অন্যান্য (U P)
Now Reading
পুলিশ বনাম ছাত্র
1100 194 1

পুলিশ বনাম ছাত্র

by Mominul H RakibMay 20, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
50%
FUNNY
0%
Sad
50%
Boring
0%

নাশকতাকারীদের নিয়ে কিছু কথা:

আজকে আমি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঢাকার অন্যতম স্বনামধন্য কলেজ সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্রদের ফার্মগেটে বাসা ভাঙা নিয়ে যে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে কথা বলবো।   গত ১৪/০৫/২০১৭ ইং তারিখে সরকারি  বিজ্ঞান কলেজের কয়েকজন ছাত্র পরিক্ষা শেষ করে ফার্মগেট থেকে গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে শিকড় পরিবহণের বাসে উঠে। বাস শাহবাগের কাছাকাছি আসার পর বাসে কন্ট্রাক্টর ছাত্রদের কাছ থেকে ভাড়া খুজলে ছাত্ররা তাকে হাফ ভাড়া দেয়ার পর সে ছাত্রদের গালি দেয় তখন ছাত্ররা তার প্রতিবাদ করলে শাহবাগে শিকড় বাসের অন্যান্য ড্রাইভার, হেল্পার এবং কন্ট্রাক্টরেরা মিলে ছাত্রদের প্রচন্ড মারধর করে।  একজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলো ওই বাসের লোকেরা।  ছাত্ররা সেখান থেকে মার খেয়ে এসেছে কারো সাহায্য ছাড়া।  পরেরদিন পরিক্ষা দেয়ার পর সরকারি বিজ্ঞান কলজের সকল শিক্ষার্থী এই অন্যায় এর প্রতিবাদের ফার্মগেট অবস্থান করে এবং ৩ টি শিকড় বাস কে থামতে বলে কিন্তু বাসের ড্রাইভার বাস না থামানোর ফলে ছাত্ররা বাসে আঘাত করতে বাধ্য হয়। ছাত্ররা তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনার এক পর্যায়ে পুলিশ বাধা দেয়।  পুলিশ তাদের ছেলের বয়সী ছাত্রদের যুক্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ করে,  মারধর করে এবং বাবা মাকে নিয়ে গালাগালি করে নিজেদের ছোটলোকির পরিচয় দিয়েছে।  ওইদিন তারা বিজ্ঞান কলেজের ২জন শিক্ষার্থী কে গ্রেফতার করে পরে ছাত্রদের তীব্র চাপের মুখে পুলিশ ওই ২জন ছাত্রকে ছেড়ে দেয়।  কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ হয় নাই ১৫ তারিখ রাতেই দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলো ইনিয়েবিনিয়ে পুলিশ ও পরিবহণ শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে নিউজ পাবলিশ করতে থাকে। দেশের জনপ্রিয় নিউজপেপার তাদের প্রতিবেদনের ছাত্রদের নাশকতাকারী বলে উল্লেখ করেছে । নিজেদের উপর জুলুমের প্রতিবাদ করা যদি নাশকতা হয় তাহলে ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের নায়কেরাও নাশকতাকারী ছিলো। দেশের প্রায় প্রতিটি নিউজ পোর্টালেই বিজ্ঞান কলেজের ছাত্রদের গুন্ডা বলে আখ্যায়িত করা হয়।  পরেরদিন সকালে ছাত্ররা কলেজে গিয়ে তাদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ  স্বরূপ ফার্মগেটে অবস্থান করে তখন তারা একটি লাব্বাইক বাস আটকে রাখে হাফ পাশ না রাখার কারণে কিন্তু সাথে সাথেই পুলিশ এসে ঘটনা না শুনের ছাত্রদের গালাগালি করতে থাকে এবং ২ জন কে এরেস্ট করে।  তখন ছাত্ররা তাদের অধিকার এর কথা পুলিশের কাছে উপস্থাপন করে কিন্তু তারা কোনো কিছু না শুনেই এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়।  এরপর ধফায় ধফায় ছাত্ররা পুলিশের সাথে কথা বলে তাদের দাবী তুলে ধরার ট্রাই করেছে কিন্তু পুলিশ প্রতিবার ছাত্রদের রাইফেল দিয়ে মেরে, ফাকা গুলি ছুড়ে এবং লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিয়েছে।  পরবর্তীতে পুলিশের  তেজগাঁও  জোনের উপ-কমিশনার বিজ্ঞান কলেজে এসে ক্ষমা চেয়ে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে গেছেন কিন্তু আফসোস আমরা এখনো হাফ ভাড়া দিতে পারি না।  এখনো আমরা বাসে উঠতে গেলে গেট অফ করে দেয়া হয়।  এখানে কিছু কিছু বাসের নাম উল্লেখযোগ্য : লাব্বাইক, ওয়েলকাম, শিকড়,এয়ারপোর্ট বংগবন্ধু এভিনিউ ইত্যাদি।

এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন:

সরকার কর্তৃক প্রণীত ছাত্রদের জন্য হাফ পাশ আইন বাস্তবায়নের জন্য কেনো আজ এই মেধাবী ছাত্রদের রক্ত জড়াতে হচ্ছে…??

কেনো আজ তাদেরকে রাস্তায় বাসের হেল্পারদের থেকে মার খেতে হচ্ছে…?

কেনো আজ পুলিশ দেশের ভবিষ্যৎ কে এভাবে রাস্তায় ফেলে পিটাচ্ছে…?

আমরা ছাত্ররা যখন দেশের বিপদে এগিয়ে আসি তখন আমরা হিরো কিন্তু যখন নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথ আগলে থাকি তখন আমরা গুন্ডা, মাস্তান। যারা এইসব ভালোমানুষির মুখোশ পরে কথা গুলো বলছেন তারা একবার ভেবে দেখবেন আমাদের রক্ত আর পরিশ্রমের বিনিময়েই আপনার সন্তান বাসে হাফ পাশ দিতে পারছে।

অবশেষে আমি এতটুকুই বলবো যে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে এই গুন্ডাগুলোই এগিয়ে আসে।

ভালো থাকুক ভদ্রতার মুখোশ পরা মানুষগুলো।

About The Author
Mominul H Rakib
Mominul H Rakib

You must log in to post a comment