দিস্তা কাগজ লিখে শেষ করে ফেলেছে। এই মাশরাফিকে নিয়ে নতুন করে বলার জন্য মোট আর কিছুই নেই। মাশরাফি মর্তুজা এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড বা প্রতীক, তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের সবচেয়ে কাছের মানুষ, বারবার ইঞ্জুরিতে পড়েও তিনি উঠে দাঁড়িয়েছেন ১৬ কোটি মানুষের জন্য। মাশরাফি শুধু নিজেই উঠে দাঁড়ায়নি দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে, দেখিয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য সাহসিকতা। লাল-সবুজের পতাকা মাথায় নিয়ে ইতিহাসের পর ইতিহাস গড়ে দিয়ে যাচ্ছেন এই মাশরাফি।

 ব্যক্তি মাশরাফি বা ক্রিকেটার মাশরাফির জীবনে অর্জনের কোনো শেষ নেই, তবে আমি যদি একই ভাবে প্রশ্ন করি মাশরাফির জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কি? আপনাদের শত শত উত্তর থাকতে পারে তবে আমার উত্তরটা খুবই সোজা। মাশরাফি হলেন বায়ান্ন আর একাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের যেকোনো প্রজন্মের জন্য সর্বপ্রথম কোনো অবিসংবাদিত নেতা বা ব্যাক্তিত্ব। আপনি আরেকবার ভেবে দেখুন, এটাই সত্যি! আমারা বাঙালি জাতি তার সারাটা জীবন চোখের জল ফেলেছে ফুটবল সুপারস্টার পেলে থেকে বর্তমান রোনালদো কিংবা মেসি-নেইমারদের জন্য। একজন শচীন টেন্ডুলকা্রের বিদায়ে চোখ ভিজে উঠতে দেখেছি বহু জাতির। কিন্তু বাঙ্গালী জাতি এই প্রথম হয়ত আমরা আমাদের একান্ত আপনজন এক কিংবদন্তীকে পেলাম। আর তার নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা!

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্যাপ্টেন মাশরাফির শেষ আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ। দেশের জার্সিতে আর কখনো নামা হবে না বিশ ওভারের এই খেলায়। এই ফরম্যাটে আর কখনো প্রতিনিধিত্ব করবেন না প্রিয় দেশকে। গত চার এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে মাশরাফি ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্র সংস্করণ থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে তাঁর অবসরের খবরটি শুধু ধাক্কা হিসেবেই আসেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের সামনে, সেই সাথে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাগ্য প্রসঙ্গেও তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি দলে। ছিলেন, দলের খেলা শেষ টি-টোয়েন্টিতেও। তবেমএই সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটটা কখনোই ঠিক উপভোগ করেননি মাশরাফি মুর্তজা। তবু অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে মনোযোগ বাড়িয়েছিলেন এই ফরম্যাটের ক্রিকেটেও। ইচ্ছে ছিলো ওয়ানডের মতো টি-২০তেও বাংলাদেশ দলকে দাঁড় করাবেন শক্ত একটি ভিতের উপর। তবে তা করার আগেই হুট করেই টি-২০ ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিলেন অধিনায়ক।

মাশরাফি বিন মর্তুজার বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে আগেই প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছিলেন সাকিব-মিরাজরা। ২২ গজে শেষ টি-টোয়েন্টিতে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞার প্রমাণ দিয়ে রাখলেন তারা। কলম্বোতে ব্যাটে-বলে অসাধারণ নৈপুণ্যে দেখিয়ে শেষ টি-টোয়েন্টি ৪৫ রানে জিতেছে মাশরাফির বাংলাদেশ। ইনিংস জুড়ে মাঠে জান-প্রাণ দিয়ে ফিল্ডিং করেছেন ক্রিকেটাররা। বুঝিয়ে দিয়েছেন, জিততে কতটা মরিয়া তারা। ম্যাচ শেষ হতেই সবাই ছুটে গেছেন মাশরাফির দিকে। গোটা দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মাশরাফি। টি-টোয়েন্টিতে শেষবার!

মাশরাফি মর্তুজা একজন লড়াকু সৈনিক। চোট তার ক্যারিয়ারকে পদে-পদে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাতবারের মতো হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মনোবলই মাশরাফিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সফল অধিনায়কে পরিণত করেছে। বাংলাদেশ এক্সপ্রেসের নেতৃত্বেই লাল-সবুজ জার্সিতে বদলে গেছে বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক মাশরাফি টি-২০ ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও  তার বিশ্বাস সতীর্থরা এগিয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ দলে সিনিয়র যারা আছে তাদের সঙ্গে প্রতিভাবান কিছু তরুণ ক্রিকেটার রয়েছে। তাদের কাছেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যত।

২০০৬ সালে আর্ন্তজাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৬৭টি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ৷ তার মধ্যেই ক্রিকেটবিশ্ব দেখছে অনেক রোমাঞ্চকর রূপকথা। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সফলতা পেয়েছে, ঠিকই৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সফলতা টোটাল টিম নির্ভর হয়নি, অনেকটাই হয়েছে গুটিকয়েক খেলোয়াড় নির্ভর৷ ফলে এই সফলতা দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হয় না৷ টি-২০তে তামিম-সাকিবদের ব্যক্তিগত পারফরমেন্স অনেক উঁচুতে৷ কিন্তু তাঁদের সঙ্গে দলীয় পারফর্ম্যান্স সেই উচ্চতায় যায়নি৷ টাইগারদের টি-টুয়েন্টির ভবিষ্যত আর ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে হাতের কাছে আনতে হলে সৌম্য-সাব্বিরদের সাথে এগিয়ে যেতে হবে তরুণ মোসাদ্দেক-মিরাজদের। অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ের দিন বাংলাদেশের ৬৭ নম্বর টি-টুয়েন্টি ম্যাচে টাইগারদের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের কীর্তিই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা। তরুণরা পারফর্ম করছে, ভবিষ্যতে ওরা আরো ভালো খেলবে। এখান থেকেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট।

                                                                                                                         ভালো থাকুক মাশরাফি! ভালো থাকুক বাংলাদেশ ক্রিকেট!

About The Author
Rakiiib Al Hasan
Rakiiib Al Hasan

You must log in to post a comment