পঙ্গু সংগঠনের আরেক নাম জাতিসংঘ

Please log in or register to like posts.
News

১৯৪৫ সালের সালে অক্টোবর মাসে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সনদে অনুসমর্থন দিয়েছিল সদস্য দেশগুলো।
২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ৫ মাস পরের কথা ।তখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ,চীন সহ বিশ্ব ২৯ দেশের নেতারা একটা চুক্তি স্বাক্ষর করেন । যার মধ্যে দিয়ে জন্ম হয়েছিলো জাতিসংঘের। এটা জন্ম হওয়ার মূল্য কারন ছিলো বিশ্বকে যুদ্ধের হাত থেকে  রক্ষা করা । ১৯৪৫ সালের অক্টোবর ২৪ তারিখ জন্ম নিয়েছিলো জাতিসংঘের । জাতিসংঘের জন্ম হওয়ার পর থেকেই জনসাধারন নতুন দিন দেখার আশার থাকতে লাগলো ।  কিন্তু দিন যত যেতে থাকলো আস্তে আস্তে সব পরিষ্কার হতে শুরু হল। জাতিসংঘের ক্ষমতা নাম মাএ ছিলো । জাতিসংঘ কিছুই করতে পারতো না ।কিছু বিষয়ে তারা মাথা ঘামাতে কিছু বিষয়ে পারতো তবে বেশি ভাগ সময় দেখা যে তো অসহায় । জাতিসংঘ শুরু হওয়ার পরেও অনেক যুদ্ধ হয়েছে । জাতিসংঘ থামাতে পারে নি ।
তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা সাহায্য করতে ঠিক যায় বাংলাদেশ পুলিশের মতো। নামিবিয়া, কাম্বোডিয়া মধ্যে, সোমালিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, মোজাম্বিক,
প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া, লাইবেরিয়া, হাইতি, তাজিকিস্তান, পশ্চিম সাহারা, সিয়েরা লিয়ন, কসোভো, জর্জিয়া, পূর্ব তিমুর, কঙ্গো, আইভরি ডি ইভয়ার এবং ইথিওপিয়া মতো আরো
অনেক দেশে তারা শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠায় দেশের শান্তি এবং সাধারন মানুষের উন্নতির জন্য কাজ করে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী পাঁচ পরাশক্তি – চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী সদস্য। এই স্থায়ী সদস্যদের নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশন, নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্তি বা মহাসচিব প্রার্থীর নিয়োগে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এছাড়াও ১০ জন অস্থায়ী সদস্য আছে, যারা নিদিষ্ট অঞ্চল থেকে ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নিরাপত্তা পরিষদের কাজ জাতিসংঘ সনদ দ্বারা সংজ্ঞায়িত, যা কোনো আন্তর্জাতিক শান্তির হুমকি পরিস্থিতির তদন্ত, বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পদ্ধতি সুপারিশ, সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সমুদ্র, বাতাস, ডাক ও রেডিও যোগাযোগ ছিন্ন করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। এমনকি সামরিক আক্রমণের ক্ষমতাও রাখে। নিরাপত্তা পরিষদ সাধারণ পরিষদের নতুন মহাসচিব এবং নতুন সদস্যদেশ অন্তরভুক্তির সুপারিশ করা থাকে। নিরাপত্তা পরিষদ ঐতিহ্যগতভাবে কেবল সামরিক নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে।

বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে কাজ শুরু করে । বর্তমানে জাতিসংঘের ১২ টি দেশে শান্তিমিশনে বাংলাদেশের সৈন্য রয়েছে । বাংলাদেশ এ পর্যন্ত জাতিসংঘের  শান্তি মিশনে ১,১৮,৯৮৫ জন বাংলাদেশী সৈন্য অংশগ্রহণ করেছে । জাতিসংঘের UNIAET মিশনে বাংলাদেশী নারীরা প্রথম অংশগ্রহণ করেন । এসপি মিলি বিশ্বাস বাংলাদেশী নারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন । বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সৈন্য প্রেরণে প্রথম। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ৫৪ টি শান্তি মিশনে অংশ গ্রহণ করেছে । বাংলাদেশ এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ৩৯ টি দেশে শান্তি মিশনে অংশ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তির চল্লিশ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি স্মারক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সংস্থায় দেশটির ইতিহাস এবং ভূমিকার গুরুত্বর্পূণ দিকগুলো তুলে ধরে। ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হয়।মি বান বলছিলেন যে বাংলাদেশ একটা বিকাশমান অর্থনীতি গড়ে তুলেছে এবং সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজিতে গুরুত্বর্পূণ অগ্রগতি লাভ করেছে। মি বান বলছিলেন যে চল্লিশ বছর আগে আমি যে মিতাচার এবং অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা দেখেছি তা এই সাফল্যের পেছনে চালিকাশক্তির কাজ করেছে জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে বাংলাদেশ দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে  যে বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছে আমি বিশেষভাবে তার প্রশংসা করি। হাজার হাজার মানুষের জীবন এখন রক্ষা পাচ্ছে।

জোড় যার মুল্লুক তার , পৃথিবী এখন এ নীতিতে বিশ্বাসী নয়। কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে কোনো দুর্বল রাষ্ট্রের উপর অনর্থক আক্রমণ করে তার সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতে পারবে না। আর নেয়ার চেষ্টা করলেও তার জবাবদিহি করতে হবে যা আমরা ১৯৯০ সালে ইরাক কুয়েত দখলের পরিণতিতে দেখতে পেয়েছি।নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীন। সাধারণ পরিষদ থেকে ১০টি অস্থায়ী সদস্য নিবার্চন করা হয়। বাংলাদেশ দুইবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছে ১৯৭৯-৮০ এবং ২০০০-২০০১ সালে। শত ব্যর্থতার মধ্যে জাতিসংঘ আজ বিশ্বকে যুদ্ধ মুক্ত করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু চেষ্টা শুধু হয়ে  স্থায়ী সদস্য বাহিরের রাষ্ট্র বাহিরে । স্থায়ী সদস্যরা যা খুশি করতে পারে জাতিসংঘ বাধা দিতে পারে না । কারন তাদের অর্থ দিয়ে জাতিসংঘ চলে । যেমন জাতিসংঘ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র অনেক যুদ্ধ করেছে কিন্তু কেউ থামাতে পারেনি । ফিলিস্তিন-ইসরাইল  সমস্যার সমাধান করতে না পারাকে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে শুধু প্রস্তাব গ্রহণ করেই জাতিসংঘ ক্ষান্ত থেকেছে। লেবানন সংকট নিরসনে শুধু শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠন করেই জাতিসংঘ তার দায়িত্ব শেষ করেছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বা করতে পারেনি কারন  ইসরাইল হলো যুক্তরাষ্ট্র বন্ধু দেশ তাই জাতিসংঘ কিছু্ করতে পারে নি ।

বাংলাদেশের মতো কিছু দেশের জন্য জাতিসংঘ উপকারে আসলেও তারচেয়ে বেশি দেশের উপকারে করতে পারেনি জাতিসংঘ । যতদিন না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনকে জাতিসংঘ তার কথা মানতে বাধ্য করতে পারবে। ততদিন জাতিসংঘ একটি পঙ্গু  সংগঠন বলা যায়।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?