মানুষের চিন্তাধারা

Please log in or register to like posts.
News

“লেবু বেশি চিপলে তেতো হয়ে যায়” বা “দড়িতে বেশি টান দিলে দড়ি ছিড়ে যায়” জাতীয় প্রবাদের সাথে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। আমরা সবাই চাপাচাাপিতে একটু বেশিই ওস্তাদ। রিলেশনের পরে নিজের প্রেমিক/প্রেমিকাকে একান্তই নিজের সম্পত্তি মনে করে থাকি আমরা। ছেলেরা তার প্রেমিকার জন্য সংবিধান দিয়ে দেয়, “ফোনে বেশি কথা বলবা না”… আননোন না্ম্বার রিসিভ করবা না”… কোন ছেলে বন্ধু থাকা যাবে না…ফেসবুক ডিএক্টিভেট করে দিবা.. বা থাকলেও ফেসবুকে চ্যাটিং করবা না…. নিজের ফটো আপলোড করবা না…. ক্লাস শেষ করে বাসায় চলে আসবা, কোথাও ঘুরতে যাবা না… নিজের ফোন সব সময় সাথে রাখবা.. আমি ফোন দেয়া মাত্রই রিসিভ করবা… কখনো যেন ওয়েটিং না পাই….. অমুক জায়গায় যাবে না. হেন করবা না, তেন করবা না… ইত্যাদি আরো কত নিষেধাজ্ঞা।” মেয়েরাও কম না, “স্মোক করবা না.. ড্রিংকস করবা না… মেয়েদের দিকে তাকাবা না.. কোন মেয়ের সাথে কথা বলবা না…. ঘুরতে যাওয়ার কথা চিন্তাও করবা না…অমুক পোলার সাথে মিশবা না.. ব্লা ব্লা ব্লা… ইত্যাদি।….

মানছি এটা অধিক ভালোবাসারই একটা বহিঃপ্রকাশ। তাই অন্য কারো সাথে কথা বলতে দেখলে বা ঘুরতে যেতে দেখলে হিংসা হয়….. আমি চাই না আমার মনের মানুষটি হারিয়ে যাক বা অন্য কারো সাথে চলে যাক। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা মানেই অপরাধের প্রথম ধাপ। আমার ঘনিষ্ট বড়ভাই ‘লিও দা’ বলেন, “ঈশ্বর যদি আদম-হবাকে ‘সেই গাছের’ ফল খেতে নিষেধ না করতেন, তবে কখনোই পাপের সৃষ্টি হতো না”…… এবং ব্যাপারটা সত্যিই…. আমি যদি আমার গার্লফ্রেন্ডকে সব ব্যাপারেই লিমিটেশন দিয়ে দেই তাহলে দুটা সমস্যা হয়-

১। মিথ্যা বলার প্রবণতা বাড়ে
২। মানুষটির আসল রূপ চেনা যায় না…

ধরলাম আমি আমার প্রেমিকাকে ফেসবুকে বসার কথা নিষেধ করে দিলাম বা চ্যাটিং করতে মানা করলাম। সে হয়তো প্রথম প্রথম আমার ভয়ে ফেসবুকে বসবে না.. কিন্তু কয়েকদিন পর অলস সময় কাটাতে ফেসবুকে বসলো বা চ্যাটিং করলো… আমি তা জানতেও পারলাম না.. আমি যদি জিজ্ঞাসা করি তাহলে আমাকে খুশি করার জন্য ব্যাপারটা চেপে যাবে। প্রেমিকা ভাববে, “আমি তো অল্প সময়ের জন্য ফেবু তে বসছিলাম, ও জানতে পারলে অনেক রাগ করবে, না বলাটাই ভালো।” এমনি করে ধীরে ধীরে মিথ্যা বলার প্রবণতা বাড়বে। কিন্তু আমি যদি তাকে নিষেধ না করতাম তবে সে কখনোই আমাকে ভয় পেয়ে কিছু লুকাতো না… সব কিছুই আমার সাথে শেয়ার করতো। আমার প্রেমিকার নিজের একটা জগত থাকতেই পারে…. তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঘুরতে যেতেই পারে…. তার একান্ত ব্যক্তিগত জগতকে তো আমি ছোট করে দিতে পারি না…. সেই অধিকারটা আমার থাকা উচিত নয়। আমি যদি তাকে সত্যিই ভালোবাসি, তবে তার আশেপাশের জগতকেও আমি ভালোবাসতে পারবো।
আর দ্বিতীয় যে ব্যাপারটা তা হল, প্রেম/রিলেশন হল সারাজীবন একসাথে থাকার পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম। এই সময়ে আমরা একে অন্যকে চিনতে পারি.. জানতে পারি… বুঝতে পারি। তাই আমি যদি তাকে একটা নির্দিষ্ট বাউন্ডারির মধ্যে আবদ্ধ করে রাখি তবে কখনোই তার আসল চরিত্র বুঝতে পারবো না। যে সত্যিকারেই আমার মনের মানুষ, তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেও আমার হয়েই থাকবে, আর যে মানুষটি আমার জন্য না, তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখলেও আমার অগোচরে তার নিজস্ব কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
সবশেষে আসল কথা হল, নিজের মধ্যে সততা আর স্বচ্ছতা থাকলে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয় না.. স্বাধীনভাবে যে ভালোবাসাটা আসে, সেটাই সত্যিকারের ভালোবাসা… এর জন্যই কথায় বলে, “ভালোবাসা আর ‘সকালের প্রাকৃতিক ডাক’ ভেতর থেকে আসতে হয়…. চাপাচাপি বা জোর করে কখনোই তা সুসম্পন্ন হয় না।

“লেবু বেশি চিপলে তেতো হয়ে যায়” বা “দড়িতে বেশি টান দিলে দড়ি ছিড়ে যায়” জাতীয় প্রবাদের সাথে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। আমরা সবাই চাপাচাাপিতে একটু বেশিই ওস্তাদ। রিলেশনের পরে নিজের প্রেমিক/প্রেমিকাকে একান্তই নিজের সম্পত্তি মনে করে থাকি আমরা। ছেলেরা তার প্রেমিকার জন্য সংবিধান দিয়ে দেয়, “ফোনে বেশি কথা বলবা না”… আননোন না্ম্বার রিসিভ করবা না”… কোন ছেলে বন্ধু থাকা যাবে না…ফেসবুক ডিএক্টিভেট করে দিবা.. বা থাকলেও ফেসবুকে চ্যাটিং করবা না…. নিজের ফটো আপলোড করবা না…. ক্লাস শেষ করে বাসায় চলে আসবা, কোথাও ঘুরতে যাবা না… নিজের ফোন সব সময় সাথে রাখবা.. আমি ফোন দেয়া মাত্রই রিসিভ করবা… কখনো যেন ওয়েটিং না পাই….. অমুক জায়গায় যাবে না. হেন করবা না, তেন করবা না… ইত্যাদি আরো কত নিষেধাজ্ঞা।” মেয়েরাও কম না, “স্মোক করবা না.. ড্রিংকস করবা না… মেয়েদের দিকে তাকাবা না.. কোন মেয়ের সাথে কথা বলবা না…. ঘুরতে যাওয়ার কথা চিন্তাও করবা না…অমুক পোলার সাথে মিশবা না.. ব্লা ব্লা ব্লা… ইত্যাদি।….

মানছি এটা অধিক ভালোবাসারই একটা বহিঃপ্রকাশ। তাই অন্য কারো সাথে কথা বলতে দেখলে বা ঘুরতে যেতে দেখলে হিংসা হয়….. আমি চাই না আমার মনের মানুষটি হারিয়ে যাক বা অন্য কারো সাথে চলে যাক। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা মানেই অপরাধের প্রথম ধাপ। আমার ঘনিষ্ট বড়ভাই ‘লিও দা’ বলেন, “ঈশ্বর যদি আদম-হবাকে ‘সেই গাছের’ ফল খেতে নিষেধ না করতেন, তবে কখনোই পাপের সৃষ্টি হতো না”…… এবং ব্যাপারটা সত্যিই…. আমি যদি আমার গার্লফ্রেন্ডকে সব ব্যাপারেই লিমিটেশন দিয়ে দেই তাহলে দুটা সমস্যা হয়-

১। মিথ্যা বলার প্রবণতা বাড়ে
২। মানুষটির আসল রূপ চেনা যায় না…

ধরলাম আমি আমার প্রেমিকাকে ফেসবুকে বসার কথা নিষেধ করে দিলাম বা চ্যাটিং করতে মানা করলাম। সে হয়তো প্রথম প্রথম আমার ভয়ে ফেসবুকে বসবে না.. কিন্তু কয়েকদিন পর অলস সময় কাটাতে ফেসবুকে বসলো বা চ্যাটিং করলো… আমি তা জানতেও পারলাম না.. আমি যদি জিজ্ঞাসা করি তাহলে আমাকে খুশি করার জন্য ব্যাপারটা চেপে যাবে। প্রেমিকা ভাববে, “আমি তো অল্প সময়ের জন্য ফেবু তে বসছিলাম, ও জানতে পারলে অনেক রাগ করবে, না বলাটাই ভালো।” এমনি করে ধীরে ধীরে মিথ্যা বলার প্রবণতা বাড়বে। কিন্তু আমি যদি তাকে নিষেধ না করতাম তবে সে কখনোই আমাকে ভয় পেয়ে কিছু লুকাতো না… সব কিছুই আমার সাথে শেয়ার করতো। আমার প্রেমিকার নিজের একটা জগত থাকতেই পারে…. তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঘুরতে যেতেই পারে…. তার একান্ত ব্যক্তিগত জগতকে তো আমি ছোট করে দিতে পারি না…. সেই অধিকারটা আমার থাকা উচিত নয়।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?