বাংলাদেশ পরিচিতি
Now Reading
বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ( ১ম পর্ব )
695 91 2

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ( ১ম পর্ব )

by MasudRanaMay 26, 2017
What's your reaction?
লাইক ইট!
50%
FUNNY
50%
Sad
0%
Boring
0%

বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর একটি অনন্য উদাহরণ। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর মাধ্যমে বুঝা যায় আমাদের বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস একশো বা দুশো বছরের নয় বা আমরা কোনো পরগাছা জাতির মতো নই যারা অন্যদের থেকে উঠে এসেছি। বাঙালীদের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, আমরা ইতিহাসে সাক্ষী রেখে এসেছি অদম্য সাহস ও শক্তির। প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও এর আশেপাশের অঞ্চল গুলোতে উন্নত সভ্যতা বেড়ে উঠছিলো তার প্রমাণ হচ্ছে আমাদের এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো। এসব নিদর্শন গুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের মসজিদ, মন্দির, নগর, দুর্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক ভবন। বিভিন্ন তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ২৫০০টি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে যার মধ্যে ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৪৫২টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর আবিষ্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও যাবতীয় দেখা শুনার কাজ বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর এর। আজকের এই পর্বে আমরা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নগর, দূর্গ ও ভবন গুলো তুলে ধরবো।

1435227910..jpg

উয়ারী বটেশ্বরঃ
উয়ারী ও বটেশ্বর নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় অবস্থিত দুটি পাশাপাশি গ্রাম। ঢাকা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে এই গ্রাম দুটি অবস্থিত। গ্রাম দুটির পাশ দিয়ে প্রাচীন কাল থেকে বয়ে গেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও এর শাখা আড়িয়াল খাঁ, গঙ্গাজলি ও কয়রা নদী। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থলের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা ধারণা করা হয়েছে এটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। ২০০০ সালে কার্বন-১৪ (যা দ্বারা বিভিন্ন ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা হয়) তার সাহায্যে আবিষ্কৃত কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে উয়ারী বসতিটি প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের। যার মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে এখানে মৌর্য যুগের একটি সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছে। ইতিহাস বেত্তাদের মতে, পুণ্ড্রনগরে সভ্যতা গড়ার কিছু আগে এই নগর সভ্যতা নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে প্রাপ্ত চারটি পাথরে নিদর্শন প্রস্তর যুগের বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১০ সালে এখানে ১৪০০ বছরের ইট নির্মিত প্রাচীন বৌদ্ধ পদ্মমন্দির আবিষ্কৃত হয়। ১৯৩০ সালের দিকে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মুহাম্মদ হানিফ পাঠান প্রথম উয়ারী বটেশ্বরকে সুধী সমাজের নজরে নিয়ে আসেন। ২০০০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিভাগের প্রধান সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এর নেতৃত্বে প্রথম খনন কাজ শুরু হয়। তিনি জানান উয়ারী বটেশ্বর একটি সমৃদ্ধ, সুপরিকল্পিত প্রাচীন গঞ্জ ( একটি বাণিজ্যিক নগর) “সৌনাগড়া” যা গ্রিক ভূগোলবিদ, টলেমী তার বই “জিওগ্রাফিয়াতে” উল্লেখ করেছেন। উয়ারী বটেশ্বরে শেষ খনন কাজ চালানো হয় ২জানুয়ারি ২০১৭ তে।

ahsanmonjil1.jpg

আহসান মঞ্জিলঃ
আহসান মঞ্জিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ ছিল। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার কুমারটুলিতে অবস্থিত। মুঘল আমলে বরিশালের জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহ এ প্রাসাদটি তৈরি করেন। তার পুত্রের থেকে ফরাসিরা এটি কিনে ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত করে। ঢাকার নবাব খাজা আলিমউল্লাহ ১৮৩০ সালে ফরাসিদের নিকট হতে ক্রয় করে এটিকে আবার প্রাসাদে পরিণত করেন। নবাব আব্দুল গণি নিজ পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নাম অনুসারে এটিকে “আহসান মঞ্জিল” নামকরণ করেন। ১৮৯৭ সালে ঢাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানলে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়। পরবর্তীকালে নবাব আহসানউল্লাহ তা পুনঃনির্মাণ করেন। ১৯০৬ সালে আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত এক সভায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালে আহসান মঞ্জিলকে “আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে” রূপান্তর করা হয়।

lal-bag-kella20151124110441.jpg

লালবাগ কেল্লাঃ
লালবাগ কেল্লা মুঘল আমলের ঐতিহাসিক একটি নিদর্শন। এটি পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত একটি দুর্গ। এই কেল্লার পূর্ব নাম আওরঙ্গবাদ দুর্গ। সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে তার তৃতীয় পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে এই কাজ অব্যাহত থাকে। তবে তার কন্যা পরিবিবি (প্রকৃত নাম ইরান দুখত রাহমাত বানু ) এর মৃত্যুর পর এই কেল্লাকে অপয়া মনে করে ১৬৮৪ সালে এর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। কেল্লা এলাকাতে পরিবিবির সমাধি অবস্থিত এবং কেল্লার উত্তর- পশ্চিমাংশে বিখ্যাত শাহী মসজিদ অবস্থিত। ১৮৪৪ সালে এলাকাটি “আওরঙ্গবাদ” নাম বদলে “লালবাগ” নাম রাখা হয় এবং দুর্গটি “লালবাগ কেল্লা” নামে পরিচিতি লাভ করে।

sonargao20170509122952.jpg

সোনারগাঁওঃ
সোনারগাঁও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। পূর্বে মেঘনা, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা, দক্ষিণে ধলেশ্বরী এবং উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বেষ্টিত একটি বিশাল জনপদ সোনারগাঁও। এর পূর্বনাম সুবর্ণগ্রাম। ঈসা খাঁর স্ত্রী সোনা বিবির নামানুসারে সোনারগাঁও এর নামকরণ করা হয়। সোনারগাঁর দর্শনীয় স্থান – সোনাবিবির মাজার, পাঁচবিবির মাজার, গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের মাজার, হোসেন শাহ নির্মিত একটি সদৃশ্য মসজিদ, গ্রান্ড- ট্রাঙ্ক রোড ইত্যাদি। সোনারগাঁও এর পানাম নগরী উনিশ শতকে উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ীদের বাসস্থান ছিলো।

dscn1852.jpg

বড় কাটরা ও ছোট কাটরাঃ
বড় কাটরা ঢাকার চকবাজারে অবস্থিতে মুঘল আমলের নিদর্শন। সম্রাট শাহজানের পুত্র শাহসুজার নির্দেশে আবুল কাশেম ১৬৪১ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে এই ইমারতটি নির্মাণ করেন। ছোট কাটরাও ঢাকার চকবাজারে অবস্থিত শায়েস্তা খাঁর আমলে তৈরি একটি ইমারত। তিনি এটি সরাইখানা বা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করেন। ১৬৬৩ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৬৭১ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো খুবই মূল্যবান। এই লেখার প্রথম অংশে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান ও দুর্গের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হলো। পরবর্তিতে আমরা বাংলাদেশের সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

About The Author
Muhammad Masud Rana
MasudRana

I’m a shadow.

You must log in to post a comment