ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপিং- পর্ব ১ (ইন্ট্রোডাকশন)

Please log in or register to like posts.
News

ওয়েবসাইট শব্দটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। www.google.com, www.facebook.com এগুলো সব গুলোই ওয়েব সাইট। যারা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে অনেক আগ্রহী তারা ওয়েব ডিজাইনিং এবং ওয়েব ডেভেলপিং সম্পর্কে কম বেশি অনেক কিছু জানেন। অনেকে আবার ওয়েব ডিজাইনিং এবং ওয়েব ডেভেলপিং এর মাঝে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। এ পর্বে আমি ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপিং সম্পর্কে খুঁটিনাটি বেসিক ধারণা তুলে ধরব। বিষয়গুলো আমি আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরবো। আমি ৪টি খন্ডে ভাগ করেছি লেখাগুলোকে।  ইন্ট্রোডাকশন, ওয়েব ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস। এই পর্বটি হচ্ছে ইন্ট্রোডাকশন।

প্রথমে বুঝতে হবে ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপিং কি?

ওয়েব ডিজাইন

ওয়েব ডিজাইনারের কাজ হচ্ছে ওয়েব সাইট ডিজাইন করা। তার কাজ হচ্ছে ওয়েব সাইটের যাবতীয় সৌন্দর্য আরো নতুন রূপে বর্ধিত করা। ওয়েব ডিজাইন শেখা অত্যন্ত সহজ আপনি ইচ্ছা করলে মাত্র ২-৩ মাসের মধ্যে একজন ওয়েব ডিজাইনার হতে পারবেন । ওয়েব ডিজাইনারের মুল কাজ একটা সাইটের জন্য টেমপ্লেট বানানো, এখানে কোন এপ্লিকেশন থাকবেনা।যেমন লগিন সিস্টেম, নিউজলেটার সাইনআপ, পেজিনেশন, ফাইল আপলোড করে ডেটাবেসে সেভ করা, ইমেজ ম্যানিপুলেশন, যদি সাইটে বিজ্ঞাপন থাকে তাহলে প্রতিবার পেজ লোড হওয়ার সময় বিজ্ঞাপনের পরিবর্তন এগুলি এপ্লিকেশন, ওয়েব এপ্লিকেশন।এসব তৈরী করতে হয় প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়ে। ওয়েব ডিজাইনার হতে হলে আপনাকে (X)HTML এবং CSS এর পাশাপাশি Basic jQuery, JavaScript,  PHP শিখতে পারেন । নানা রকম Framework যেমন,  Bootstrap, Css Less Framework ইত্যাদি । এছাড়া, আপনাকে ফটোশপ এর কাজ জানতে হবে । কেননা, আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার হন তাহলে আপনাকে অবশ্যই সাইট এর ব্যানার, পোষ্টার এবং বিভিন্ন ধরণের বাটন তৈরি করতে হবে ।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

ওয়েবসাইটের বেসিক অবয়ব তৈরি করা হয়েছে ডিজাইন দিয়ে কিন্তু তার কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। কোন অর্ডার না করলে কোন ভাবেই কাজ করতে পারবেনা। এটাই হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ হচ্ছে রেজিষ্টেশন করা, ওর্ডার করা, নতুন তথ্য আপডেট করা। এই ধরনের কাজ গুলো করার জন্য বিভিন্ন সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনি যদি নিজেকে একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসাবে তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট ধাপে বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে ওয়েব সাইট এর জন্য অ্যাপ্লিকেশন। এখানে আপনাকে কোডিং এর মাধ্যমে নানা ধরণের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে হবে ।  আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপার হতে চান তাহলে ধৈর্য, পরিশ্রম ও মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য । ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে অনেক সময় প্রয়োজন । ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে আপনাকে  HTML, CSS, jQuery, JavaScript, PHP, MySQL, Java, ইত্যাদি CMS সম্পর্কে ভালো জানতে হবে । এছাড়া Server related যেমনঃ ASP, .NET, AJAX, ইত্যাদি জানতে হবে

যদিও ওনেক বেশি কিছু মনে হচ্ছে কিন্তু আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে ২ মাস এ সব বিষয় নিয়ে কাজ করেন তাহলে খুব সহজেই এ ব্যবপার গুলো কাভার করতে পারবেন। একজন ভালোমানের ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই লজিকাল ও আন্যালাইসিস করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়াও ধাপে ধাপে কাজ করার বিষয়টা বুঝতে  হবে। বিভিন্ন ফ্রিল্যন্সিও সাইটে এর উপর প্রচুর কাজ থাকে। যারা ওয়েব ডেভেলপিং শিখে এবং ভালো মানের কাজ করতে পারে তাদের ইন্টারনেটে কাজ করার সুযোগের অভাব নেই। তারা অনেক কাজ পেতে পারে। কিন্তু এর জন্য যে পরিশ্রমের মাত্রা অনেক বেশি তা বোঝাই যাচ্ছে।

ধরুন একটি গাড়ি বানাতে হবে । এখন একজন গাড়িটি দেখতে কেমন হবে, উচ্চতা, প্রস্থ, রং, ইত্যাদি ঠিক করবে । এবং সে অনুযায়ী গাড়ি বানাবে । এখন যে গাড়ি ডিজাইন করলো এবং বানালো সে হচ্ছে ওয়েব ডিজাইনার এবং এই গাড়ি ডিজাইন করে বানানোটা ওয়েব ডিজাইন ।

আরেকজন গাড়িতে ইঞ্জিন লাগিয়ে গাড়ির সব তার জোড়া দিয়ে ইঞ্জিন, লাইট ইত্যাদি ঠিক করে গাড়িটিকে চলার উপযোগী করে তুল্ল । গাড়িটি কিভাবে চলবে, কি চাপলে কি কাজ করবে । কোন দিকে ঘুরালে কোন দিকে ঘুরবে । ইত্যাদি সব ঠিক করলেন তিনি । এক্ষেত্রে তিনি হচ্ছেন ওয়েব ডেভেলপার । আর এই গাড়িতে প্রাণ দেয়াটাই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ।

 

অনেকেই প্রশ্ন করেন “কিভাবে শিখবো? কোথায় শিখবো? কোথা থেকে শুরু করবো?” ইত্যাদি । এটা স্বাভাবিক, এটা প্রায় সবার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে ।প্রথমত আপনাকে জানতে হবে আপনি যেটা শিখতে চাচ্ছেন সেটা প্রফেশনাল কাজ। কম্পিউটারের গেম খেলার মত কাজ না। তবে গেম তৈরি করার মত কাজ। কাজেই সময় এবং শ্রম যদি দিতে চান তবে আজই আপনি শুরু  করে দিতে পারবেন।

এখন অনেকেই মাথা ঘামাতে পারেন যে এতো কষ্ট করে শিখবো টাকা কতোই আর পাবো!

এর উত্তর হচ্ছে একজন ওয়েব ডিজাইনার এর গড় বেতন ৭৭,০০০ ডলার । সর্বনিম্ন বেতন ৪০,০০০ডলার এবং সর্বোচ্চ বেতন ৮৫,০০০ ডলার ।

কিছু উচ্চ বেতন প্রদানকারী দেশঃ

Philadelphia, PA: $79,717

San Francisco, CA: $79,551

New York, NY: $77,475

Predicted_Job_Growth_2018.jpg

 

আমাদের দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে বেশির ভাগ লোকজন কিভাবে আপওয়ার্ক নেটওয়ার্কে একাউন্ট খুলতে হবে, কিভাবে কাজ পাওয়া যেতে পারে এসব কৌশল শিখতে তৎপর অথচ কাজ তেমন একটা শেখেনি। মার্কেটপ্লেস গুলিতে একাউন্ট খোলা ফেইসবুকের মতই সহজ এরপর কয়েকটি পরীক্ষা দিয়ে প্রোফাইল সমৃদ্ধ করতে পারেন। যেকোন বিড করার (যেমন আপওয়ার্ক এ “Apply to this Job”) সময় কভার লেটার তথা আবেদনটি একটু আকর্ষনীয় করে লেখা উচিৎ। ভাল কভার লেটারের নমুনা ঐ সাইটগুলিতেই পাবেন। এগুলি খুবই অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পানির মত সহজ। এগুলি নিয়ে চিন্তা না করে আগে টেকনিকালি এক্সপার্ট হউন।

এ পর্বে কিছু বেসিক জিনিস নিয়ে আলোচনা করেছি। পরের পর্বে আরো বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হবে।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Who liked your post?