খেলাধূলা
Now Reading
শুভ জন্মদিন সাদা সৈনিক !!
235 47 0

শুভ জন্মদিন সাদা সৈনিক !!

by Ahmmed AbirMay 20, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
0%
FUNNY
0%
Sad
0%
Boring
0%

ফিফা বিশ্বকাপ ২০১০, সকার সিটি স্টেডিয়াম, জোহান্সবার্গ, ফাইনাল, খেলছে নেদারল্যান্ড বনাম স্পেন। খেলার এক সময় নেদারল্যান্ডের রোবেন বল নিয়ে ছুটে আসছে স্পেনের গোলবাদের দিকে। সামনে কোন ডিফেন্ডার নেই। ফাকা মাঠে গোল দেওয়া রোবেন এর মত প্লেয়ার এর জন্য কোন ব্যাপারই ছিল না। সেই মুহুর্তে স্পেনের ভক্ত রা ধরেই নিয়েছিল যে বিশ্বকাপ তাদের জন্য আর না। কিন্তু তারপরেই গোটা ফুটবল বিশ্ব দেখলো এক বিস্ময়। কারণ গোলবারের সামনে ছিল স্পেনের অদম্য প্রহরী “সেইন্ট ইকার”। জীবন দিয়ে হলেও সে তার গোলবার রক্ষা করবে, খেলতে নামার আগে এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই সে নেমেছিল। তাই করলো, একটা সেভেই সে নিজের দলকে বিশ্বকাপ জেতার জন্য আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

রিয়াল মাদ্রিদ আর স্পেন ভক্ত দের কাছে এক আবেগের নাম “সেইন্ট ইকার ক্যাসিয়াস”। সর্বকালের সেরা গোলকিপার দের মধ্যে একজন যাকে ধরা হয় সেই স্পেনের সাবেক অধিনায়ক যার নেতৃত্বে স্পেন জাতীয় দল ৪৪ বছর পর উয়েফা ইউরেপিয়ান চ্যাম্পিয়ানশীপ জেতার সৌভাগ্য অর্জন করে। স্পেনের ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতার সময় তিনি দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আর ওই টুরনামেন্টে গোল্ডেন গ্লাভস জিতে নেন। ফুটবল প্রেমী দের জন্য এক আবেগের নাম ক্যাসিয়াস, এক ভালবসার নাম ক্যাসিয়াস। তিনি তার ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলেন। তা সত্বেও তিনি রিয়াল মাদ্রিদ এর প্রতিপক্ষ ক্লাব বার্সেলোনার সমর্থক দের কাছেও অনেকটা সম্মানের স্থান করে নিয়েছেন। দল কে সামনে থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি খেলার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অসাধারণ সেভ করে অনেক ট্রফি এনে দিয়েছেন। ৯ বছর বয়স থেকে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। কখনও মাঠে যেয়ে তার দলের খেলোয়াড় দের সাহস দিয়ে আসা। সব কিছুতেই তার দলের প্রতি যে ভালবাসা লক্ষ্য করা যায় তা সত্যিই অতুলনীয়। এই পর্যন্ত উয়েফা টিম অফ দ্যা ইয়ারে গোলকীপার হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৬ বার জায়গা করে নিয়েছে এই বিস্ময় বালকটি। এখনও রিয়াল মাদ্রিদ সাপোর্টার দের যদি জিজ্ঞেস করা হয় তারা এখন সান্তিয়াগো বার্নাবিউ তে কাকে সবথেকে বেশি মিস করে, উত্তর একটাই আসবে, “ইকার”। ২০০৮ সালে ফিফা ব্যালন ডি অর তালিকায় তিনি সেরা ৪ এ ছিলেন।

ক্যাসিয়াস এর জন্ম হয় স্পেনের মস্তোলেসে ১৯৮১ সালের ২০ মে একজন সরকারী কর্মকর্তার ঘরে। তার বাবার নাম জোসে লুইস ক্যাসিয়াস। তার মা ছিলেন একজন মহিলা নাপিত। ক্যাসিয়াস তার ক্যারিয়ার রিয়াক মাদ্রিদ যুব দলের হয়ে শুরু করেন ১৯৯০-৯১ সিজন থেকে। পরবর্তীতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লীগের একটা ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ মুল একাদশে ডাক পান। ২০০১-০২ সিজনে খারাপ ফর্মের কারণে তিনি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে সিজার সানচেজ ইঞ্জুরি তে পড়লে তিনি আবার দলে ডাক পান এবং ফিরতি ম্যাচেই অসাধরণ কিছু সেভ দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ কে ২-১ এ জয় এনে দেন। তার ক্যারিয়ার এর সবথেকে সোনালী সময় পার করেন ২০০৭-০৮ সিজনে। এ সময় রিয়াল মাদ্রিদ এর ৩১ তম লা লীগা শিরোপা জেতার ক্ষেত্রে অনেকটাই অবদান রাখেন ইকার। এ সিজনে তিনি মাত্র ৩২ টা গোল হজম করেন। পরে একটা গুজব শোনা যায় যে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড ক্যাসিয়াস এর জন্য ১২৯ মিলিয়ন বিড করেছে , যদিও রিয়াল মাদ্রিদ পরে এ খবর টা অস্বীকার করেছে। ২০১৩ সালে ইকার প্রথম গোলকিপার হিসাবে টানা ৫ম বারের মত আইএফএফএইচএস সেরা গোলকিপার এওয়ার্ড অর্জন করেন। যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্জন গুলোর মধ্যে একটি। সে সময় এর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মোরিনহো তাকে ইঞ্জুরির কারণে দলের বাইরে রেখে ডিয়াগো লোপেজ কে সাইন করান। পরে ক্যাসিয়াস সুস্থ হয়ে দলে ফিরলেও তাকে আর দলে নেন নি মোরিনহো।

স্পেন জাতীয় দলের হয়েও ক্যাসিয়াসের অর্জন অনেক বড়। ১৯৯৭ সালে ফিফা অনুর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ দিয়ে তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে ভাল পার্ফর্মেন্সের জন্য তিনি অনুর্ধ্ব-১৭ দলের ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে খুব দ্রুত তিনি স্পেন মূল একাদশে ডাক পান। ২০০০ সালের জুন মাসের ৩ তারিখে সুইডেনের বিপক্ষে তার জাতীয় দলে অভিষেক হয়। স্পেনের ইতিহাসে সবথেকে কম ২১ বছর বয়সে দলের প্রধান গোলকিপার হিসাবে দায়িত্ব পান ক্যাসিয়াস। ২০০৮ সালে ইউরো তে তিনি অধিনায়ক এর দায়িত্ব পান। সেই দায়িত্ব অনেক ভালভাবে দেখিয়েছেন স্পেন কে ইউরো জিতিয়ে। তার অসাধারণ পার্ফর্মেন্স স্পেন ফাইনালে জার্মানীকে হারিয়ে ইউরো ট্রফি অর্জন করে নেয়।

ক্যাসিয়াস তার পুরো ক্যারিয়ার রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি আছেন পর্তুগীজ ক্লাব “পোর্তো” তে। ক্যাসিয়াস রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে সর্বোমোট ৬৭৮ টি ম্যাচ খেলেন। যার মধ্যে লা লীগা ম্যাচ ছিল ৪৭৮ টি, ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ ছিল ৪০ টি, ইউরোপিয়ান ম্যাচ ছিল ১৪২ টি, আর অন্যান্য ম্যাচ ছিল ১৮ টি।

ক্লাব এর হয়ে তার অর্জন

৫ টি লা লীগা,

২ টি কোপা দেল রে,

৪ টি স্প্যানিশ সুপার কাপ,

৩ টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ান্স লীগ শিরোপা,

১ টি উয়েফা সুপার কাপ।

জাতীয় দলের হয়ে তার অর্জন

১ টি বিশ্বকাপ

২ টি ইউরো

এছাড়াও তিনি ১ টা ফিফা বিশ্বকাপ গোল্ডেন গ্লাভস, ৬ বার উয়েফা বর্ষসেরা একাদশ এর সম্মান অর্জন করেন।

ইকার ক্যাসিয়াস কে তার পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা সম্ভব না। তাকে বিচার করার জন্য কোন একজন ফুটবল প্রেমীকে বলুন। তার দলের খেলোয়ার দের বলুন। তাকে তার সমর্থকরা ভালবেসে “সেইন্ট” উপাধী দেয়। ১৬ কলা পূর্ণ হতো যদি তিনি রিয়াল মাদ্রিদেই তার ক্যারিয়ার টা শেষ করতেন। ফুটবল বিশ্ব এখনও সাদা জার্সিতে তার অনুপস্থিতি অনুভব করে, আর আজীবন করবে।

শুভ জন্মদিন লেজেন্ড !!

শুভ জনদিন ক্যাপ্টেন !!

বেচে থাকুন ভালবাসায় !!

About The Author
Ahmmed Abir
Ahmmed Abir

জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বাচতে শিখেছি। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করে সামনে এগিয়ে যেতে শিখেছি। পছন্দ করি গান গাইতে গীটার বাজাতে আর গেইম খেলতে।

You must log in to post a comment