ক্যাপ্টেন আমেরিকা-সিভিল ওয়ার

Please log in or register to like posts.
News

 

সিভিল ওয়ার’ আসলে কি ? আমরা সিভিল ওয়ার বলতে যা বুঝি যাকে বলে গৃহ যুদ্ধ এখানে কিন্তু সেটা বোঝায়নি। ‘মারভেল’ এর ‘সিভিল ওয়ার’ এর অর্থ সম্পুর্ণ আলাদা। ‘সিভিল ওয়ার’ পটভূমী ‘মারভেল’ কমিকের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ উপাদান যার লেখক ‘মার্ক মিলার’ এবং এই সিরিজের ট্যাগলাইন হচ্ছে, “Whose side are you on ?”। এই ‘সিভিল ওয়ার’ আবর্তিত হয়েছে প্রধানত ‘আয়রন ম্যান’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’, ‘স্পাইডারম্যান’, ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ ও গোটা ‘মারভেল’ ইউনিভার্সকে কেন্দ্র করে। কমিকের গল্প অনুযায়ী, আমেরিকা সরকার ‘সুপারহিরো রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট’ নামের একটি আইন পাশ করে সকল সুপারহিরো কে সরকারের অফিসিয়াল নিয়ম কানুনের অধীনে নিয়ে আসার জন্য, ঠিক পুলিশ ফোর্সের মত করে। এই আইনকে কেন্দ্র করে ‘স্টিভ রজারস’ ও ‘টনি স্টার্ক’ এর মাঝে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ‘স্টিভ রজারস’ এই আইনের বিরোধীতা শুরু করে ও সরকারের অধীনে কাজ করতে সম্পুর্ণ অস্বীকার করে, অন্য দিকে ‘টনি স্টার্ক’ থাকে এই আইনের সমর্থনে। আর এদিকে এই দুই দলের দ্বন্দ্বের মাঝে পড়ে যায় বেচারা ‘পিটার পার্কার’ ওরফে ‘স্পাইডারম্যান’। এই দ্বন্দ্বে ‘টনি স্টার্ক’/’আয়রন ম্যান’ এর পক্ষে একে একে যোগ হয় ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ গ্রুপ, ও ‘ক্যাপ্টেন মারভেল’ আর অন্যদিকে ‘এক্স মেন’ গ্রুপ থাকে সম্পুর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে। অতঃপর শুরু হয় সুপারহিরোদের মাঝে ভয়াবহ গৃহ যুদ্ধ, যার পরিনতিতে মৃত্যু ঘটে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’র।

marvel-captain-america-civil-war-captain-america-sixth-scale-hot-toys-902657-01.jpg

এখন এই প্লট লাইন অনুসারে কিন্তু ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা-সিভিল ওয়ার’ নির্মিত হবে না। এবং এটা আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে ‘সিভিল ওয়ার’ মুভিতে আমরা ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ ও ‘এক্স মেন’ গ্রুপকেও দেখতে পাব না। কারণ আমরা জানি যে, কমিকে এদের সবার ইউনিভার্স একই হলেও, মুভিতে এরা ভিন্ন ভিন্ন ইউনিভার্সে বসবাস করে। এদিকে ‘মারভেল স্টুডিও’ এর প্রেসিডেন্ট ও প্রোডিউসার ‘কেভিন ফেইজ’ বলেই দিয়েছেন যে, “এটা হতে যাচ্ছে ‘মারভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এর ‘সিভিল ওয়ার’ যা অনেকাংশেই ‘সিভিল ওয়ার’ কমিক থেকে ইন্সপায়ার হবে, তবে আমরা সম্পুর্ণ ভিন্ন গল্প অনুসারে আগাবো”। এখন ‘IMDb’ অনুসারে ‘সিভিল ওয়ার’ এর প্লট হচ্ছে, ‘অ্যাভেঞ্জারস-এজ অফ আল্ট্রন’ এর শেষ দৃশ্যে ‘আয়রন ম্যান’ ও ‘থর’ এর বিদায় নেবার পর ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ এর নেতৃত্বে সম্পুর্ণ নতুন এক ‘অ্যাভেঞ্জারস’ গ্রুপ গঠিত হয় (গ্রুপের সদস্যদের নাম গুলো বললাম না, নয়তো ‘এজ অফ আল্ট্রন’ এর স্পয়লার খেয়ে যাবেন)। ‘সিভিল ওয়ার’ মুভিতে এই নতুন গ্রুপকে নিয়ে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ এর মানবতা রক্ষার অভিযান অব্যাহত থাকে। অন্যদিকে ‘এজ অফ আল্ট্রন’ এ গোটা বিশ্বব্যাপি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশ জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে আমেরিকান সরকার ‘অ্যাভেঞ্জারস’ গ্রুপের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করার জন্য গ্রুপে জবাবদিহিতা সিস্টেম চালু করে ও ‘অ্যাভেঞ্জারস’ গ্রুপকে সরকারের ইচ্ছা মত চালানোর জন্য গ্রুপের অভ্যন্তরে একটি সরকারি পরিচালনা পরিষদ গঠণ করে। এদিকে, যখন বিশ্বকে এক নতুন ও পৈশাচিক ভিলেনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ‘অ্যাভেঞ্জারস’ গ্রুপ ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই গভার্নমেন্ট সিস্টেম গ্রুপে এক মারাত্মক ফাটল ধরিয়ে দেয়।

এতক্ষণ আপনাদের ‘সিভিল ওয়ার’ এর গল্প শোনালাম, কিন্তু আসল চমক এখনো বাকি আছে। আর সেটা হচ্ছে এ মুভির কাস্টিং। ‘আয়রন ম্যান থ্রি’ রিলিজের সাথে সাথে ‘রবার্ট ডাউনী জুনিয়র’ এর সাথে ‘মারভেল’ এর চুক্তি শেষ হয়ে যায়। তাই, ধরে নেয়া হয় যে ‘আয়রন ম্যান ফোর’ মুভি আর আসছে না। অতঃপর ২০ জুন ২০১৩ সালে ‘মারভেল’ ঘোষনা দেয় যে ‘রবার্ট ডাউনী’ এর সাথে তাদের ‘অ্যাভেঞ্জারস টু’ ও ‘অ্যাভেঞ্জারস থ্রি’ এর চুক্তি হয়েছে। পরবর্তীতে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা-উইন্টার সোলজার’ এর পর ‘মারভেল’ যখন সিরিজে ‘সিভিল ওয়ার’ পটভুমী আনতে চায় তখন আরো একবার ‘আয়রন ম্যান’ এর চাহিদা চলে আসে, কারণ ‘আয়রন ম্যান’ ছাড়া ‘সিভিল ওয়ার’ সম্ভব না। এদিকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ‘রবার্ট ডাউনী’ ঘোষনা দেয় যে, ‘আয়রন ম্যান ফোর’ বানানোর কোন পরিকল্পনা এখন ‘মারভেল’ এর নেই। অতঃপর ঠিক এক মাস পর অক্টোবরে ‘মারভেল’ ঘোষনা দেয় যে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা-সিভিল ওয়ার’ এ ‘আয়রন ম্যান’ পুনরায় ফিরে আসবে। প্রথমে ‘মারভেল’ চেয়েছিল ‘সিভিল ওয়ার’ এ ‘আয়রন ম্যান’ এর চরিত্রটি খুব ছোট করে তুলে ধরতে, কিন্তু ‘রবার্ট ডাউনী’ বেঁকে বসে। সে চায় মুভির প্লট অনুযায়ী ‘আয়রন ম্যান’ কে খুব শক্তিশালী রোল দিতে। অতঃপর ‘মারভেল’ ‘ডাউনী’র এই শর্ত মেনে নেয়। শুধু তাই নয়, এই মুভি করার জন্য ‘মারভেল’ ‘রবার্ট ডাউনী জুনিয়র’কে এক্সট্রা ৪০ মিলিয়ন দিয়েছে এবং ‘সিভিল ওয়ার’ যদি ‘উইন্টার সোলজার’ এর থেকে বেশী আয় করে তবে মুভির লাভের একটি নির্দিষ্ট শেয়ার ‘রবার্ট ডাউনী’কে দেয়া হবে, এই মর্মে ‘মারভেল’ এর সাথে তার চুক্তি হয়েছে।

cap--z.jpg

এতো গেল একা ‘আয়রন ম্যান’ এর পুরনো খবর। শুধুই কি ‘আয়রন ম্যান’ আর ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ থাকবে এই মুভিতে ? আর এখানেই মুভির আসল চমক ! ‘মারভেল’ ইউনিভার্সের একজন অন্যতম সদস্য হচ্ছে ‘স্পাইডারম্যান’। কিন্তু ‘মারভেল’ কখনো এই চরিত্রটিকে ‘অ্যাভেঞ্জারস’ এ যোগ করতে পারেনি, কারণ এই মুভির স্বত্ব ‘সনি পিকচার্স’ এর কাছে, যারা এই চরিত্রটিকে নিয়ে ‘স্যাম রাইমি’র পরিচালনায় ও ‘টবি ম্যাগুয়্যার’ এর অভিনয়ে ৩টি এবং পরে ‘মার্ক ওয়েব’ এর পরিচালনায় ও ‘অ্যান্ড্রু গারফিল্ড’ এর অভিনয়ে ২টি মুভি বানিয়েছে। ‘সনি’ চেয়েছিল ‘স্পাইডারম্যান’কে নিয়ে ‘মারভেল’ এর মতই একটা বিশাল ইউনিভার্স তৈরী করতে। তাই তারা ‘স্পাইডারম্যান’ এর ৪টি রিবুট মুভি এবং ‘সিনিস্টার সিক্স’ ও ‘ভেনম’ স্পিন অফ মুভি বানানোর প্ল্যান করে। তারা প্ল্যান অনুযায়ী ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান’ ওয়ান ও টু নির্মান করে এবং পার্ট থ্রি ২০১৬ তে ও পার্ট ফোর ২০১৮ তে রিলিজের ঘোষনা দেয়। কিন্তু তাদের এই সব প্ল্যান ওলট-পালট হয়ে যায় যখন ২৫৫ মিলিয়ন বিগ বাজেটের ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান টু’ অপ্রত্যাশিতভাবে ডমেস্টিক বক্স অফিসে (উত্তর আমেরিকা) মাত্র ২০২ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ হয় এবং ‘সনি’ বিশাল লোকশানের মুখে পড়ে। এ কারণে এ সিরিজের পরবর্তী পর্ব গুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে যায়। অতঃপর ‘সনি’ ২০১৪ এর ডিসেম্বরে ‘মারভেল’ এর সাথে চুক্তিতে আসে ও পুনরায় ‘স্যাম রাইমি’র দ্বারস্থ হয়, ‘স্পাইডারম্যান’ এর নতুন করে ট্রিলজী নির্মাণ করে দেবার জন্য। ‘মারভেল’ ‘সনি’র সাথে এই নতুন চুক্তির কিছু কিছু শর্তে বেশ অসন্তুষ্ট হয়, যার মধ্যে অন্যতম শর্ত হচ্ছে ‘স্পাইডারম্যান’ এর স্বত্ব ‘সনি’র কাছেই থাকবে। ফলে তাদের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। পরিশেষে, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে ‘সনি’ ও মারভেল’ স্টুডিও ঘোষনা দেয় যে তারা নতুন করে ‘স্পাইডারম্যান’কে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে ‘মারভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এ এবং ‘স্পাইডারম্যান’ এর প্রথম দেখা মিলবে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা-সিভিল ওয়ার’ এ। তবে এ মুভিতে ‘স্পাইডারম্যান’ এর চরিত্রটি হবে বেশ ছোট, হয়তো পোস্ট ক্রেডিট সিন হিসেবে। এবং পরবর্তিতে ‘সিভিল ওয়ার’ এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই ‘সনি’ মুক্তি দিবে সম্পুর্ণ নতুন ‘স্পাইডারম্যান’ একক মুভি যা যৌথ ভাবে প্রযোজনা করবে ‘মারভেল’ এর প্রেসিডেন্ট ‘কেভিন ফেইজ’ ও ‘সনি’র প্রেসিডেন্ট ‘এমি প্যাসকেল’। এবারের নতুন রিবুট মুভিতে ‘পিটার পার্কার’কে হাই স্কুল স্টুডেন্ট হিসেবেই দেখানো হবে ও ‘পিটার পার্কার’ এর মাকড়শার কামড় খেয়ে ‘স্পাইডারম্যান’ হয়ে ওঠার ঘটনা সম্পুর্ণ বাদ দিয়ে ডাইরেক্ট গল্প এগিয়ে যাবে। বিষয়টা এমন যে ‘স্পাইডারম্যান’ সব সময়ই ‘মারভেল ইউনিভার্স’ এ ছিল, কিন্তু তাকে কখনো দেখা যায়নি, এবার তাকে দেখা যাবে মূল গল্পে ডাইরেক্ট ‘স্পাইডারম্যান’ হিসেবে। ‘বর্তমানে এখন নতুন ‘স্পাইডারম্যান’ এর জন্য নায়ক খোঁজা হচ্ছে। ‘সনি’ পরবর্তিতে ২০১৭ এর পর ‘মারভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এর অংশ হিসেবে ‘সিনিস্টার সিক্স’ মুভি নির্মাণ করবে এবং ‘স্পাইডারম্যান’ মুভি প্রযোজনা, ড্রিস্ট্রিবিউশন সহ সকল স্বত্ব ‘সনি’র আন্ডারেই থাকবে তবে এখন ‘মারভেল’ ‘স্পাইডারম্যান’ ও এর সাথে জড়িত সকল চরিত্রকে নিজেদের ইউনিভার্সে কাজে লাগাতে পারবে। অবশেষে, চুক্তি যতই ‘সনি’র পক্ষে একচেটিয়া হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আশার কথা হচ্ছে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলো।

এতো গেল একা ‘স্পাইডারম্যান’ এর পুরনো খবর। শুধুই কি ‘আয়রন ম্যান’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ও স্বল্প চরিত্রে ‘স্পাইডারম্যান’ থাকবে এই মুভিতে ? আর এখানেই হচ্ছে মুভির আসল চমক ! এ মুভিতে ‘সিভিল ওয়ার’ এগিয়ে নিতে এই তিন চরিত্রের পাশাপাশি থাকবে ‘নাতাশা রোমানফ/ব্ল্যাক উইডো’, ‘ক্লিন্ট বার্টন/হক আই’, ‘স্যাম উইলসন/ফ্যালকন’, ‘জেমস রোডি রোডস/ওয়ার মেশিন’, ‘ওয়ান্ডা মাক্সিমফ’/স্কারলেট উইচ ও ‘এজ অফ উল্ট্রন’ এর নতুন সৃষ্ট চরিত্র ‘ভিশন’। তবে লিস্ট কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এছাড়াও এ মুভিতে ফিরে আসবে ‘উইন্টার সোলজার’ এ ‘স্টিভ রজারস’ এর প্রতিবেশী আন্ডারকভার ‘শিল্ড’ এজেন্ট ‘শ্যারন কার্টার/এজেন্ট থার্টিন’, ‘দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক’ মুভির সেই বদমেজাজী জেনারেল ‘থাডিওস থান্ডারবোল্ট রস’ এবং ‘উইন্টার সোলজার’ মুভির ‘বাকি বারন্স/উইন্টার সোলজার’। ‘উইন্টার সোলজার’ চরিত্রে অভিনয়কারী ‘সেবাস্টিয়ান স্টান’ এর সাথে ‘মারভেল’ এর সর্ব মোট ৯টি মুভির চুক্তি হয়েছে।

এবারের পর্বের ভিলেন হিসেবে দেখা দিবে ‘উইন্টার সোলজার’ এর ‘শিল্ড’ এজেন্ট ‘ব্রক রামলো’কে, যে কিনা এ মুভিতে ফিরে আসবে ভিলেন ‘ক্রসবোনস’ হিসেবে। তবে প্রধান ভিলেন হিসেবে এ মুভিতে আবির্ভুত হবে সুপার ভিলেন ‘ব্যারন হেলমুত জেমো’। এ চরিত্রে দেখা যাবে ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’ ও ‘রাশ’ খ্যাত ‘ড্যানিয়েল ব্রুহল’কে। এদিকে এ মুভির দ্বারা ‘মারভেল’ পরিচয় করিয়ে দিতে যাচ্ছে আরেক সুপারহিরো, আফ্রিকান নেশন ‘ওয়াকান্ডা’ এর শাসক ‘চাল্লা/ব্ল্যাক প্যান্থার’কে। এ চরিত্রে অভিনয় করেছে ‘চ্যাডউইক বোসম্যান’ যার সাথে ‘মারভেল’ এর ৫টি মুভির চুক্তি হয়েছে।

তবে, এত কিছুর পরেও আসল বোমাটা কিন্তু আমি এখনো ফাটাইনি। এখন সময় এসেছে সেটা ফাটানোর। এ মুভিতে উপরোক্ত সকল নতুন ও পুরনো সদস্যদের সাথে যোগ হচ্ছে আরো একটি সদস্য, আর সে হল ‘স্কট ল্যাং/অ্যাান্ট ম্যান’। ‘অ্যান্ট ম্যান’ মুভি রিলিজ পাবে এ বছরের ১৭ জুলাই। এরই মধ্যে এ মুভি নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আর সেই সব আগুনে ঘি ঢেলে ‘মারভেল’ স্টুডিও ঘোষনা দিয়েছে, ‘অ্যান্ট ম্যান’ পুনরায় ফিরে আসবে ‘সিভিল ওয়ার’ এ। আবার সর্ব শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ‘সিভিল ওয়ার’ পাচ্ছে আরো একজন অভিনেতা, আমাদের সবার প্রিয় ‘হবিট’ এর ‘বিলবো ব্যাগিন্স’ ও ‘শার্লক’ এর ‘জন ওয়াটসন’ খ্যাত ‘মার্টিন ফ্রিম্যান’। তবে সে আসলে কি চরিত্রে অভিনয় করছে সেটা এখনো ‘মারভেল’ প্রকাশ করেনি তবে ‘কেভিন ফেইজ’ নিশ্চিত করেছে যে তার করা চরিত্রটি কোন সুপারহিরো চরিত্র নয়।

অবশেষে, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা-উইন্টার সোলজার’ মুভিকে বলা হয়েছিল ‘অ্যাভেঞ্জারস ১.৫। আর এত চরিত্রের সমাবেশের কারণে ‘সিভিল ওয়ার’কে বলা হচ্ছে ‘অ্যাভেঞ্জারস ২.৫। আবার এ মুভির অভিনেতা ‘অ্যান্থনী ম্যাকি’ (‘ফ্যালকন’) আরো এক ধাপ এগিয়ে এ মুভির নামকরণ করেছে ‘অ্যাভেঞ্জারস ৩.৮। এখন আপনারাই বলুন, কেন এই মুভি ২০১৬ সালের সব থেকে বহুল আকাংক্ষিত মুভি হবে না ? এর সব থেকে বড় কারণ হচ্ছে, সর্ব প্রথম এত কিছু গল্প ও কাস্টিং সিলেক্ট হবার আগে ‘মারভেল’ ঘোষনা দেয় যে ‘সিভিল ওয়ার’ মুভি রিলিজ হবে ২০১৬ সালের ৬ মে। অন্যদিকে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান-ডন অফ জাস্টিস’ রিলিজের কথা ছিল ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই, কিন্তু মুভির গল্প ও নির্মাণ আরো বেশী করে জোরদার করার জন্য সময় বাড়িয়ে মুভির রিলিজ ডেট নির্ধারণ করা হয় ২০১৬ সালের ৬ মে। এই খবর পাবার পর আমি ভিষন ভাবে আৎকে উঠেছিলাম এই ভেবে যে যে ‘মারভেল’ ও ‘ডিসি’র দুই বিগ প্রজেক্ট একই দিনে রিলিজ পেলে তো তান্ডব ঘটে যাবে। অতঃপর কিছুদিন পর দেখি ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান-ডন অফ জাস্টিস’ মুভির রিলিজ ডেট পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২৫ মার্চ, শুধু মাত্র ‘সিভিল ওয়ার’ এর সাথে কোন প্রকার বক্স অফিস ওয়ার এড়ানোর জন্য। অথচ তখন মাত্র এটা ঘোষনা হয়েছে যে মুভিতে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’র পাশাপাশি ‘আয়রন ম্যান’ থাকবে। বাকি কাস্টিং ও গল্প তখনো সবার অজানা। আর এতেই ‘সিভিল ওয়ার’ হয়ে গেছে ‘ডিসি’র কাছেও এক মূর্তিমান আতঙ্ক ! যদিও ‘ডন অফ জাস্টিস’ নিয়েও আমার প্রত্যাশার শেষ নেই, বিশেষ করে এই ট্রেলার দেখার পর। তবে আমি খুশি যে দুই মুভি ভিন্ন ভিন্ন ডেটে রিলিজ হচ্ছে, নইলে কে জানে সত্যি সত্যিই না আবার হলিউডে ‘সিভিল ওয়ার’ বেঁধে যেত… !!!

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?