পাবলিক কনসার্ন
Now Reading
একাকীত্বের অবসান ঘটানো যায় কীভাবে?
1190 196 2

একাকীত্বের অবসান ঘটানো যায় কীভাবে?

What's your reaction?
লাইক ইট!
0%
FUNNY
100%
Sad
0%
Boring
0%

আমরা কি সত্যি একাকী নাকি একাকী নই? আমরা কি একলা হয়ে যাওয়া কে ভয় পাই? আমাদের পরিবারের সদস্য বা বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন এর মৃত্যুতে কি আমরা ভীত হয়ে পড়ি? বা উনাদের থেকে দূরে চলে যাওয়াকে কি ভয় পাই?

আমরা সবাই খোলসে আবদ্ধ থাকি। বাইরের সেই খোলস টা যতই শক্ত হোক না কেন, আমাদের ভিতর থেকে খুব গভীর একটি ভয় সর্বদা কাজ করে। এই ভয় থেকে কি আদৌ বের হয়া যায়? এই ভয় কি কাটিয়ে তোলা সম্ভব?

প্রায় আমরা বলি – যখই জীবনে সমস্যায় পড়বে বা ভীত হয়ে পড়বে বা একাকী বোধ করবে, তখনই নিজের মনকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার চেস্টা করতে হবে। কারণ মাথার ভেতর এক জিনিস নিয়ে বার বার চিন্তা ভাবনা করলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়বো বা পাগল হয়ে যাব। তাই আমাদের উচিত অন্যদিকে মনোনিবেশ করা যাতে আমরা সমস্যা এর কারণ বা একাকীত্বের কারন ভুলে যাই এবং অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

এটাই কি আমরা করিনা? যখন ই একা হয়ে পড়ি, আমরা অন্য কারো খোজে বেড়িয়ে যাই সেই একাকীত্ব থেকে মুক্তি পাবার জন্য। একটু ভেবে দেখুন, যখন আপনাকে ছেড়ে কেউ চলে যায়, বা প্রিয় কাউকে আপনি হারিয়ে ফেলেন, তখন নিজের ভেতর রাগ কাজ করে। আমরা প্রায় রাগে স্বভাবিক কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলে এমন সব কাজ করি যা একদম ই অনুচিত। কারন তখন আমাদের সুস্থ চিন্তাভাবনা করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় আর মাথার ভিতর একসাথে অনেক চিন্তা কাজ করে। তো তখন এটাই কি মুক্তির উপায় যে আমরা যে বিষয় নিয়ে আমাদের সমস্যা, সেটা দূরে ঠেলে দিয়ে অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি?  

নাহ, এটা মুক্তির উপায় হতে পারেনা। এতে আমরা যে কোন ভুল কাজে লিপ্ত হয়ে যেতে পারি যেটার দায়বদ্ধতা হয়ত আমাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হতে পারে। ডাইভার্সন এর খপ্পরে আমরা এমন কারো সাথে যুক্ত হয়ে যেতেও পারি যেটা সঠিক নাও হতে পারে। আসলে সেই মুহুর্তে সঠিক বেঠিক এর বিবেচনা করার মত জ্ঞান আমাদের থাকেনা। আমরা অনেক হতাশ হয়ে পড়ি আর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার শক্তিটাই হারিয়ে ফেলি।

আচ্ছা, তাহলে কি করা যায়? কোন সিদ্ধান্ত না নিলেই হলো। কারন সেই সময়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত গুলো ভুল হবার খুব বেশি সম্ভাবনা থাকে। যেমন ধরুন, রাগের মাথায় আপনার গাড়ি চালাতে ইচ্ছা হলো। তুলে দিলেন স্পীড ১৮০-১৯০। নিজেই ভেবে দেখুন এতে আপনার জীবন কে আপনি কি হুমকির মুখে ফেলছেন না? বা রাগের মাথায় মদ্যপান করলেন বা যার উপর রাগ তার থেকে প্রতিশোধ নিতে চাইছেন।

একবার ঠান্ডা ও সুস্থ মস্তিষ্কে ভেবে দেখুন কখনো এই কাজ গুলো করেছেন কিনা? করা কি ঠিক হয়েছে?

কেন আমরা একাকীত্ব কে ভয় পাই? কেন একাকী হয়া আমাদের দংশন করে?

আমাদের ভেতর দুটো জিনিস কাজ করে। একটা হলো আপনার বেচে থাকা। যখন আপনি বেচে থাকার জন্য কারো উপর নির্ভর করেন তখন সেই মানুষটা থেকে দূরে চলে যাওয়া আপনাকে একাকীত্ব এনে দেয়। আরেকটি হলো আপনার সুখ।

দুটোই আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপুর্ন তাইনা? বেচে থাকার সাথে সুখের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই, তবুও জীবনে দুটোর প্রয়োজন ই অসীম।

প্রথমে আপনাকে বেচে থাকার জন্য নিজের উপর নির্ভর করতে হবে। আমাদের মা-বাবা আমাদের খুব ভালবাসেন বলে একটা সময় পর্যন্ত কোন কাজে যুক্ত হয়া থেকে দূরে রাখেন। এতে আমরা তাদের উপর নির্ভর হয়ে যাই। আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা অনেক দীর্ঘ আর চাকরির বাজার স্বল্প হওয়ার কারনে আমরা কলেজ শেষ করার পরও বাবা-মা এর উপর নির্ভরশীল থাকি অনেকেই যদিও জীবন যুদ্ধে পা বাড়ানোর জন্য বেশ ভাল সময় সেটা। তো আমাদের আগে নিজে বেচে থাকার মত খুটি গাড়তে হবে। নিজের উপর নির্ভরশীলতা চলে আসলে আমরা অন্য কারো উপর নির্ভরশীল হবার ভয় থেকে মুক্ত হতে পারি।

সুখী আমরা কখন হই? “প্রাপ্তি” বোধ যখন কাজ করে আমরা আসলে তখন সুখ অনুভব করি। এই প্রাপ্তি বোধ যখন অন্য কারো জন্য হয় তখন তার চলে যাওয়াতে আমরা একাকীত্ব অনুভব করি। ভেবে দেখুন একটু, এই “সুখ” এর জন্য যদি আপনি নিজে সম্পুর্ন তৈরী না হোন, মানে নিজের সুখের যোগান এর চাবি যদি নিজের হাতেই রাখেন, এর জন্য কারো উপর নির্ভর না করতে হয় তবেই আপনার একাতীত্বের ভয় খুচে যাবে।  

দেখুন আমাদের দু ধরনের শান্তির প্রয়োজন এই জীবনে। আর্থিক আর মানসিক। এই দু শান্তি থাকলে শারীরিক শান্তি আপনা আপনি কাজ করে। আর্থিকভাবে যদি আপনি নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলেন তাহলে আপনাকে কারো উপর নির্ভর করতে হবেনা। চিন্তা করুন, আর্থিক সঙ্গতি থাকলে আপনি নিজের সব প্রয়োজন মিটাতে পারেন, পরিবারের প্রয়োজন মিটাতে পারেন , বন্ধুদের সাথে কোথাও সময় কাটিয়ে চিত্তের বিনোদন ঘটাতে পারেন। তখন আপনার ভিতরে হতাশা নামের বস্তুটি কাজ করবে না।

একই ভাবে আপনার মন যদি প্রফুল্ল থাকে, ভিতর থেকে শান্তি অনুভব করেন, আপনার ভিতর সুখ বাস করে এবং এর জন্য আপনি কারো উপর নির্ভর করেন না। সম্পুর্ন স্বাধীন ভাবে সুখী আপনি, তখন সেই সুখ আপনি আপনার পরিবার, বন্ধু বা আত্মীয় দের মাঝে বিলিয়ে দিলেও কমে যাবে না।যদি আপনি ই সুখের জন্য কারো উপর নির্ভরশীল হন তাহলে তার চলে যাওয়াতে খারাপ বোধ তো করবেন ই। সে কেন আপনাকে সুখ দিবে? কেন আপনি নিজের সুখ নিজে অর্জন করছেন না?

চেস্টা করে দেখুন, বেচে থাকার আর সুখের জন্য নিজের উপর নির্ভর করুন। একাকীত্ব আপনাকে ছুতে পারবেনা।

About The Author
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
Kazi Mohammad Arafat Rahaman

পড়াশোনা – ব্যাচেলর করছি কম্পিউটার সায়েন্সে।
ভাল লাগা – গান, ফুটবল আর বই।
খারাপ লাগা – নাই। খারাপ লাগেনা। অনুভূতিহীন।
শখ – অনেক আছে।
লক্ষ্য – ইন্টারপ্রেনার হতে চাই।

You must log in to post a comment