সাহিত্য কথা
Now Reading
ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু সংক্রান্ত কিছু বাস্তব ঘটনা (পর্ব-১)
9090 1707 0

ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু সংক্রান্ত কিছু বাস্তব ঘটনা (পর্ব-১)

by Ferdous Sagar zFsMay 21, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
50%
FUNNY
8%
Sad
8%
Boring
25%

আমি তখন শফিক রেহমান সম্পাদিত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ম্যাগাজিন যায়যায়দিন এর মাসিক নতুন সংস্করণ মৌচাকে ঢিলের  নিয়মিত লেখক। ২০১২ সালের ঈদ-উল-ফিতর সংখ্যাতে আমার একটি ভিন্নধর্মী লেখা ছাপা হয়েছিলো “কালোজাদু” শিরোনামে| মৌচাকে ঢিলের দেশ-বিদেশের পাঠক-পাঠিকাদের কাছ থেকে ব্যাপক পরিমাণে যে সাড়া পেয়েছিলাম তা কখনোই ভোলার নয়| সংখ্যাটা বের হবার পর দুই বছর পর্যন্ত আমার কাছে শত শত কল আর মেসেজ এসেছে| আমার সাথে যোগাযোগ করার মূল ব্যাপারটা ছিলো এই যে, বিভিন্ন রকমের কুফরী-কালামের শিকার হয়েছিলো তারা| এরপর অনেক ইচ্ছা আর পাঠক/পাঠিকাদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কালোজাদু নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখতে পারিনি। এরপর মৌচাকে ঢিলও বন্ধ হয়ে গেল নানা জটিলতায়। তাই লেখালেখির নতুন প্লাটফর্ম FootPrint-এ কুফরী-কালামের শিকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভুগী পাঠক পাঠিকাদের ঘটনা তাদের অনুমতি এবং ছদ্মনাম ব্যবহার করার সাপেক্ষে আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি|

সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে ফোন করেছিলেন রাখি| রাখি একসময় খুলনা শহরে থাকতেন| সেটা বেশ আগের কথা| রাখি বিয়ের পর স্বামীর ঘরে গিয়ে দেখেন প্রতারিত হয়েছেন| স্বামীর আগেই একটা বিয়ে ছিলো ফলে তাকে সতীনের সাথে ঘর করতে হচ্ছিলো| তিনি ছিলেন ঐ বড় বৌ এর চোখের বালি| একটা সময় রাখি হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে| নাক দিয়ে এমনি এমনিই রক্ত পড়তো, রক্ত বমি হতো| কোন ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়ে যখন কোন কাজ হচ্ছিলো না, তখন শীতলাবাড়ির মোহন নামের এক তান্ত্রিকের খোঁজ পান তিনি| মোহন রাখির সব কিছু শুনে বলেন যে তাকে বান মারা হয়েছে| আর কাউকে বান মারলে, আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকে| তান্ত্রিক বললেন, কে বান মেরেছে তা বলার ক্ষমতা আমার নেই কিন্তু ধরার ক্ষমতা আছে| কিভাবে? মোহন রাখিকে বললেন তার বাম হাতটা সামনে রাখা গামলার পানির ভেতর চুবিয়ে রাখতে| তারপর হালকা স্বরে কিছু একটা পড়ে পানিতে ফুকঁ দিলেন| পানিতে হাত চুবিয়ে রাখার বেশ কিছুক্ষন পর রাখি দেখলেন যে তার কপাল অবিরত ঘামছে| তান্ত্রিক তখন রাখিকে বলেন, আমি বিপরীত বান মেরে দিয়েছি ফলে আপনার ওপরকার জাদুর প্রভাব নষ্ট হয়ে গেছে| অন্যদিকে যে বান মেরেছিলো সে এখন আক্রান্ত হবে|

এরপর থেকে রাখি ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকে আর তার সতীন অসুস্থ হতে থাকে| রাখি তার অসুস্থ সতীনকে নিয়ে মোহন তান্ত্রিকের কাছে গেলে সেই সতীন সব স্বীকার করে যে, সে নিজেই বান মেরেছে| সে তার দাদীর কাছ থেকে এটা শিখেছিলো| তার দাদী কালোজাদুর চর্চা করতো| প্রথমে একটা পেরেক টাইপের গজা লোহা জোগাড় করে সেখানে রাখির নাম, রাখির মা-বাবার নাম, আর জন্ম তারিখ খোদাই করে রাখির মাথার কয়েকটা চুল দিয়ে জড়িয়ে তা জাদু করে একটা বড় কাঠাঁলের মাঝ বরাবর ভরে রেখে দেয়| এদিকে কাঠাঁল দিনকে দিন পচঁতে থাকে আর রাখি অসুস্থ হতে থাকে| কাঠাঁল একদম পচেঁ গেলে রাখি মারা যেত।

অবশেষে রাখি সেই স্বামী আর সতীনের ঘর ছেড়ে চলে আসে এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীকে বিয়ে করে এখন অস্ট্রেলিয়াতেই আছেন|

চুয়াডাঙ্গার ছেলে সজীব| খুলনা ভার্সিটির স্টুডেন্ট ছিল সে| সানজিদা নামের একটা মেয়ের সাথে তার পাচঁ বছরের সম্পর্ক ছিলো| কিন্তু এই সম্পর্ক সানজিদার মা মেনে নিতে পারতো না কারণ সজীবদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিলো না| তাছাড়া সানজিদার মা ছিলো একরোখা বদরাগী টাইপের মহিলা| সানজিদার ভাষ্যমতে তার মায়ের করা মানসিক অত্যাচারের কারণেই তার বাবা স্ট্রোক করে মারা যান| যাইহোক, সজীব বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে সানজিদার মা ফিরিয়ে দেয়| সানজিদার মা ওর বিয়ে ঠিক করে ওর চাইতে দ্বিগুণ বয়সী এক প্রকৌশলীর সাথে| কিন্তু সানজিদাকে কোনোভাবেই সজীবের মন থেকে সরানো যাচ্ছিলো না দেখে মহিলা কালোজাদুর আশ্রয় নেয়| সানজিদার মা গাড়ি নিয়ে চলে যায় শহর থেকে বেশ দূরে এক পরিচিত বদ-কবিরাজের কাছে যে এসবে পারদর্শী| ঐ বদ-কবিরাজ সানজিদার শরীরের রক্ত চায়| সানজিদার মা এতোই ধুরন্ধর আর নিষ্ঠুর যে মেয়ের খাবারের সাথে অচেতন করা ঔষধ মিশিয়ে অচেতন করে শরীর থেকে সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্ত নিয়ে পরদিনই ঐ বদ-কবিরাজকে দিলে আবার দুইদিন পর আসতে বলে| বারবার ওখানে যাওয়ার ব্যপারটা তখন ওদের গাড়ির ড্রাইভারের কাছে রহস্যজনক মনে হয়| দুইদিন পর গেলে কবিরাজ একটা ফল দেয়| ফলের শরীর ফাটা ফাটা লাল রঙের| সে বলে দেয় যে এই ফল নিয়ে একটা বড় নিম গাছের ডালে বেধেঁ দিতে| এই ফল বাতাসে নড়বে আর ফাটা অংশ দিয়ে ফলের ভেতরের গুড়া যত বের হবে, সানজিদা আর সজীবের সম্পর্ক ততই ক্ষয়ে যেতে থাকবে|

ঐ জাদুর ফলে সত্যি সত্যিই ওদের ফেভিকলের মতো মজবুত জোড়াটা ভেঙ্গে যায়| সানজিদার বিয়ে হয়ে যায় সেই বয়স্ক লোকটার সাথে|

এই ঘটনা ঐ ড্রাইভারই আমাকে সর্বপ্রথম জানায় আমার কালোজাদু লেখাটা পড়ে| হঠাৎ ওদের সম্পর্ক নস্ট হয়ে সানজিদার বিয়ে হতে দেখে ড্রাইভারের মনে সন্দেহ জাগে| সে ঐ স্থানে যায় এবং খোজঁখবর নিয়ে জানে সেখানে এক কবিরাজের বাড়ি আছে| পরে বহু কস্টের মাধ্যমে ড্রাইভার সবকিছু জানতে পারে যে কালোজাদুর কারণেই দুই প্রেমিক-প্রেমিকার জীবনে ট্রাজেডী নেমে আসে| কিন্তু ড্রাইভার তার চাকরী যাবার ভয়ে এবং সানজিদার সংসার ভাঙতে পারে এই ভয়ে কাউকে জানায় না কিছু|

চলবে……

About The Author
Ferdous Sagar zFs
Ferdous Sagar zFs

Hi, I am Ferdous Sagar zFs. I am a Proud Bangladeshi living in abroad for study purpose. I love to write and it’s my passion or hobby. Thanks.

0 Comments

You must log in to post a comment