Internet Of Things (IOT)

Please log in or register to like posts.
News

ইন্টারনেট অফ থিংস (IOT) কী? 

ইন্টারনেট অফ থিংস বা IOT হলো এমন এক প্রযুক্তি যার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের প্রত্যেকটি বস্তুকে ইন্টারনেট এর আওতায় নিয়ে আসতে পারবো। বস্তুটি যেমন হতে পারে কারো শারীরিক অর্গান যেমন লিভার বা কিডনী , তেমনি হতে পারে সাইকেলের চাকা যা বিল্ট ইন সেন্সর দিয়ে কোন আইপি এড্রেস এর সাথে সংযুক্ত যেখানে সে ডাটা আদান প্রদান করতে পারবে কোন ম্যানুয়াল কন্ট্রোলিং ছাড়াই। এই এম্বেডেড প্রযুক্তি সেই বস্তুকে ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল পরিবেশ এর সাথে এক সম্পর্ক স্থাপন করবে যা বস্তুটিকে সময় উপযোগী যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

কেন IOT এর ব্যাবহার? 

১৯৯৯ সালে  RFID জার্নাল একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে যেখানে বলা হয় – যদি আমাদের কম্পিউটার গুলো সব বস্তুর ব্যাপারে জানতো, তাহলে সেই ডাটা ব্যাবহার করে আমরা অনেক উপকৃত হতে পারতাম। আমাদের অনেক খরচ বেচে যেত এবং আমরা সবকিছুই ট্র্যাক করতে পারতাম, গননা করতে পারতাম। আমরা সহজেই বুঝতাম আমাদের কি পরিবর্তন – পরিশোধন – মেরামত করা লাগবে। আমাদের কম্পিউটারগুলোকে আরো ক্ষমতা দেয়া দরকার যাতে তারা মুহুর্তেই একসাথে জড়ো করতে পারে, যাতে তারা তাদের মতো করে দুনিয়া দেখতে পায়, শুনতে পায় এবং অনুভব করতে পারে।

IOT আমাদের জন্য এই কাজটি করবে। এই প্রযুক্তি কোন ডিভাইস/বস্তুর সামনে উন্মুক্ত করে দিবে এমন এক জগত যেখানে সেগুলো দেখতে পারবে, চিহ্নিত করতে পারবে এবং যে কোন অবস্থা বুঝে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ব্যাবস্থা নিতে পারবে। উদাহারনস্বরুপ – এক ভদ্রমহিলা সেলাই মেশিনে কাজ করছেন। হটাত সমস্যা দেখা দিল, সেই সমস্যাটার উৎস খুজতে কিছু সময় ব্যয় হবার কথা। কিন্তু মেশিনের প্রতিটা গুরুত্বপুর্ন অংশে যদি সেন্সরচিপ লাগানো থাকে তাহলে যেই অংশে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেই অংশ বীপ দেয়া শুরু করবে যাতে মালিক সহজেই বুঝতে পারে কোথায় সমস্যা। সেলাই মেশিন ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্ট থাকার কারনে মালিকের বাসার কাছাকাছি সার্ভিসিং সেন্টার এর নেভিগেশন ও জানিয়ে দেয়া হবে মালিককে। আচ্ছা মালিক সেই ওয়ার্কশপেই কেন যাবে? কারন সেই ওয়ার্কশপ সেলাই মেশিন  প্রস্তুতকারক কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ এমন ভাবে যে সেভাবে এই কোম্পানির এই এরিয়ার বিক্রি হয়া সব মেশিন সার্ভিসিং এর জন্য আসবে এতে তাদের লাভ হবে, আর গ্রাহকদের জন্য নরম্যাল সার্ভিসিং এর চেয়ে কিছু পরিমান মুল্যছাড় এর ব্যাবস্থা থাকবে। এরই সাথে কোম্পানি তে অটো সিগন্যাল পৌছে যাবে তারা পরবর্তিতে সেলাই মেশিনের নস্ট হবার সম্ভাবনা আছে এমন পার্টসগুলা আরো নিখুত ভাবে বানাবে। এতে করে “গ্রাহক রিভিউ” এর মত একটা ব্যাপার সৃষ্টি হবে যার ফলে নতুন কেউ সেই পন্য কেনার ব্যাপারে বাছ বিচার করতে পারবে।

IOT এর ফলপ্রসু হবার সম্ভাবনা কতটুকু? 

ইন্টারনেট অফ থিংস যে কোন ডিভাইসকে নানান ভাবে ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত করতে পারবে। ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্টেড হবার পর যখন তারা নিজেদের ডিজিটাল ভাবে উপস্থাপন করতে পারবে, তখন তারা বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে নিয়ন্ত্রিত হবার ক্ষমতা রাখে। এই সংযোগ ব্যাবস্থা আমাদের বিভিন্ন স্থান থেকে বেশি ডাটা সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। এরই সাথে IOT এর কর্মদক্ষতা বেড়ে যাবে এবং ডাটার নিরাপত্তা জোরদার হবে।

এটি একটি অসাধারন পরিবর্তনশীল শক্তির মত কোম্পানীগুলোকে “ইন্টারনেট অফ থিংস এন্যালিটিক্স”এর সাহায্য তাদের পার্ফরমেন্স কে উন্নত করার জন্য কাজ করবে এবং “ইন্টারনেট অফ থিংস সিকিউরিটি” এর মাধ্যমে একটি গুনগত মান সম্পন্ন ফলাফল দিবে। ইউটিলিটি, তেল ও গ্যাস, বীমা, উৎপাদিত পণ্য, পরিবহন, পরিকাঠামো এবং খুচরা সেক্টরের ব্যবসাগুলি আই ও টি এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে সর্বাত্মক।

IOT কিভাবে সাহায্য করবে? 

“আই ও টি প্লাটফর্ম” ব্যাবহার করে অর্গানাইজেশন গুলো তাদের পণ্যের খরচ কমাতে পারবে , এবং একই সাথে তাদের কাজের প্রক্রিয়াকে করতে পারবে উন্নত। সম্পদের সুষ্ঠ ব্যাবহার করে বেশি পন্য উৎপাদন ও সম্ভব এর মাধ্যমে। ডিভাইস/বস্তু অনেক উন্নত  সেন্সর ব্যাবহার করবে যা তাদের মুহুর্তেই সমস্যার উৎস খুজে করতে সাহায্য করবে এবং রিয়েল-টাইম এন্যালিটিক্স এর মাধ্যমে তাৎক্ষনিক স্মার্ট সমাধান নিতে সাহায্য করবে। তথ্য, প্রক্রিয়াকরণ এবং IOT এর সাথে যুক্ত ডিভাইস এর ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি এবং সংহতির ফলে সৃষ্ট নেটওয়ার্ক এতটাই যুগোপযুগী ও গুরুত্বপুর্ন হবে যেগুলো মানুষ , ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পের জন্য নতুন এক পথচলা হবে।  বর্তমানে আমাদের প্রতিদিনের জীবন অনেক যান্ত্রিক হয়েছে। যান্ত্রিকতার এই যুগে পণ্যের সহজ ব্যাবহার ও পুরো ইউটিলাইজেশনের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন টেকনোলজির উদ্ভব। এর ফলে আমরা আমাদের ব্যাবহার্য প্রত্যেকটি বস্তুর সাথে সবসময় সংযুক্ত থাকতে পারবো। বাসা থেকে বের হইছি, লাইট-ফ্যান-চুলা অফ করিনি। তো সমস্যা কি? ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত আছে বলে আমরা সহজেই বাইরে থেকেও এসব নিয়ন্ত্রন করতে পারবো। বাস এর জন্য অপেক্ষা করছি অনেক্ষন। বাস এর হদিস নাই? মোবাইলের মাধ্যমে আমরা বাসে বর্তমান অবস্থান এবং গতিবেগ পরিমাপ করে গন্তব্যে পৌছার আনুমানিক সময় জানতে পারবো যা করবে আমাদের মোবাইল। IOT এর মাধ্যমে আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠা থেকে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সব যদি প্রতি মুহুর্তে আমাদের হাতের মুঠোয় কন্ট্রোল প্যানলে নিয়ন্ত্রন ও এর ব্যাবহার এর পুর্ন ফল ভোগ করতে পারি যা আমাদের জীবন কে আরো সহজ ও সুন্দর করে তুলবে।

 

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?