পাবলিক কনসার্ন
Now Reading
সাবধানতার মোড়কে যৌনতার ডামাঢোল
1115 223 0

সাবধানতার মোড়কে যৌনতার ডামাঢোল

by Rajib RudraMay 20, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
0%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

মানব সভ্যতার বিবর্তনের যে বাহ্যিকতা তার অনেকটাই মানুষের নানান কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিয়ত পরিবর্তিত হয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।আমরা যদি লক্ষ্য করি বাংলাদেশ স্বাধীন ভূ-খন্ড হওয়ার পর থেকে সার্বিক অর্থে বাংলাদেশের যে সভ্যতার বিকাশ,মানবীয় আচরণ ও গুণাবলির বিকাশ পাশাপাশি সৃজনশীলতার পরিচায় বহনকারী কার্যাবলীর যে নমুনা তার অনেকটাই আধুনিকতার মোড়কে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রসর হয়েছে বাংলাদেশের মিডিয়া।

স্বাধীনতা পরবর্তী যাবতীয় কর্মকান্ডের কৃতিত্ব বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা দাবি করতে পারি।আমাদের স্বভাবজাত একটা অভ্যাস যেটা কিনা অনেকাংশে বদভ্যাস বলা যায়।আমরা নতুনকে আহবান করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভিনদেশী সংস্কৃতিকে কাছে টেনে নিচ্ছি। এটা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে তাই চাইলেও আমরা এই চক্রাকার গন্ডি থেকে বের হতে পারি না।

বিদেশী সংস্কৃতি বা মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত একটা আগ্রাসনের শিকার হতে যাচ্ছি।এই যে আগ্রাসন তা ক্রমশ আমাদেরকে অক্টোপাসের মত ঘিরে ধরছে যা জাতির স্বকীয়তাকে ভঙ্গুর করে দিবে।সম্প্রতি যে আগ্রাসন আমাদের সংস্কৃতির উপর বিরুপ প্রভাব রাখছে তা বর্তমান প্রজন্মকে বিপদগামী যেমন করছে তেমনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে দিগভ্রান্ত করে তুলবে।তাই এই বিষয়ে আমাদের সোচ্চার হওয়া জরুরী কেননা হেলায় গা ভাসিয়ে আমরা কোন একটা সংকটময় পরিস্থিতির নীরব দর্শক হতে পারি না।

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে আমরা বিনোদনের জন্য জাদুর বাক্সরুপী টেলিভিশনের উপর আকর্ষিত হয়ে যাচ্ছি।টেলিভিশনের প্রাণ মূলত বর্তমান সময়ের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ।এই স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আপনার কাছে বাহারি অনুষ্ঠানের পসরা সাজিয়ে বসে আছে।আপনার আমার কৌতুহলী মন তা কোনভাবেই অবহেলা করতে পারবে না।এটাই স্বাভাবিক কেননা নিয়ত নতুন কিছু আমার জানার আগ্রহ যেমন বৃদ্ধি করে তেমনি নিজেকে আত্মতৃপ্তিতে ভোগায়।

আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির উপর যে বিরুপ প্রভাব পড়ছে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর জন্য তা কোনক্রমে অস্বীকার করার উপায় নেই।এটাকে আপনি প্রকরান্তরে সামাজিক আগ্রাসন বলতে পারবেন।

বর্তমানে মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা তা যখন প্রকট আকার ধারণ করে, তখন নিজের অবস্থান সমন্নুত রাখতে নিজেকে জয়ী হিসেবে দেখতে যেকোন কিছু করতে রাজি হয়।এই যে নিজের সাথে প্রতিযোগিতা ও এক ধরনের স্বার্থান্বেষী মনোভাব তার শুরুটা হয় পরিবার,বাবা,মা,ভাই-বোন প্রতিবেশী ও বন্ধু স্বজন এদের যে কাউকে কেন্দ্র করে। এই ধরনের সমস্যা যখন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তখন সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সমাজের প্রতিটা স্তরে এসব কার্যাবলির কারণে প্রভাবিত হয়। তখন সমাজে বসবাসকারী মানুষ আবার নতুন কোন উৎস বা পথের সন্ধান করে। এই ধরনের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক সমাজ বিশ্লেষকদের মতে সমাজে এই যে নেতিবাচক কর্মকান্ড তাতে সম্পৃক্ততা যাদের তারা সংখ্যায় কম কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোন সুচিন্তিত পদক্ষেপ না থাকাতে এক সময এগুলো মহীরুহে পরিণত হয়।

মানুষের যে অভিযোজন ক্ষমতা তার কল্যাণে প্রকৃতির নানান পরিবর্তনের সাথে তার খাপ খাইয়ে নেয়ার একটা মানসিক ক্ষমতা অন্তনির্হিত শক্তি বিদ্যমান রয়েছে।এই গুণাবলির কারণে সমাজের ভারসাম্য এখনো অটুট রয়েছে।

সমাজ সংস্কারক বা নীতিনির্ধারকরা এই সকল সসম্যা সমাধানকল্পে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়। এই কর্তৃপক্ষের বাইরে গিয়ে সমাজে বসবাসরত মানুষের জন্য কিছু একটা করার দায়বদ্ধতা রয়ে যায় মিডিয়ার,কেননা এই মিডিয়া কেবল বর্তমানে সবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারে।এই প্রসঙ্গে সমাজের কল্যাণের জন্য কিছু করাটা তাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে।

আমরা দেখি জাতীয় ও আন্তজার্তিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ পরিসর থেকে তাদের সক্ষমতার আলোকে অনেক কিছু করছে।এই যে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড এটাকে হাতিয়ার বানিয়ে বর্তমান সময়ে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো এক ধরনের আগ্রাসন চালাচ্ছে।সমাজের প্রতিটা মানুষের নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে সমাজের প্রতি কিন্তু অসাধু কিছু ব্যবসায়ী এই কাজকে মোক্ষম হাতিয়ার বানিয়ে চ্যানেলের টিআরপি বাড়িয়ে নিচ্ছে।এই একই কাজের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো যে শো বা অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে তাতে স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পর্কের মুল্যকে ঠুনকো করে দেখানো হয়।তখন পর্দার এপাশে বসে দর্শক এরুপ কিছু ভেবে বসে হয়তো ভাবে এটাই হওয়াটা অনুচিত নয়। সমাজের মানুষকে সাবধান করার আরো বহুবিধ উপায় আছে বা ছিল কিন্তু চ্যানেলগুলো বেছে নিয়েছে এক ধরনের কৌশল যা কিনা সমাজের জন্য আত্মঘাতী বলা যায়।

বিদেশী বা দেশীয় চ্যানেলগুলোতে যে ক্রাইম বা অপরাধ বিষয়ে সচেতনতামূলক শো চালায় তার নেপথ্যে কি ? এই বিষয়টা দর্শকের কাছে এখনো পরিস্কার না। কেননা এই অনুষ্ঠান আপনি যদিও সচেতনতার স্বার্থে বানাচ্ছেন কিন্তু এমনও পরিস্থিতি আছে যেখানে আপনি পরিবার পরিজন নিয়ে তা উপভোগ করতে পারছেন না।

এখানে প্রতিটা শো বা পর্বের স্টোরি বা গল্প বলার ধরনটা এমন মুখরোচক করবে যাতে আপনাকে পর্দার সামনে আটকে রাখবে। এই বিষয়টা মূলত কোম্পানির প্রোগ্রাম পলিসির আওতায় পড়ে।

এখানে প্রেম, ভালবাসা, পারিবারিক দ্বন্ধ ,ব্যবসায়িক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্ধ, স্বার্থপরতা, হিংসা বিদ্বেষ সবকিছুর পরিণতিটা আলটিমেট নির্ধারিত করা থাকে।প্রতিটি ঘটনার নাটকীয়তায় এখানে খুনের ঘটনা বা যৌনতার ঘটনাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাইলাইট করে আসছে। তাছাড়া এখানে কলাকৌশলীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তাতে করে মূল যে উদ্দেশ্য ঐ অপরাধ বিষয়ে আপনি আমি সচরাচর সতর্ক হব তা বেমালুম ভুলে যায়।

ইদানীং আমরা পত্রিকায় পাতায় দেখি কোন ঘটনার ব্যাখায় সাংবাদিক বা প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য তাকে এই ঘটনা ফিল্মি কায়দায় হয়েছে।এইসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তারা নিশ্চয়ই কোন মাধ্যমকে অনুসরণ করে তা করতে গিয়ে এক ধাপ বেশি সতর্ক হয়ে যায়।

এক প্রবীণের ভাষ্য আমাদের সময় এতো প্রেম ভালবাসা ছিল না এখন কেন এসব হচ্ছে।এটা স্বাভাবিক প্রশ্ন কেননা আপনার সামনে যদি ইনিয়ে বিনিয়ে কোন ঘটনাকে উপস্থাপন করা হয় তবে কৌতুহলবশত আমরা চ্যালেঞ্জিং কোন কিছুকে গ্রহণ করব।

দেশীয় বা বিদেশী চ্যানেলগুলোতে অপরাধ বিষয়ে সচেতন করতে যে অনুষ্ঠান বা শো দর্শকের সামনে হাজির হয় তাতে খোদ সিনিয়র সিটিজেনদের আপত্তি বা ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

আপনি যদি সামাজিক দায়বদ্ধতার কারনে কিছু করতে চান তবে অন্যভাবে করেন।আপনি প্রতিদিন একজন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে তার সমস্যা নিরসন করতে পারবেন না ভালো হয় যদি তার একটা পুনবার্সন করেন।

এই একই উপায় অবলম্বন করে আমরা সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাম বা মহল্লা পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারি।একদম প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ হতে শুরু করে প্রায় সবাইকে সামাজিক আন্দোলনে শরিক করে আমরা দৃশ্যমান সকল অসঙ্গতির একটা সুন্দর বিহিত করতে পারি।

স্থানীয় নীতিনির্ধারক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারিকর মাধ্যমে কেবল এই সকল সমস্যার আশু প্রতিকার সম্ভব হবে। আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে সামাজিক সচতেনতা বাড়ানোর জন্য মনিটরিং সেল বা কমিউনিটি ক্লাব গঠন করতে পারি যা কিনা এইসকল সমস্যার সমাধান বা নিরসনকল্পে কাজ করবে কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতা হতে।

About The Author
Rajib Rudra
Rajib Rudra

You must log in to post a comment